বিদেশ যেতে চান অভিষেক , হাইকোর্টের নির্দেশে আরও বিপাকে তৃণমূল সাংসদ
deshersamay

কলকাতা হাইকোর্টে ফের জোর ধাক্কা তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাড়ি দেওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন তিনি। সেই আবেদন খারিজ করল হাইকোর্ট।

চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে চেয়ে গতকাল, মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ‘কালীঘাট তৃণমূলের’ সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় এক সপ্তাহের জন্য দেশের বাইরে থাকার আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি।

আজ, বুধবার এই মামলার শুনানি হয় কলকাতা হাইকোর্টে।
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের কাছে অভিষেকের আইনজীবী জরুরি ভিত্তিতে বিদেশ যাত্রার অনুমতি চান। এদিন তিনি এও জানান, আগেই অভিষেকের চোখে অস্ত্রোপচার হয়েছিল। চিকিৎসার জন্য আগেও বিদেশে গিয়েছিলেন তিনি। সেই কারণেই অভিষেকের দ্রুত বিদেশ যাত্রা প্রয়োজন।

আবেদন খারিজ করে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ, দেশের অভ্যন্তরেও চোখের চিকিৎসা করানোর সুযোগ রয়েছে। এর জন্য আপাতত বিদেশ যাত্রার প্রয়োজন নেই।
প্রসঙ্গত, চোখের চিকিৎসার জন্য এর আগেও একাধিকবার বিদেশ গিয়েছেন অভিষেক। ২০১৬ সালের ১৯ অক্টোবর মুর্শিদাবাদে দলীয় কর্মসূচি সেরে ফেরার পথে হুগলির সিঙ্গুরের কাছে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল অভিষেকের গাড়ি।
ওই দুর্ঘটনায় তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ডের বাঁ চোখের নিচে গুরুতর আঘাত লাগে এবং চোখের হাড় ভেঙে যায়। ওই দুর্ঘটনার পর থেকে চোখের সমস্যায় ভুগছেন অভিষেক। হায়দরাবাদ, দুবাই, সিঙ্গাপুর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েও চিকিৎসা করিয়েছেন। একাধিকবার বাঁ চোখে অস্ত্রোপচার হয়েছে তাঁর।

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরেই তৃণমূলের ভরাডুবি শুরু। এক মাসের মধ্যে ছন্নছাড়া দশা। দলের অভ্যন্তরেও বিদ্রোহ। যা বারবার প্রকাশ্যে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে অভিষেককে একাধিকবার বিভিন্ন মামলায় তলব করেছে ভিন্ন ভিন্ন তদন্তকারী দল। সিআইডি, ইডি, সিবিআইয়ের নজরে রয়েছেন অভিষেক। একগুচ্ছ মামলার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যখন তখন তাঁকে হাজিরাও দিতে হচ্ছে।
ভোটের ফলাফল ঘোষণার পরেই দলের মধ্যেই একাধিক নেতা, নেত্রীর ক্ষোভের সম্মুখীন হয়েছেন অভিষেক। এমনকী জনরোষের মুখেও পড়েছেন। সোনারপুরে মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে দেখা করতে যাওয়ার পথেই অভিষেককে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়া হয়। ‘আহত’ অবস্থায় একের পর এক হাসপাতালেও ছুটে গিয়েছিলেন। কিন্তু কোথাও তাঁকে ভর্তি নেওয়া হয়নি।

