এ বার অভিষেকের দুয়ারে ইডি!শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলা তদন্তে তলব ১৫ জুন
deshersamay


কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি রওনা দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘শান্তিনিকেতনে’ এলেন ইডি আধিকারিকরা। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির ঘটনায় তাঁকে সমন দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

বুধবার সারাদিন শিরোনামে বিধানসভা। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও ৫৮ বিধায়কের সই, বিরোধী দলনেতা বেছে নেওয়া ইত্যাদি নিয়ে রীতিমতো উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এরই মধ্যে সমস্ত কমিটি ভেঙে দেয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পর্যালোচনা করে বাকি পদক্ষেপ করা হবে বলে জানানো হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। বেলা গড়াতেই তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই তাঁর বাড়িতে আসেন ইডি আধিকারিকরা। সেখানে তাঁকে না পেয়ে আধিকারিকরা পৌঁছন কালীঘাটের বাড়িতে।

সেখানেই তাঁরা সমনের নোটিস দিয়ে এসেছেন বলে শোনা যাচ্ছে। এনিয়ে অবশ্য কেউ কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
ওই সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, আগামী ১৫ জুন প্রাথমিকের মামলার তদন্তের সূত্রে তাঁকে তলব করা হয়েছে।
সই জালিয়াতির একটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কয়েকদিন আগে সমন পাঠিয়েছিল সিআইডি। সোমবার তাঁকে সশরীরে কলকাতার ভবানী ভবনে (সিআইডি সদর দফতর) হাজির হওয়ার জন্য স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সপ্তাহের শুরুতেই সিআইডি-র সেই তলব এড়িয়ে যান তিনি। শারীরিক অসুস্থতার কারণে আপাতত ভবানী ভবনে গিয়ে তদন্তকারীদের মুখোমুখি হওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়, এই মর্মে রাজ্য গোয়েন্দাদের কাছে একটি লিখিত আবেদনপত্র পাঠিয়ে পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অন্তত ১৫ দিনের বাড়তি সময় চেয়ে নেন।

তদন্তের গতি স্তব্ধ রাখতে নারাজ ছিলেন সিআইডি-র শীর্ষ কর্তারা। ভবানী ভবনে হাজিরা এড়ানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই সিআইডি-র একটি বিশেষ দল সোজা রওনা দেয় দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের দিকে।
গোটা বিতর্কের সূত্রপাত বিধানসভায় জমা পড়া একটি চিঠিকে ঘিরে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচন সংক্রান্ত চিঠিতে কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ, কিছু স্বাক্ষরের সত্যতা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে রাজ্য বিধানসভার পক্ষ থেকে হেয়ার স্ট্রিট থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়।
এদিন সিআইডি-র পাঠানো নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে এবার সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়ের এজলাসে এই সংক্রান্ত একটি মামলা দায়েরের অনুমতি চান তাঁর আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়।
আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আইনজীবী দাবি করেন, সিআইডি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে যে নোটিস পাঠিয়েছে, তা আইনত ঠিক নয়। তাই কলকাতা হাইকোর্ট যেন এই নোটিসটি খারিজ করে দেয়। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায় শেষ পর্যন্ত মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন। আদালত সূত্রে খবর, আগামী ৫ জুন এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

আজ বিকেল ৫টা নাগাদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছন গোয়েন্দারা। দু’জন ইডি কর্তা ছিলেন। তাঁদের হাতে একটি ফাইল দেখা যায়। অভিষেকের নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে কথা বলে সমন দিয়ে এসেছেন।
এর আগেও একাধিকবার অভিষেককে তলব করেছিল ইডি
কয়লা পাচার মামলায় একাধিকবার অভিষেককে তলব করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ডাকা হয়েছে তাঁর স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। হয় জিজ্ঞাসাবাদ। সরকারি কয়লা খনি থেকে বেআইনিভাবে কয়লা উত্তোলনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার আর্থিক তছরূপ ও টাকা পাচারের অভিযোগে ইডি তদন্ত চালাচ্ছে।
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জড়ায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। এই মামলার তদন্তের স্বার্থেও ইডি তাঁকে নিজাম প্যালেস বা সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করেছিল। শুধু তিনি নন, তাঁর সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসে’র অফিসে তল্লাশিও চলে। মনে করা হচ্ছে, এই মামলার তদন্তেই তাঁকে আবার ডেকে পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, প্রাখমিকের নিয়োগ মামলার তদন্তে সিবিআই-এর চার্জশিটে অভিষেকের নাম ছিল। তবে অভিযুক্ত হিসাবে তাঁর নাম ছিল না। তা ছাড়া এই মামলার তদন্তে ইডি যে চার্জশিট দেয়, তাতেও ওঁর নাম ছিল। ইডি সূত্রে খবর, এই মামলার তদন্তের সূত্রে যৌক্তিক উপসংহারে পৌঁছোনোর জন্যই অভিষেককে ইডি দফতরে তলব করা হয়েছে। ওই দিন তাঁর বয়ান নথিবদ্ধ করা হতে পারে।

Leave a Reply