বেহাল দশা রাস্তার, দুর্নীতির অভিযোগে নহাটা বাজারে পথ অবরোধ গ্রামবাসীদের
deshersamay
দেশের সময় : পথশ্রী প্রকল্পের বোর্ড ঝুলেছে বছর খানেক আগেই। সেখানে জ্বলজ্বল করছে বরাদ্দের অঙ্ক ৩৭ লক্ষ টাকা! কিন্তু বাস্তবে রাস্তার বেহাল দশার চিত্রটাও জ্বলজ্বল করছে গ্রামবাসীদের চোখের সামনে।

বিধানসভা ভোটের আগে ঘটা করে বোর্ড টাঙানো হলেও, আদতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে অভিযোগ। এরই প্রতিবাদে এবং তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্লাকার্ড হাতে রাস্তা অবরোধ করে তুমুল বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দারা।মঙ্গলবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে গোপালনগর থানার নহাটা বাজারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপালনগর থানার চৌবেড়িয়া ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ইসলামপুর পালপাড়া গ্রামের মূল রাস্তাটি গত প্রায় ১৫ বছর ধরে অত্যন্ত বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই গোটা রাস্তা কাদায় ভেসে যায়। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দের। এই মরণফাঁদ রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয় স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, অসুস্থ রোগী ও ব্যবসায়ীসহ এলাকার হাজার হাজার মানুষকে।

ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ভোটের আগে স্রেফ চমক দিতেই পথশ্রী প্রকল্পের নামে ৩৭ লক্ষ টাকার বোর্ড বসানো হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে কোন কাজই হয়নি।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই পালপাড়া-ইসলামপুর সড়কটি সংস্কারের দাবিতে ‘রাস্তা চাই, বোর্ড নয়’ ব্যানার ও পোস্টার হাতে নিয়ে নহাটা-গোপালনগর সড়ক অবরোধ করেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। দীর্ঘক্ষণ পথ অবরোধের জেরে এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি- অবিলম্বে যদি রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু না হয়, তবে আগামী দিনে তারা আরও বড়সড় ও তীব্র আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি ও ক্ষোভের কথা জানতে পেরে দ্রুত রাস্তা তৈরির আশ্বাস দিয়েছেন বনগাঁ দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার। তৃণমূলকে তীব্র নিশানা করে বিধায়ক বলেন, “তৃণমূলের আমলে কাটমানি আর দুর্নীতির গ্রাফ এতটাই উচ্চে যে, রাস্তার জন্য সরকারি টাকা অনুমোদন হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ আজ পর্যন্ত রাস্তার মুখ দেখতে পাননি। ওই টাকা কোথায় গেল, তার জবাব নেই। তবে এবার আমাদের আমলে এই রাস্তা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে ও ভালোভাবে সংস্কার করা হবে। মানুষের দুর্ভোগ আমরা দ্রুত মেটাবো।”

যদিও এই নিয়ে সংশ্লিষ্ট তৃণমূল নেতৃত্বের কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। তবে ভোটের মুখে দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তব পরিস্থিতির এই বিস্তর ফারাক যে এলাকার মানুষকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে, মঙ্গলবারের স্বতঃস্ফূর্ত জনবিক্ষোভই তার প্রমাণ। এখন দেখার, বিধায়কের আশ্বাসের পর কত দ্রুত এই নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি পান ইসলামপুর পালপাড়ার বাসিন্দারা।
