I-PAC ED Raid: ‘ইডিকে দিয়ে ডাকাতি’, অভিযোগ মমতার, ‘সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার করে ফাইল ছিনতাই’, হাইকোর্টের দ্বারস্থ ইডি

0
30

আইপ্যাকের অফিসে  তল্লাশির নামে ইডিকে ব্যবহার করে বিজেপি তৃণমূলের নির্বাচনী নথি  ‘চুরি’ করেছে, এমনই গুরুতর অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের অফিসের সামনে দাঁড়িয়েই তিনি দলের পরবর্তী আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইডির এই অভিযানের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেল চারটে থেকে রাজ্যের ব্লকে ব্লকে মিছিল করবে তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁর কথায়, “যেভাবে ইডিকে দিয়ে বিজেপি ডাকাতি করেছে, তার প্রতিবাদেই আজ বিকেলে আমাদের কর্মীরা পথে নামবেন।”

মমতার অভিযোগ, ভোর ছ’টা থেকে এই অভিযান শুরু করা হয়, এমন সময়ে যখন অফিসে প্রায় কেউই ছিলেন না। “ইলেকশন আর এসআইআর সংক্রান্ত আমাদের সমস্ত রাজনৈতিক ডেটা ওরা চুরি করেছে। এটা একটা অপরাধ। আইপ্যাক কোনও প্রাইভেট অর্গানাইজেশন নয়, এটা তৃণমূলের অথরাইজড টিম। সেই টিমের কাজ থেকে সব কাগজ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। টেবিল ফাঁকা করে দিয়েছে। আবার নতুন করে সব করতে গেলে ইলেকশনই পেরিয়ে যাবে,” বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “আপনাদের অফিসে যদি আমরা এ ভাবে ঢুকি, তা হলে আপনারা কি মেনে নেবেন?” মমতার দাবি, যদি কোনও তথ্যের প্রয়োজন থাকত, তবে ইডি বা আয়কর দফতর থেকেই তা সংগ্রহ করা যেত। তাঁর কটাক্ষ, “বিজেপিই দেশের সবচেয়ে বড় ডাকাত।”

“কয়লা পাচার মামলায় পশ্চিমবঙ্গ , দিল্লি-সহ ১০ জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। এই তল্লাশির সঙ্গে ভোটের কোনও সম্পর্ক নেই।” আইপ্যাকের অফিসে অভিযান  নিয়ে বিবৃতি দিল ইডি । কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিল, “কোনও রাজনৈতিক কার্যালয়কে টার্গেট করা হয়নি।”

বৃহস্পতিবার দুপুরে সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতরে ইডির তল্লাশি অভিযান চলছিল । সংস্থার প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতে যেমন নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, তেমনই আইপ্যাকের অফিস থেকেও একাধিক ফাইলের বান্ডিল নিয়ে বেরোতে দেখা যায় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের ।

পরে সেখান থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  অভিযোগ করেন, ভোটের কৌশল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, দলের কাগজপত্র ও তথ্য লুট করা হয়েছে, কারণ রাজনৈতিক লড়াইয়ে নামার সাহস তাদের নেই। হার্ড ডিস্ক, আর্থিক নথি এবং দলের প্রয়োজনীয় কাগজ বাজেয়াপ্ত করার কথাও তিনি জানান। পাশাপাশি সরাসরি বিজেপির দিকে আঙুল তুলে মমতা বলেন, তাঁর দেখা মতে বিজেপির মতো বড় ‘ডাকাত’ আর কেউ নেই। ইডির এই হানাকে দুর্ভাগ্যজনক বলেও মন্তব্য করেন মমতা।

যদিও বেলা গড়াতেই ইডি বিবৃতি দিয়ে জানায়, “সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তি অবৈধভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ফাইল ছিনিয়ে নিয়েছেন। দু’টি জায়গায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনুপ্রবেশ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই আমাদের এই তল্লাশি অভিযান চলছিল।”

বস্তুত, এই বিবৃতি সামনে আসার পরপরই আইপ্যাকের তল্লাশিতে ‘বাধা’ দেওয়ার অভিযোগ তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন। আগামী কাল শুনানির সম্ভবনা রয়েছে।

এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লাউডন স্ট্রিটে যাওয়াকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অনৈতিক। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, তদন্ত বা ইডি-র তল্লাশি সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চান না।

শুভেন্দু জানান, তদন্তের বিষয়বস্তু নিয়ে তিনি কথা বলবেন না, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সাংবিধানিক সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ আগেও উঠেছে। তাঁর দাবি, ২০২১ সালে ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও মদন মিত্রকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে মমতা সিবিআইয়ের নিজাম প্যালেস দফতরের সামনে ধর্নায় বসেছিলেন। একইভাবে রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই তল্লাশির সময়েও তিনি তৎকালীন পুলিশ কমিশনারকে সঙ্গে নিয়ে ধর্না দিয়েছিলেন।

Previous articleহাতে সবুজ ফাইল, প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে বেরিয়ে ইডি হানা নিয়ে আক্রমণ মমতার
Next articleটানা ১২ ঘন্টা তল্লাশি শেষে আইপ্যাকের অফিস ছাড়ল ইডি, আধিকারিকদের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ তৃণমূলের ,উঠল ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here