

বাংলাদেশে মোট ৩০০ আসনে নির্বাচন। তবে নির্বাচনের কয়েকদিন আগে শেরপুর-৩ আসনের একজন প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় ওই আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ফলে ২৯৯টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে আজ। মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল লড়ছে। নির্দল প্রার্থীদের মিলিয়ে মোট ১৭৫৫জন প্রার্থী লড়ছেন।

দলের বিপুল জয় নিশ্চিত হওয়ার পর নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রথম প্রতিক্রিয়ায় তারেক রহমান বলেছেন বিজয় মিছিলের নামে কেউ যেন কোন অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়িয়ে না পড়েন। আজ শুক্রবার জুম্মার নামাজে সকলকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের ভাবি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপির সূত্র বলছে, প্রায় দু’দর্শক পর ক্ষমতায় ফিরতে চলা দলের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে এই বিজয়কে ঘিরে উন্মাদনা যাতে কোন অশান্তির কারণ তৈরি না করে সে ব্যাপারে তিনি সকলকে সতর্ক করে দিয়েছেন। বিএনপির (BNP) এক কর্তা বলেন আমরা বদল চেয়েছিলাম বদলা নয়।

এখনও পর্যন্ত যা খবর তাতে ১৬-১৭ তারিখের মধ্যে তারেক রহমান বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন। নির্বাচনের আগেই একাধিক জনমত সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল সরকার গড়ার দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে বিএনপি এবং তারেক রহমানকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চাইছেন অধিকাংশ বাংলাদেশি। সেদিক থেকে বিএনপির জয় এবং তারেকের প্রধানমন্ত্রী হওয়া ছিল সময়ের অপেক্ষা।

বাংলাদেশে নির্বাচনে জয়ের জন্য বিএনপি ও for দলের চেয়ারম্য়ান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-র নির্ণায়ক জয়ে নেতৃত্বে দেওয়ার জন্য তারেক রহমানকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমাদের সম্পর্ককে আরও মজবুত করার এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার আশা রাখি। গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পক্ষে ভারত তার সমর্থন অব্যাহত রাখবে।”
নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার ৫৯.৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা যথেষ্ট সন্তোষজনক। কিন্তু কোনও কোনও মহল থেকে অভিযোগ করা হয়েছে প্রবাসীদের ভোটের জন্য যে বিশাল ব্যবস্থা মুহাম্মদ ইউনূস সরকার করেছিল, তাতে একেবারেই সাড়া পাওয়া যায়নি। মাত্র ৪ শতাংশ প্রবাসী পোস্টাল ব্যালট পূরণ করে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে আবার কিউ আর কোড স্ক্যানের একটি বিষয় ছিল, যাতে গন্ডগোল হওয়ায় বহু পোস্টাল ব্যালট বাতিল করা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন বুথে যত পরিমাণ ভোট পড়েছে, তার থেকে বেশি গণভোটের ব্যালট পাওয়া গিয়েছে। সংবিধান সংশোধনের পক্ষে হ্যাঁ বা না ভোট নিয়ে এই গণভোট বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকার থেকে শুরু করে প্রায় সব রাজনৈতিক দল এই গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার জন্য আবেদন করেছিল। তার পরেও বিপুল সংখ্যক মানুষ না ভোট প্রয়োগ করেছেন।
অনেকেই বলছেন দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরে বিএনপি গণভোটের রায়ের পর সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি যথোচিত গুরুত্ব দেবে না। কেন না, যে সনদ গণভোটের জন্য পাঠানো হয়েছিল তাতে অনেক কিছুতেই বিএনপি সহমত হয়নি। বিএনপির নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি স্পষ্ট কোন জবাব দেননি। ওই বিএনপি নেতা বলেন যা গণতন্ত্র-সম্মত হবে, বিএনপি সেই সিদ্ধান্তই নেবে। বিভিন্ন জায়গায় ভোটে জয়ী করার জন্য দেশবাসীকে দলের পক্ষে অভিনন্দন জানান খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২৯৯ সিটের মধ্যে বিএনপি ১৮১ আসনে জয়ী হয়েছে। আর কিছুক্ষণেই সব আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
এবারের জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও হয়েছিল। গণভোটে মোট ভোট পড়েছে ৬০.২৬ শতাংশ। ‘হ্যাঁ’-র পক্ষে ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি। আর ‘না’-তে ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ টি।
https://x.com/i/status/2022162883707314563

বাংলাদেশের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে শুভেচ্ছাবার্তা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে এক্স হ্য়ান্ডেলে পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, “বাংলাদেশের এই বিপুল জয়ের জন্য অভিনন্দন জানাই আমার তারেকভাইকে, তাঁর দলকে ও অন্যান্য দলকে। সবাই ভালো থাকুন, সুখী থাকুন। আমাদের সঙ্গে সব সময় বাংলাদেশের সুসম্পর্ক বজায় থাকবে, এটাই আমরা কামনা করি।”
https://x.com/i/status/2022204272411336886
বেসরকারি মতে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিএনপি এবং তার শরিক দল মিলে পেয়েছে ২১৩টি আসন, জামায়াত জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন, স্বতন্ত্র এবং অন্যরা পেয়েছে ৭টি আসন। ৩০০টি আসনের মধ্যে একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নির্বাচন হয়নি। বাকি ২৯৯টি আসনের নির্বাচনে বিএনপি জোট দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছে আমেরিকাও।

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের তরফে বাংলাদেশের নির্বাচনে বিএনপিকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

দূতাবাসের পোস্টে বলা হয়েছে, “একটি সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন। বিএনপি এবং তারেক রহমানকে তাদের ঐতিহাসিক বিজয়ের শুভেচ্ছা। আমাদের দুই দেশের সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার অভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে আপনাদের সাথে কাজ করারজন্য যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী”।



