বারুইপুরে নির্যাতিতার বাড়িতে অগ্নিমিত্রা-লকেট, আজই যাবেন মুখ্যমন্ত্রী
deshersamay

বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু শুভেন্দু অধিকারী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আজ বারুইপুরে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। আর এদিন সকালেই নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করল বিজেপির প্রতিনিধি দল।

এদিন সকালেই বিজেপির প্রতিনিধি দল পৌঁছে যায় বারুইপুরে। নির্যাতিতার মায়ের সঙ্গে কথা বলেন অগ্নিমিত্রা পাল, লকেট চট্টোপাধ্য়ায়, কেয়া ঘোষ।
পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পর লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, “পরিবর্তনের বাংলায় আমরা চাই সবাই শাস্তি পাক। চূড়ান্ত শাস্তি দেওয়া হবে।” লকেটেরও দাবি, সরকারি তৎপরতা ও প্রসাসনের ভূমিকায় শোকগ্রস্ত পরিবার সন্তুষ্ট।

পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা বলেন, “বিগত সরকার কাউকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেনি। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী বারবার ফোন করেছেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের ধরা হয়েছে। সারা গ্রাম বিশ্বাস রাখছে সরকারের উপর। আমরা পাশে দাঁড়াতে এসেছি।”
সোমবারই বারুইপুরের ঘটনায় দোষীদের ‘ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট’ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি ছিল, নির্যাতিতার পরিবারের দাবি অনুযায়ী বিচার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করবে। ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

তদন্তে আইজি-র নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) এবং জেলা পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে। তদন্তকারীরা ঘটনার সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহ করছেন এবং দ্রুত চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন শুভেন্দু অধিকারী। বারুইপুর জেলা পুলিশ কার্যালয়ে পৌঁছে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। তদন্তে কোনও গাফিলতি হয়েছে কি না, সেই বিষয়েও তিনি বিস্তারিত রিপোর্ট নেবেন। এরপর নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের দাবি-দাওয়া এবং সরকারের তরফে নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করবেন।

বন্ধুর জন্মদিনের উপহার কিনতে গত শনিবার বিকেলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল বারুইপুরের ১২ বছরের নাবালিকা। অনেক্ষণ বাড়ি না ফেরায় পরিবার নিখোঁজ ডায়েরি করে। রাতেই সিসিটিভি ফুটেজে চার জনের সঙ্গে ওই নাবালিকাকে দেখা যায়। তবে, রবিবার সকালে ধবধবি ও সূর্যপুর স্টেশনের মাঝামাঝি একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই ঘটনার জেরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ জনতা দেহ রাস্তায় রেখে বিক্ষোভ দেখায়। পরে গণপিটুনিতে এক সন্দেহভাজনের মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার-সহ তিন জন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও তিন জন আটক। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গোটা ঘটনার তদন্ত করছে।

