Desher Samay
প্রচ্ছদকলকাতাজেলাপশ্চিমবঙ্গউত্তরবঙ্গদেশবাংলাদেশআন্তর্জাতিকই-পেপারফটো গ্যালারিসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউব

fbফেসবুকে ফেক আইডি: প্রবণতা, উদ্দেশ্য ও সতর্কতা নিয়ে দেশের সময়-এ লিখলেন প্রাক্তন ডি এস পি ও আইনজীবী শ্রী অনিল কুমার রায়

deshersamay

Share article:
শ্রী অনিল কুমার রায়, প্রাক্তন ডি এস পি ও আইনজীবী

ফেসবুকে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের নাম, ছবি বা পারিবারিক ফটো ব্যবহার করে ফেক আইডি তৈরি করা আজকাল একটি সাধারণ প্রবণতা হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে বলা যায়—

🔹 ফেক ফেসবুক প্রোফাইল তৈরির প্রবণতা

সমাজে পরিচিত, জনপ্রিয় বা সম্মানিত ব্যক্তির নাম ও ছবি ব্যবহার করে ভুয়া আইডি খোলা হয়।

অনেক সময় সরকারি আধিকারিক, জনপ্রিয় অবসরপ্রাপ্ত সরকারি আধিকারিক, রাজনৈতিক, সামাজিক বা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের পরিচয় ভুয়া প্রোফাইলের মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়।

সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জনের জন্য তাঁদের পরিবার বা ব্যক্তিগত ছবিও ব্যবহার করা হয়।

🔹 উদ্দেশ্য

  1. অর্থ আত্মসাৎ – ভুয়া আইডি দিয়ে পরিচিতদের কাছে টাকা ধার বা সাহায্য চাওয়া।অনেক ক্ষেত্রে মেসেঞ্জার এ আপনার ফোন নম্বর সংগ্রহ করে প্রতারনায় যুক্ত অন্য অপরাধী সস্তায় ফার্নিচার বিক্রি বা অন্য উপায়ে প্রলোভন দেখিয়ে অনলাইনে মুল্য বাবদ আগাম টাকা পাঠাতে বাধ্য করে।
  2. মানহানি – জনপ্রিয় ব্যক্তিকে ছোট করা বা তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করা।
  3. ভুয়া প্রচার – রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থে মিথ্যা তথ্য প্রচার করা।
  4. সাইবার অপরাধ – প্রতারণা, হ্যাকিং, ব্ল্যাকমেইল ইত্যাদি উদ্দেশ্যে।

🔹 কুফল

জনপ্রিয় ব্যক্তির সামাজিক ভাবমূর্তি নষ্ট হয়।

সাধারণ মানুষ প্রতারিত হয় ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হতে পারে।

ভুল তথ্য ছড়িয়ে সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।

বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট তৈরি হয় এবং সামাজিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

✅ ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট গ্রহণের আগে যাচাই করার উপায়

  1. প্রোফাইল ছবি ও কভার ছবি দেখুন – প্রোফাইল যদি শুধু একটি ছবি দিয়ে তৈরি হয় বা ছবিগুলি স্পষ্টভাবে কপি মনে হয়, সন্দেহজনক ধরে নিতে হবে।
  2. ফ্রেন্ড লিস্ট চেক করুন – ভুয়া আইডির সাধারণত বন্ধু সংখ্যা কম হয় বা একই ধরণের অচেনা লোক থাকে।
  3. অ্যাকাউন্ট তৈরি হওয়ার তারিখ দেখুন – একেবারে নতুন প্রোফাইল থেকে এলে সতর্ক হোন।
  4. পোস্ট ও কার্যকলাপ যাচাই করুন – নিয়মিত পোস্ট নেই বা অস্বাভাবিক কন্টেন্ট থাকলে সেটা ফেক হতে পারে।
  5. মিউচুয়াল ফ্রেন্ড দেখুন – কোনো বিশ্বাসযোগ্য পারস্পরিক বন্ধু আছে কিনা খেয়াল করুন।
  6. নামের সাথে অফিসিয়াল ভেরিফিকেশন চিহ্ন (✔️) থাকলে সেটি আসল প্রোফাইল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
  7. প্রশ্ন করে যাচাই করুন – প্রয়োজনে ইনবক্সে কিছু পরিচিত তথ্য জিজ্ঞেস করুন।
  8. যার নাম ব্যাবহার করে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠানো হয়েছে তার ফোন নম্বরে ফোন করে সত্যি তিনি ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়েছন কিনা সেসম্পর্কে আগে নিশ্চিত হউন।

👉 সংক্ষেপে বলা যায়, ফেক ফেসবুক শুধু জনপ্রিয় ব্যক্তিদের নয়, সাধারণ মানুষের জন্যও বড় সামাজিক ও ব্যক্তিগত ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই সবসময় ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট গ্রহণের আগে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।

Tags: News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Home Search Gallery
Menu
© 2026 Desher Samay.