‘ইউসিসি কার্যকর হবেই’, ২ অগস্ট মন্ত্রিসভায় খসড়া আনছেন মুখ্যমন্ত্রী
deshersamay

রাজ্যে দীর্ঘপ্রত্যাশিত ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’ বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) সংক্রান্ত বিল এখনই পেশ না হলেও সোমবার এ বিষয়ে বিবৃতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন বিধানসভার কক্ষে দাঁড়িয়ে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেন, পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এবার থেকে সকলের জন্য একটিই সাধারণ আইন বলবৎ হবে, ধর্মের ভিত্তিতে আলাদা আলাদা আইনের দিন শেষ হতে চলেছে। এই বিল পাসের বিষয়ে তাঁদের সরকার সম্পূর্ণ সংকল্পবদ্ধ।

আগামী ২ তারিখ ক্যাবিনেটে খসড়া, তিন রাজ্যের আইনকে মডেল করার ভাবনা
বিরোধী বেঞ্চের তীব্র হইহট্টগোলের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁদের দলের পথপ্রদর্শক শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শকে সামনে রেখেই এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করা হচ্ছে। বিলের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “আপনারা বিচলিত হবেন না। যদি কোনও আপত্তি থাকে, তবে তা জানানোর সুনির্দিষ্ট জায়গা রয়েছে। আগামী ২ তারিখে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাবিত বিলের খসড়া অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই বিলটি একেবারে শূন্য থেকে তৈরি হচ্ছে না। মূলত তিনটি রাজ্যের সফল মডেলকে সামনে রেখে এর আইনি রূপরেখা সাজানো হয়েছে, উত্তরাখণ্ড ইউসিসি

অ্যাক্ট ২০২৪, আসাম ইউসিসি বিল ২০২৬, গুজরাত ইউসিসি বিল ২০২৬
বিলের আওতার বাইরে আদিবাসী, কুড়মি ও মূলবাসীরা
উত্তরাখণ্ড বা আসামের মতোই পশ্চিমবঙ্গের বিলটিতেও জনজাতিদের আবেগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, রাজ্যের প্রাচীন জনজাতিদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রাখতে বেশ কিছু সম্প্রদায়কে এই প্রস্তাবিত আইনের আওতার বাইরে রাখা হচ্ছে। মূলত আদিবাসী, কুড়মি এবং মূলবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ এই অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পরিধির বাইরে থাকবেন।

জাস্টিস রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে কমিটি
আইনটি প্রণয়নের আগে রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের চেয়ারপার্সনশিপে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্য সরকার। এই কমিটির গঠনশৈলী হবে,
চেয়ারপার্সন: জাস্টিস রঞ্জনা দেশাই (অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্ট)
সদস্যবৃন্দ:
একজন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস (IAS) অফিসার, একজন আইনি বিশেষজ্ঞ, একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং একজন সমাজকর্মী।

সদস্য সচিব:
সাধারণ প্রশাসন দফতরের (GAD) একজন অতিরিক্ত সচিব (Additional Secretary)।
টাস্ক ফোর্সের মূল কাজ
এই কমিটিকে রাজ্যের প্রচলিত বিভিন্ন পার্সোনাল ও ফ্যামিলি ল’ বা পারিবারিক আইনগুলির ওপর একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ ও বিজ্ঞানসম্মত সমীক্ষা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মূলত বিবাহ (Marriage), বিবাহবিচ্ছেদ (Divorce), খোরপোশ (Maintenance), উত্তরাধিকার ও সম্পত্তি বণ্টন (Succession), দত্তক নেওয়া (Adoption) এবং লিভ-ইন রিলেশনশিপ (Live-in Relationship)-সহ মোট ৭ থেকে ৯টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর সমীক্ষা চালাবে এই টাস্ক ফোর্স।
‘ক্রান্তির মাস’ আগস্টেই কার্যকর হবে ইউসিসি
মুখ্যমন্ত্রী হাউসের সামনে আশ্বাস দিয়ে জানান, এই কমিটিকে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য মাত্র চার সপ্তাহের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। আগামী আগস্টের ‘ক্রান্তি মাসে’ কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশ হাতে পাওয়ার পরেই বিধানসভায় ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল’ পেশ করা হবে এবং তা দ্রুত সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর করা হবে।

বিরোধী বিধায়কদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের যদি কোনও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা বক্তব্য থাকে, তবে তা আপনারা সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা দেশাই কমিটির কাছে লিখিতভাবে জমা দিতে পারেন। কিন্তু মনে রাখবেন, আমরা আমাদের নির্বাচনী সংকল্পপত্রে লিখেছিলাম যে বাংলায় ইউসিসি কার্যকর হবেই, আর আমরা সেই সংকল্প পূরণ করতে চলেছি। কার্যকর হবে হবে হবে।”
