ভবানী ভবনে অভিষেক , সই জাল মামলায় কুণালকে তলব বিকেলে
deshersamay


বিধানসভায় সই জাল কাণ্ডে সিআইডি-র জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে রবিবার ফের ভবানী ভবনে পৌঁছে গেলেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।এই নিয়ে সিআইডি তলবে দ্বিতীয় বার হাজিরা দিলেন অভিষেক। তাঁকে বেলা ১২টা নাগাদ হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের ১৭ মিনিট আগেই তিনি পৌঁছে যান সিআইডি দফতরে। এই মামলায় অভিষেককে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। সেই মতো অভিষেক হাজিরা দিলেন। আদালত জানিয়েছে, আগামী দু’সপ্তাহ তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না সিআইডি।

অন্য দিকে, একই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে রবিবার বিকেলে তলব করেছে সিআইডি।
নির্ধারিত সময়ের আগেই হাজিরা, ভবানী ভবনে কড়া নিরাপত্তা
রবিবার দুপুর ১২টায় অভিষেককে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সিআইডি। কিন্তু ঘড়ির কাঁটায় ঠিক ১১টা ৪০ মিনিটে, অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ের ২০ মিনিট আগেই ভবানী ভবনে ঢোকে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের গাড়ি।
হাজিরার প্রক্রিয়া:
রিসেপশনে নিজের পরিচয়পত্র দেখিয়ে হাজিরার খাতায় আইনমাফিক সই করে সোজা ভেতরে চলে যান অভিষেক।

নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা:
ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও সকাল থেকেই ভবানী ভবনে তৎপরতা ছিল তুঙ্গে। নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে দফতরে একে একে হাজির হন উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং র্যাফ (RAF)।
আইনি সুরক্ষাকবচ:
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী অভিষেককে তদন্তে সহযোগিতা করতে বলা হলেও, আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে আগামী দু’ সপ্তাহ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না সিআইডি।
এর আগে গত ১১ জুন ভবানী ভবনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সিআইডির কর্তারা। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে সে দিন ভবানী ভবনে হাজিরা দেন তিনি।
জানিয়ে দিয়েছিল, সিআইডিকে তদন্তে সব রকম সহযোগিতা করতে হবে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে।

সে দিন সন্ধে ৬টার আগেই পৌঁছন সিআইডির দপ্তরে। রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ সেখান থেকে বের হন। বেরিয়ে সোজা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান। আজও সময়ের আগেই পৌঁছে গিয়েছেন ভবানী ভবনে।
বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে স্পিকারকে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, সেখান থেকেই এই সই বিতর্কের সূত্রপাত।
গত ৯ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বোসকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় চিঠি লিখে জানান, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা বেছে নেওয়া হচ্ছে। ১৮ মে বিধানসভার প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি এ সংক্রান্ত মিনিটস বা রেজ়োলিউশন জমা দেওয়ার জন্য চিঠি দেন।

২০ মে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক রেজ়োলিউশনের একটি কপি পাঠান, ৭০ জন MLA-র সই করা তাতে। রেজ়োলিউশনের কপিতে ব্লক লেটারে ১০ জনের নাম লেখা ছিল। এর পরে ২৭ মে দুই MLA ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা স্পিকারকে অভিযোগ জানান যে রেজ়োলিউশনে যাঁদের সই রয়েছে, তাঁদের অনেকে সেদিন কালীঘাটের মিটিংয়ে ছিলেনই না। প্রশ্ন ওঠে, তা হলে সই কি নকল করা হলো? দুই বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে স্পিকারের নির্দেশে বিধানসভার প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ জানান। তদন্তভার যায় সিআইডির হাতে।

তদন্তে নেমে অভিষেককে তিন বার নোটিস পাঠায় সিআইডি। তাঁর কালীঘাট রোডের ঠিকানায় গিয়ে সেই নোটিস দেওয়া হয়। তবে তিনি হাজিরা দেননি। সিআইডির নোটিস চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে যান। যদিও আদালত তাঁকে তদন্তে সব রকম সহযোগিতার নির্দেশের পাশাপাশি হাজিরা দিতেও বলে। এর পরেই প্রথমে ১১ জুন এবং এর পরে আজ, ১৪ জুন ভবানী ভবনে গেলেন অভিষেক।
