বেলিংহ্যামের জোড়া গোল,মেক্সিকোকে হারিয়ে শেষ আটে ইংল্যান্ড
deshersamay


ইংল্যান্ড – ৩ (বেলিংহ্য়াম ২, কেন)
মেক্সিকো – ২ (কিনোনেস, হিমেনেজ়)
ম্যাচ শুরুর আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামের উচ্চতা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭,২২০ ফুট ওপরে পাতলা বাতাসে খেলতে নেমে ইংল্যান্ডের ফুটবলাররা সমস্যায় পড়বেন কি না, তা নিয়েই বিস্তর জল্পনা । এমনকী, সেই সমস্যা কাটাতে থ্রি লায়ন্সের ফুটবলাররা নাকি ভায়াগ্রা ব্যবহার করতে পারেন—এমন গুঞ্জনও ছড়িয়েছিল। মাঠে অবশ্য সেই সব আলোচনার কোনও প্রভাব পড়তে দিল না টমাস টুখেলের দল। টানটান লড়াইয়ে, নাটকীয় ওঠানামার ম্যাচে শেষ পর্যন্ত আয়োজক মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল ইংল্যান্ড ।

ম্যাচের আগে সাংবাদিক বৈঠকে ভায়াগ্রা-জল্পনা নিয়ে প্রশ্ন শুনে হেসেই উড়িয়ে দেন ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল। তাঁর স্পষ্ট জবাব ছিল, ‘এমন কোনও তথ্য অন্তত আমার কাছে পৌঁছয়নি। ফলে খবরটা একেবারেই সত্যি নয়।’ অ্যাজটেকার উচ্চতা যে চ্যালেঞ্জ হবে, তা অবশ্য তিনি স্বীকার করেছিলেন। টুখেলের কথায়, ‘আমরা সেটাকে বদলাতে পারব না। পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতেই হবে।’ একইসঙ্গে জানান, প্রথম ১৫ থেকে ২০ মিনিটই সবচেয়ে কঠিন হতে পারে। হোটেলে থাকার সময় সামান্য শ্বাসকষ্ট ও ঘুমের সমস্যার কথাও উল্লেখ করেছিলেন ইংল্যান্ড কোচ।

আজ অবশ্য গুঞ্জন, সস্তা বিতর্ক নয়। ফুটবল ম্যাচ বদলে গেল যুদ্ধে । এক ঘণ্টা বৃষ্টিবিঘ্নের পর শুরু হওয়া ম্যাচে প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডের ভিত গড়ে দেন জুড বেলিংহ্যাম। ৩৬ ও ৩৮ মিনিটে পরপর দুই গোল করে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নেয় থ্রি লায়ন্স । যদিও ৪২ মিনিটে ব্যবধান কমিয়ে মেক্সিকোকে ম্যাচে ফেরান হুলিয়ান কিনিয়োনেস। বিরতির পর ৫৬ মিনিটে জ্যারেল কোয়ানসা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় দশ জনে নেমে আসে ইংল্যান্ড। তবু ৬০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন অধিনায়ক হ্যারি কেন । চলতি বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়াল ছ’য়ে।

তিন গোলে এগিয়ে থাকার পরই ম্যাচে ফেরে মেক্সিকো। ৬৬ মিনিটে বক্সের ভিতরে হ্যারি কেনের ফাউলের জন্য ভিএআরের সাহায্যে পেনাল্টি দেয় রেফারি আলিরেজা ফাঘানি। কেন হলুদ কার্ডও দেখেন। ৬৯ মিনিটে সেই স্পট-কিক থেকে রাউল হিমেনেস গোল করে ব্যবধান কমান। এরপর একাধিকবার জর্ডান পিকফোর্ডকে পরীক্ষার মুখে ফেলে মেক্সিকো। হেসুস গায়ার্দো, আলভারো ফিদালগো ও বদলি সান্তিয়াগো হিমেনেস সুযোগ তৈরি করলেও ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক এবং রক্ষণভাগ আর গোল খেতে দেয়নি। যোগ করা সময়ে চোট পেয়ে কেন মাঠ ছাড়েন। তাঁর জায়গায় নামেন মর্গান রজার্স। তাতে অবশ্য ছন্দপতন হয়নি।

অ্যাজটেকার পাতলা বাতাস, ৮০ হাজারের বেশি দর্শকের চাপ এবং আয়োজক দেশের বিরুদ্ধে নকআউট ম্যাচ—তিনটি পরীক্ষাই শেষ পর্যন্ত উতরে গেল ইংল্যান্ড। ম্যাচের আগে যে উচ্চতাকে সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ বলে মনে করা হচ্ছিল, সেটাই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণ করতে পারেনি। বরং শুরুর ধাক্কা সামলে টুখেলের পরিকল্পনাই কাজে দিল। এখন কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে, যারা আগের ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে।

