Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

BJP Campaign inMathurapur মুসলিমদের ভুয়ো ওবিসি সার্টিফিকেট দিয়েছে তৃণমূল , কাকদ্বীপের সমাবেশে ‘বিকশিত বাংলা’ গড়ার ডাক মোদীর

deshersamay

Share article:
হিয়া রায়

দেশের সময় সপ্তম দফা অর্থাৎ শেষ দফা ভোটের আগেই ধ্যানে বসবেন লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রধান মুখ নরেন্দ্র মোদী। কন্যাকুমারীর বিবেকানন্দ রকে সাধনায় মগ্ন হবেন। তার আগে বুধবার বাংলায় শেষ সভাস্থল হিসেবে মথুরাপুরকে বেছে নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। বক্তব্যের শুরু থেকে শেষ ‘বাংলা ও বাঙালি’-কে নিয়ে ‘প্রতিশ্রুতির বন্যা’  মোদীর কণ্ঠে। ‘বিকশিত বাংলা’-র জন্য তিনি সমস্ত ক্ষমতা লাগিয়ে দেবেন, মথুরাপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে এমনই মন্তব্য করলেন নমো।

আগামী ১ জুন শেষ দফায় লোকসভা নির্বাচন। প্রচারে কোনও কসুর রাখতে নারাজ সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলি। উল্লেখযোগ্যভাবে, বঙ্গে এবার বিশেষ ফোকাস নমোর। মথুরাপুরের সভা থেকে মোদীর ‘মনের কথা’, ‘বাংলা থেকে এবার অনেক বেশি আসন চাই।’ এই নির্বাচনে বঙ্গে তাঁর শেষ সভা মথুরাপুরেই, জানালেন নমো। এরপর ওডিশা এবং পঞ্জাবের উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি।

এদিন বক্তব্যে তোষণের অভিযোগ তুলে জনবিন্যাস বদল নিয়ে রাজ্যের শাসকদলকে নিশানা করে মোদী বলেন, ‘‘তৃণমূল রামমন্দিরকে অপবিত্র বলে। এমন দল বাংলার সংস্কৃতি রক্ষা করতে পারবে না। তুষ্টিকরণের জন্য সংবিধানের উপরও হামলা চালিয়েছে তৃণমূল। আমাদের সংবিধান দলিতদের সংরক্ষণ দিয়েছে। কিন্তু বাংলায় তার লুট হয়েছে।

মুসলিমদের ভুয়ো ওবিসি সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। ওবিসিদের অধিকার কেড়ে মুসলিমদের দেওয়া হচ্ছে। কলকাতা হাই কোর্ট রদ করেছে। তৃণমূল এই নির্দেশ মানতে বাধ্য। কিন্তু মুসলিমদের মিথ্যা বলছে। তুষ্টিকরণের জন্য এরা যে কোনও সীমা লঙ্ঘন করতে পারে। তৃণমূল বাংলায় অনুপ্রবেশকারীরা নিয়ে আসছে। মতুয়াদের থাকতে দিতে চায় না। এই তিন কেন্দ্রে জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে। ৪ জুনের পর তৃণমূলের সব হাওয়া বেরিয়ে যাবে। আমাদের মতুয়া সমাজ এবং নমশূদ্র সমাজ নিজেদের অধিকার পাবেন। সকল শরণার্থীকে ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।  তৃণমূল বাংলার  এই কেন্দ্রগুলিকে উন্নয়ন থেকে দূরে রেখেছে। কেবল বিজেপিই উন্নয়ন করতে পারে।’’

তৃণমূল বাংলার অস্তিত্ব নষ্ট করতে চায়। অভিযোগ তুললেন মোদী। মোদী বলেন, ‘‘তৃণমূল মঠ এবং সন্তদের অপমান করে। রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম এবং ইস্কনের মতো প্রতিষ্ঠানের সন্তদের অপমান করে গালিগালাজ দেয়। তৃণমূলের গুন্ডারা এই সব মঠে হামলা চালাচ্ছে।’’

তৃণমূল এবং জোট ‘ইন্ডিয়া’ কে কটাক্ষ করে মোদী বলেন, ‘‘তৃণমূল এবং জোট ‘ইন্ডিয়া’ বাংলাকে উল্টো দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বিজেপির প্রতি বাংলার ভালবাসা তৃণমূল সহ্য করতে পারছে না। সেই জন্য ওরা ক্ষেপে গিয়েছে। কী সব বলে। বাংলার প্রতি তৃণমূলের ঘৃণা দেখতে পাওয়া যায়। ওদের কাছে একটাই অস্ত্র— ‘এটা হতে দেবে না’। বিকাশের জন্য মোদী যা করে, তৃণমূল বলে সেটা হতে দেবে না।’’

‘বিকশিত বাংলা’ প্রসঙ্গও উঠে এসেছে শেষ লগ্নের প্রচারে। নমো বলেন, ‘পঞ্চম থেকে বিশ্বের তৃতীয় বড় অর্থনীতি হতে চলেছে ভারত। আর সেই জন্য বিকশিত বাংলার প্রয়োজন। চার জুন থেকেই বিকশিত ভারত নির্মাণ হবে। আমি বিকশিত বাংলা তৈরি করার জন্য সমস্ত ক্ষমতা লাগিয়ে দেব।’

শেষ দফায় রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে মোদীর অভিযোগ, ‘এটা হতে দেবে না’। প্রচারে নেমে একাধিকবার তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, বাংলার বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা কেন্দ্র আটকে রেখেছে। দিল্লিতে গিয়ে এই নিয়ে বিক্ষোভও দেখিয়েছিলেন রাজ্যের শাসক দলের নেতারা। এবার মোদীর ‘কাউন্টার’, ‘এটা হতে দেব না’। নমো বলেন, ‘বিভিন্ন প্রকল্প যেমন আয়ুষ্মান যোজনা বঙ্গে চালু করতে দিচ্ছে না রাজ্য।’

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের একাংশের কথায়, ‘বঙ্গে শেষ সভায় প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত বাঙালির আবেগের সঙ্গে নিজেকে জুড়তে চেয়েছেন মোদী।’ রাজ্যের শাসক দলের নেতারা কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিকবার ‘পরিযায়ী নেতা’-র তকমা লাগিয়েছেন। ভোটের সময় এসে তাঁরা কোনওদিন বাংলার মানুষের ‘আত্মার আত্মীয়’ হতে পারবেন না বলেও দাবি করেছিলেন তাঁরা।

কিন্তু, মোদী শেষ বক্তব্যে আগাগোড়া ‘বঙ্গ আবেগে’ নিজেকে জুড়তে চেয়েছেন বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের। শেষ মুহূর্তে ‘ও আমার দেশের মাটি…’ দিয়ে বাংলা ও রাবীন্দ্রিক ভালোবাসা ফোটানোর ‘নিখুঁত’ চেষ্টা নমোর, মত ওয়াকিবহাল মহলের।

Advertisement
Tags: featured

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন