Bad Road: রাস্তায় বড় বড় গর্ত, জমে রয়েছে বৃষ্টির জল! প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে দিনযাপন বনগাঁর বাসিন্দাদের , সোমবার থেকে ফের ভারী বৃষ্টির সতর্কতা বাংলায়

0
346

বনগাঁ – বাগদা ও যশোর রোডে বড় বড় গর্ত। বড় বড় গর্তে জমে রয়েছে বৃষ্টির জল। খানাখন্দে ভরা রাস্তা। গাড়ি, বাইক নিয়ে বা পায়ে হেঁটে চলাফেরা করাই দায়।

পুজোর আগে বেহাল উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক রাস্তা। বনগাঁ – বাগদা রাস্তা সহ যশোর রোডেও বড় বড় গর্তে – বৃষ্টির জল জমে চলাফেরা দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।  রাস্তায় বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ। যা নিয়ে শুরু হয়েছে তরজা।

খানাখন্দে ভরা রাস্তায়। গাড়ি, বাইক নিয়ে বা পায়ে হেঁটে চলাফেরা করাই দায়। এই দুই বেহাল রাস্তায় যে কোনও সময় ঘটে পারে বড়সড় দুর্ঘটনা। প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই রোজ ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করছেন অসংখ্য মানুষ। 

বনগাঁরর বাসিন্দা সন্তোষ দাস বলেন, রাস্তাঘাটের অবস্থা বিভিন্ন জায়গায় খারাপ। কিছু কিছু রাস্তা বনগাঁ পুরসভা মেরামত করেছে। কিন্তু, বিভিন্ন রাস্তা দেখা যাচ্ছে অনেক অসুবিধা। মতিগঞ্জ বাজার পেরোলে বড় বড় গর্ত। জল জমে থাকে। সাইকেল আরোহী যারা যায় তাদের বিপদ হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন দাস বলেন , ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের সামনে সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটু জল জমে যায় । নোংরা জলে বিপদজনক ভাবে যাতায়াত করতে হয় সাধারণ মানুষদেরকে । এলাকার প্রতিনিধি অমিতাভ দাস বলেন, এই এলাকায় ভারি বৃষ্টিতে জল জমলেও পুরসভার উদ্যোগে স্থানীয় কাউন্সিললের নেত্বৃতে পাম্প মেশিন চালিয়ে জমা জল বার করে দেওয়া হয় ।

বনগাঁ১৫নম্বর খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর চত্বরেরের জলছবি।


বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল শেঠের কথায়, পুজোর আগে আমাদের পুরসভার অন্তর্গত যে সমস্ত রাস্তা রয়েছে তা প্রথম পর্যায়ে ঠিক করা হয়েছে । তবে ভারি বৃষ্টির কারণে যেসমস্ত রাস্তা ফের খারাপ হয়েছে তা ঠিক করার পরিকল্পনা হয়েছে। প্রথম ধাপের কাজ  শুরু হয়েছে অনেক আগেই এবার দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের প্রক্রিয়া চলছে। খুব শ্রীঘই শুরু হবে। বাকি রাস্তার কাজ পুজোর আগে আমরা সম্পূর্ণ করব।

বিজেপি নেতা তথা ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবদাস মন্ডলের পাল্টা দাবি, রাজ্য সরকারের বেহাল দশা তা রাস্তা দেখলেই বোঝা যায় । পুজোর আগে না প্রশ্নটা হচ্ছে নির্বাচনের আগে এরা রাস্তা সংস্কার করার পরিকল্পনা করেছে। রাস্তার তালিকা আমরা জমা দিয়েছি। যা এখনও বেহাল। আরও আছে। যে ওয়ার্ডে কর কালেকশন হয় সেখানে হেঁটে গেলে পা মচকে যায়। পুজোর আগে কিছু কাজ হবে। পিচ ছড়ানো হবে। আর টাকা চলে যাবে তৃণমূলের লোকেদের হাতে। কবে বেহাল রাস্তা সারাই হয় এখন সেদিকেই তাকিয়ে বনগাঁর বাসিন্দারা। 

