এবার ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিলেন বনগাঁ উত্তরের প্রাক্তন বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস সঙ্গে তাপসও
deshersamay

‘কালীঘাট-তৃণমূল’-এ ভাঙন অব্যাহত। এবার ঋতব্রত শিবিরে যোগ বনগাঁ উত্তরের প্রাক্তন বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাসের। বিরোধী দলনেতার ঘরে আজ দেখা গেল বিশ্বজিৎ দাসকে।

বিরোধী দলনেতার ঘরে গিয়ে তাঁকে আমার নেতা বলে সম্বোধন বিশ্বজিৎ দাসের। কিছুক্ষণ পরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে আসতে পারেন তাপস চট্টোপাধ্যায়। কিছুক্ষণ পরেই বিরোধী দলনেতার ঘরে আসতে পারেন রাজারহাটের প্রাক্তন বিধায়ক।

বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন যেন থামার নামই নিচ্ছে না। একের পর এক নেতা, বিধায়ক ও সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ কালীঘাট শিবির ছেড়ে যোগ দিচ্ছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূলে।

শুক্রবার সেই তালিকায় যুক্ত হল আরও দুটি পরিচিত নাম। বনগাঁ উত্তরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস এবং রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বারাসত সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি তাপস চট্টোপাধ্যায় ।
এদিন বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন বিশ্বজিৎ দাস। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামানও। বৈঠকের পরই স্পষ্ট হয়ে যায়, কালীঘাট শিবিরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ঋতব্রতের নেতৃত্বাধীন শিবিরেই নাম লিখিয়েছেন বিশ্বজিৎ। কিছুক্ষণের মধ্যেই একই পথে হাঁটেন তাপস চট্টোপাধ্যায়ও। ফলে ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচির আগে ঋতব্রত শিবিরের সাংগঠনিক শক্তি আরও বাড়ল বলেই রাজনৈতিক মহলের মত।

বিশ্বজিৎ দাসের রাজনৈতিক জীবনে দলবদলের ইতিহাস নতুন নয়। দীর্ঘদিন তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। ২০১১ এবং ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে জয়ী হন। পরে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতির দায়িত্বও পান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন তিনি।
তবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। সেই নির্বাচনে বাগদা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়ে জয়ীও হন। কিন্তু গেরুয়া শিবিরে তাঁর রাজনৈতিক সফর দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। একই বছর তিনি বিধানসভায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে ফের তৃণমূলে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে বাগদার বিধায়ক পদ ছেড়ে দিয়ে পুনরায় তৃণমূলে যোগ দেন। তাঁকে আবার বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতির দায়িত্বও দেওয়া হয়।

এরপর ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বিশ্বজিৎ দাস। পরে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র থেকে তাঁকেই প্রার্থী করে তৃণমূল। তবে সেই নির্বাচনে তিনি বিজেপির প্রার্থী অশোক কীর্তনিয়ার কাছে পরাজিত হন। বর্তমানে অশোক কীর্তনিয়া রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী।
ভোটে হারের পর থেকেই রাজনৈতিকভাবে অনেকটাই আড়ালে চলে গিয়েছিলেন বিশ্বজিৎ। ফলে শুক্রবার তাঁর আচমকা বিধানসভায় উপস্থিতি এবং বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কক্ষে দীর্ঘ বৈঠক রাজনৈতিক জল্পনা আরও উসকে দেয়। পরে তাঁর আনুষ্ঠানিক যোগদানে সেই জল্পনারই অবসান ঘটে।
একই দিনে তাপস চট্টোপাধ্যায়ের যোগদানও ঋতব্রত শিবিরের কাছে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রাক্তন বিধায়ক হওয়ার পাশাপাশি তিনি বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন। ফলে উত্তর ২৪ পরগনায় সংগঠন আরও মজবুত করতে এই দুই নেতার যোগদান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূলের একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিচ্ছেন। ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচির আগে এই ধারাবাহিক দলবদল রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় দুই অভিজ্ঞ সংগঠকের আগমন ঋতব্রত শিবিরের শক্তি আরও বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
