

দেশের সময় , নদিয়া,শিলিন্দা: আলোর উৎসব দীপাবলির আনন্দে মাতোয়ারা বাংলা। নদিয়ার শিলিন্দার বিবেকানন্দ সংঘ ও পাঠাগার এর কালীপুজো এবার আরও জমজমাট। রঙিন উৎসবে উন্মাদনার জোয়ার এই পুজো মণ্ডপ ঘিরে।

প্রতিবারের মতো এবারেও জমজমাট শিলিন্দা বিবেকানন্দ সংঘ ও পাঠাগার – এর কালীপুজো । নদিয়া জেলার এই প্রান্তে কালীপুজোকে কেন্দ্র করেই অভূতপূর্ব উন্মদনার জোয়ার বয়ে যায় টানা ক’দিন ধরে। আলোর উৎসবের অনাবিল আনন্দে মেতে ওঠে আট থেকে ৮০। এবারও তার অন্যথা হয়নি। নজরকাড়া ‘এক সে বড় কর এক’ পুজোমণ্ডপ আর অপূর্ব সব প্রতিমা নজর কাড়ছে শিলিন্দার অলিগলিতে। একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার মরিয়া চ্যালেঞ্জ শিলিন্দা গ্রামের তাবড় পুজো কমিটিগুলির। তবে এবারও থিমের দৌড়ে দুরন্ত টক্করে বাজিমাত করেছে শিলিন্দা বিবেকানন্দ সংঘ ও পাঠাগার ~এর কালী পুজো । শনিবার মহা ধুমধামের সঙ্গে পুজো মন্ডপের উদ্বোধন হতেই পুণ্যার্থীদের ভিড় উপচে পড়ছে প্রতিমা পরিদর্শনে ।

নদিয়ার কালীপুজো মানেই শিলিন্দার ঠাকুর দেখা! বস্তুত, দুর্গাপুজোয় শহরতলি ও গ্রামের মানুষের ভিড় কলকাতামুখী হলেও, কালীপুজোয় কিন্তু ছবিটা একটু বদলে যায়। শিলিন্দা কালীপুজোর জন্য বিখ্যাত। একের পর এক ক্লাব ও পুজো কমিটিগুলি বিগ বাজেটের পুজো আয়োজন করে। এ বছরও সেই ধারা অব্যাহত এখানে ।

ক্লাব সদস্যদের কথায়,গ্রামের পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা মাথায় রেখে এবছরও দুর্গাপূজার আগেই কালী পুজোর খুঁটি পুজো হয়েছে নদীয়ার শিলিন্দা বিবেকানন্দ সংঘ ও পাঠাগারে। শ্যামা মায়ের আরাধনা একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে শিলিন্দা গ্রামের কালীপুজোয় । এই গ্রামের শ্রমিকরা যারা কাজের জন্য শহরে বা অন্যান্য রাজ্যে গিয়েছেন, তারা সকলে একত্রিত হন কালী পুজোর দিন এবং পূজার সূচনা করেন। এটি তাদের শিকড়ের সাথে সংযোগ স্থাপন এবং ঐতিহ্যকে ধরে রাখার একটি প্রচেষ্টা। দেখুন ভিডিও

ক্লাব এর প্রাক্তন সম্পাদক কমল সেন বলেন , গ্রামের পরিযায়ী শ্রমিকরা এই পুজোর সময়ে বাড়ি ফেরেন, তারা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং তারা এই সময় মিলিত হন। এটি তাদের জন্য একটি মিলনমেলা এবং সংস্কৃতির সাথে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ। এই অনুষ্ঠানে, শ্রমিকরা তাদের পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে সময় কাটান, গল্প করেন এবং পূজার আনন্দে মেতে ওঠেন। এটি তাদের শহর এবং গ্রামের মধ্যে একটি সেতু তৈরি করে, যেখানে তারা তাদের শিকড় এবং ঐতিহ্যকে অনুভব করতে পারে।

ক্লাব সম্পাদক সুভাষ সরকার বলেন , এই বছর তাদের পুজো ৪২ তম বর্ষে পদার্পণ করল এবং ৪২ ফুট উচ্চতার তৈরী প্রতিমা এবার পুজিত হল । আমেরিকার লাস ভেগাস স্পেয়াড় -এর আদলে তৈরি হয়েছে এবারের মন্ডপ । এই পুজোটি গ্রামবাসিদের মধ্যে একতা এবং সম্প্রদায়ের অনুভূতি তৈরি করে, যা তাদের শহর এবং গ্রামের মধ্যে দূরত্ব কমাতে সাহায্য করে। এটি তাদের নিজেদের শিকড়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে উৎসাহিত করে।
৪২ বছর ধরে নদিয়া জেলা তথা গোটা রাজ্যে সাড়া ফেলে দিয়েছে শিলিন্দা বিবেকানন্দ সংঘ ও পাঠাগার এর কালীপুজো।