এদিকে দুর্যোগ কেটেও যেন কাটছে না, নিম্নচাপ সরেছে ঝাড়খণ্ডে। তবে বৃষ্টির দাপট এখনই কমছে না। শনিবার অবশ্য ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলা ছাড়া কোথাও তেমন বৃষ্টি হবে না। দক্ষিণবঙ্গের আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে। সেই সঙ্গে মাঝেমধ্যে রোদের দেখা মিলবে। তবে সোমবার থেকে ফের ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা দক্ষিণবঙ্গে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস।

গত বুধবার অবধি দক্ষিণবঙ্গে টানা বৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টি একটু কমেছে। শুক্রবার বৃষ্টির পরিমাণ আরও কমে যায়। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণের জেলায় জেলায়। বিশেষ করে গত সোমবার ও মঙ্গলবার দিনরাত হয়েছে বৃষ্টি। জনজীবন হয়ে পড়েছিল বিপর্যস্ত। কলকাতা সহ বিভিন্ন জেলা শহরের রাস্তায় রাস্তায় জল জমেছিল। যানজট ছিল তীব্র। যদিও সেই জল কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নেমেছে। তবে মানুষের ভোগান্তি হয়েছে। তবে ঝড় না হওয়ায় বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

এরপর বুধবার রাতেই হাওয়া অফিস জানিয়েছিল গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের ওপর থেকে নিম্নচাপ বর্তমানে ঝাড়খণ্ডের দিকে সরছে। বুধবার রাতেই বাংলার ওপর থেকে নিম্নচাপের প্রভাব সরেছে। গাঙ্গেয় পশ্চিমাঞ্চলের জেলার ওপর থেকেও নিম্নচাপ ক্রমশ সরছে। তার ফলে বৃহস্পতিবার থেকে আকাশ পরিস্কার হতে শুরু করে। শুক্রবার সকালেও রোদের দেখা মিলেছিল। 

নিম্নচাপ সরলেও সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখা বাংলার দিঘার উপর দিয়ে উত্তর–পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। যার জেরে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত চলবে। শনিবার দুই মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমানে বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেইসঙ্গে ঘণ্টায় ৩০–৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে। কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা সহ অন্য জেলাগুলি আজ শুষ্কই থাকবে। সোমবার অর্থাৎ আগামী সপ্তাহের শুরু থেকে ফের ভারী বৃষ্টির দাপট শুরু হবে। দক্ষিণবঙ্গের প্রতিটি জেলায় ১৪ ও ১৫ জুলাই ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

শনিবার উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টি কিছুটা কমবে। কোনও কোনও জেলায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। রবিবার ১৩ জুলাই থেকে আবহাওয়া ফের বদলাবে। রবিবার ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে। সোমবার উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহারেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। যা চলতে পারে বৃহস্পতিবার অবধি।

এরপর বুধবার রাতেই হাওয়া অফিস জানিয়েছিল গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের ওপর থেকে নিম্নচাপ বর্তমানে ঝাড়খণ্ডের দিকে সরছে। বুধবার রাতেই বাংলার ওপর থেকে নিম্নচাপের প্রভাব সরেছে। গাঙ্গেয় পশ্চিমাঞ্চলের জেলার ওপর থেকেও নিম্নচাপ ক্রমশ সরছে। তার ফলে বৃহস্পতিবার থেকে আকাশ পরিস্কার হতে শুরু করে। শুক্রবার সকালেও রোদের দেখা মিলেছিল। 

তবে বৃহস্পতিবারও দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল। তবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা ছিল পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম বর্ধমানে। এই জেলাগুলিতে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা ছিল। কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বাকি সব জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। 

শুক্রবারও হালকা বৃষ্টি হয় রাজ্যের একাধিক জেলায়। শনিবার অবশ্য আকাশ অনেকটাই পরিস্কার। তবে কিছু কিছু জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার থেকে কিন্তু দক্ষিণে আবার ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করল হাওয়া অফিস। শনিবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৩ ডিগ্রি বেশি।  

Previous articleAir India Plane crash report 10 pointsঠিক কী কারণে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনা, তদন্ত রিপোর্টে মূল যে বিষয়গুলি জানা গেল
Next articleKhuti Puja: গ্রামের পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য দুর্গাপূজার আগেই শিলিন্দা বিবেকানন্দ সংঘ ও পাঠাগার এর কালীপুজোর থিম প্রকাশিত হল খুঁটি পুজোয়: দেখুন ভিডিও

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here