‘SIR-এ আপত্তি নেই, করুক। কিন্তু আগে লোকসভা ভেঙে দিক‘, মঙ্গলবার দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় এই সুরেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা SIR করতে হলে সংসদ ভেঙে দিয়ে দেশজুড়ে তা করতে হবে, জোরালো দাবি তুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, গত বছর যে ভোটার তালিকার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সাংসদরা নির্বাচিত হলেন, সেই ভোটার তালিকা নিয়ে নির্বাচন কমিশন যদি প্রশ্ন তোলে, তা হলে গত বছরের লোকসভা ভোটও প্রশ্নের মুখে পড়ে। এই অবস্থায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR করতে হলে, আগে নির্বাচিত সংসদ ভেঙে দিতে হবে। তার পরে নতুন করে ভোট হবে। একই সঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেকের কড়া বার্তা, ‘বাংলার একজন যোগ্য ভোটারও যদি বাদ পড়েন, তা হলে এক লক্ষ মানুষ নিয়ে গিয়ে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করা হবে।’
এদিন ফের দলীয় সাংসদদের সঙ্গে দিল্লিতে মধ্যাহ্নভোজের বৈঠকে যোগ দেবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, নয়াদিল্লির পার্টি অফিসে হবে বৈঠক। থাকবেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। আর সেই বৈঠকে যোগদানের আগে অভিষেকের মুখে সোমের প্রতিবাদের কথা। এদিন সাংসদ বলেন, “আপনারা দেখেছেন গতকালের মিছিল শান্তিপূর্ণ ছিল।
লোকসভা, রাজ্যসভা মিলিয়ে মোট ৩০০ জন জনপ্রতিনিধি ছিলেন। এতদিন পরেও আমাদের কেন ডিজিটাল ভোটার লিস্ট দেওয়া হবে না? কেন জোর করে এসআইআর করা হবে? এই সকল প্রশ্ন নিয়েই কমিশনের সদর দফতরে মিছিল করেন বিভিন্ন বিরোধী দলের সাংসদরা। কিন্তু ওদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পুলিশের বর্বরতা, অতিসক্রিয়তা মানুষ দেখেছেন। আমরা যখন কেন্দ্র্রীয় বঞ্চনা নিয়ে প্রতিবাদ করেছিলাম তখনও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পুলিশ একই ভাবে মিছিলে যোগদানকারীদের উপর চড়াও হয়েছিল। নিগ্রহ করেছিল।
এরপরেই ‘লোকসভা ভেঙে দেওয়ার‘ প্রসঙ্গ শোনা যায় অভিষেকের মুখে। সাংসদ বলেন, “কমিশনের সব দাবি যদি মেনেনি, তা হলে বলতে হবে, এই ভোটার লিস্টের ভিত্তিতেই দেশে লোকসভা নির্বাচন হয়েছিল। এই ভোটার লিস্টের ভিত্তিতেই দেশে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। তা হলে ওনারা সবার প্রথমে পদত্যাগ করুক।
এই তালিকার ভিত্তিতেই বিজেপি মাস ছয়েক আগে দু–চারটি রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে। ওখানে পদত্যাগ করানো হোক। আমরাও পদত্যাগ করব। লোকসভা ভেঙে দিক। তারপর সারাদেশে SIR করাক। নতুন তালিকায় আবার নির্বাচন হোক। আপনারা দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন।
এদিন কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আপনি নির্বাচিত হয়েছেন, আপনার ভোটার লিস্টে গরমিল নেই। অথচ আমি নির্বাচিত হয়েছি, আমার ভোটার লিস্টে গরমিল রয়েছে, এটা তো হতে পারে না। এক যাত্রায় পৃথক ফল হতে পারে না।’
এর পরেই মোদী সরকারকে চ্যালেঞ্জের সুরে অভিষেক বলেন, ‘বিজেপি নেতাদের বা এনডিএ শরিকদের বলব, আপনারা শুরু করুন। তৃণমূলের যত জনপ্রতিনিধি রয়েছেন বা বিরোধী রাজনৈতিক দল কংগ্রেস, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টির সব সাংসদ পদত্যাগ করবেন। লোকসভা ডিজ়লভ করে দিন। তার পরে আপনারা SIR করুন। লোকসভা ভেঙে দিয়ে সারা দেশে SIR হোক।’
অভিষেকের মতে, বিজেপি বা এনডিএ সরকারের লক্ষ্য যদি ভুয়ো ভোটার বাদ দেওয়াই হয়, তা হলে সবার আগে লোকসভা ভেঙে দেওয়া উচিত। তার পরে উত্তরপ্রদেশ, বিহার, বাংলা, তামিলনাড়ু, পাঞ্জাব, ঝাড়খণ্ড, কেরালা সর্বত্র SIR হোক। অভিষেক জানান, যে সব রাজ্যে বিজেপির সরকার, সেই সব রাজ্য বাদ দিয়ে বাংলায় শুধু SIR হবে, তা কোনও মতেই তৃণমূল মেনে নেবে না।
পাল্টা অভিষেকের ইস্তফা প্রসঙ্গের পাল্টা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের দাবি, “২০০২-০৩ সালে SIR-এ প্রায় ২০ লক্ষের বেশি নাম বাদ গিয়েছিল। সেই সময় বা তার আগে যে সরকার নির্বাচিত হয়েছিল, তা হলে তাদের ফেলে দেওয়া উচিত ছিল।
বিশেষ ও নিবিড় ভোটার পরিমার্জন ভারতে বছর বছর ধরে হয়ে আসছে। এটা প্রথম নয়। এর আগেও বহুবার হয়েছে। ভারত স্বাধীনতার পর কোনও এনআরসি রেজিস্টার তৈরি করা উচিত ছিল। কিন্তু সেটা হয়নি। তাই সময় মতো SIR হয়।”
অভিষেক লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা হওয়ার পরেই নতুন উদ্যমে দল। সোমবার গোটা দেশ সেই ছবি দেখেছে। SIR-এর বিরোধিতায় তৃণমূল সাংসদরা যে ভাবে রাজধানীতে বিক্ষোভ, প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন, তা দিনভর শিরোনামে থেকেছে। সাংসদদের উপরে দিল্লি পুলিশ অত্যাচার করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এদিন দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে মহিলা সাংসদদের উপর নিগ্রহের অভিযোগ তোলেন অভিষেক। তাঁর দাবি, গতকালের প্রতিবাদ মিছিল পুলিশ মহিলাদের উপর অত্যাচার চালিয়েছে। এমনকি, কমিশন বিজেপির ‘কৃতদাস’ হয়ে গিয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর কথায়,“সাংসদদের আটক করে থানায় বসিয়ে রাখল। ওরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। মানুষের প্রশ্ন নিয়ে গিয়েছিল। কমিশন তো নিরপেক্ষ, ওরা কেন উত্তর দিচ্ছে না? বিজেপি সব প্রতিষ্ঠানগুলোকে কৃতদাস করে দিয়েছে।” পাশাপাশি, আগের মতোই বাংলায় SIR-এ একজনের নাম বাদ গেলে এক লক্ষ লোক নিয়ে কমিশন ঘেরাওয়ের ডাক দেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।



