

আইপ্যাকে (I-PAC) তল্লাশিতে বাধা। কলকাতা হাইকোর্টে সিবিআই তদন্ত চাইল ইডি (ED)। মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মামলায় যুক্ত করে সিবিআই তদন্তের দাবি করছে ইডি। এখানে উল্লেখ্য, এ দিকে, ইডি যখন হাইকোর্টে মামলা করেছে, সেই সময় আবার পাল্টা ইডির বিরুদ্ধেও থায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এমনকী, ইডি অভিযানের বিরোধিতা করে বাড়ছে পাল্টা মামলা দায়ের হয়েছে। একটি নয়, দুটি মামলা দায়ের হয়েছে।

ইডির বক্তব্য, তল্লাশি চালানোর সময় মুখ্যমন্ত্রী নিজে উপস্থিত ছিলেন। যেভাবে তিনি ফাইল নিয়ে গিয়েছেন সেটাকে নজরের আওতায় নিয়ে আসা হোক। কোনও পুলিশের মারফত এটি সম্ভব নয়, তাই এক কেন্দ্রীয় এজেন্সি আর এক কেন্দ্রীয় এজেন্সির দ্বারস্থ হতে চাইছে। ইডি যে গোটা পিটিশন রয়েছে, সেখানে এফআইআর (FIR) করার কথা বলা হয়েছে। উল্লেখ করা হয়েছে রাজীব কুমারের নাম। ইডির অভিযোগ,বড়-বড় পুলিশ আধিকারিকরা সেখানে ছিলেন। এমনকী যে ফাইল নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেটা পুলিশের নিরাপত্তার মাধ্যমেই নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মুখ্য়মন্ত্রীকে পার্টি করার আহ্বানও জানানও হয়েছে।
তৃণমূল মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ বলেন, “ইডি-সিবিআই আরও যা যা আছে, আমেরিকা থেকে ট্রাম্পকে আনতে পারে। কিছু হবে না। ছাব্বিশের ভোটের আগে বাংলার মানুষ এর যোগ্য জবাব দেবে।”

আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশির সময় সেখানে কলকাতা পুলিশের উপস্থিতি এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যাওয়াকে ঘিরে কলকাতা হাইকোর্টে ইডি । কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে দাবি করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিট নাগাদ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংশ্লিষ্ট প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। তখন সেখানে প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ)-এর আওতায় তল্লাশি চলছিল।

হাইকোর্টে ইডি আধিকারিকদের দাবি, যথাযথভাবে মুখ্যমন্ত্রীর পরিচয় নিশ্চিত করার পর তাঁকে স্পষ্টভাবে জানানো হয় যে, চলমান তল্লাশি প্রক্রিয়ায় কোনও রকম হস্তক্ষেপ করা যাবে না। তা সত্ত্বেও তিনি সেখানে ঢুকে পড়েন। অভিযোগ, সেই সময় কলকাতা পুলিশের সহযোগিতায় ইডির অনুমোদিত আধিকারিক প্রশান্ত চান্ডিলা, যিনি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর পদে কর্মরত, তাঁর হেফাজত থেকে একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস ও গুরুত্বপূর্ণ নথি জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়া হয়।
ইডির বক্তব্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় তল্লাশি প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত একাধিক বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে। বিষয়টি কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতর। তৃণমূল যদিও এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী পরিস্থিতি সামাল দিতেই সেখানে গিয়েছিলেন এবং কোনও বেআইনি কাজ হয়নি।

আইপ্যাক তৃণমূলের ভোটকুশলী। বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতার লাউডন স্ট্রিটে সংস্থাটির কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে হঠাৎই তল্লাশি চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। একই সময়ে আর একটি ইডি দল সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে অবস্থিত আইপ্যাকের দফতরেও পৌঁছে যায়। বেআইনি কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি পুরনো মামলার সূত্র ধরেই এই তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানা যায়।

বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে তিনি প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে যান, তার পরে সল্টলেকের আইপ্যাক দফতরেও প্রবেশ করেন। অভিযোগ, ইডির তল্লাশি চলাকালীনই তিনি ভিতর থেকে একাধিক ফাইল, গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ল্যাপটপ বাইরে বের করে আনেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থা তৃণমূলের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী কৌশল হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
আইপ্যাকের দফতরে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ফের কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট । শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। একই বেঞ্চে এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের ( দায়ের করা পাল্টা মামলাটিও উঠছে। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ জানিয়েছেন, ইডি ও তৃণমূলের জোড়া মামলার একসঙ্গে শুনানি হবে।




