

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এসেছেন নদিয়ায়। মায়াপুরে গিয়েছেন তিনি। নদিয়ার নবদ্বীপে জন্মেছিলেন শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু। আজ সেই মহাপ্রভুর পীঠস্থানে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছিল মায়াপুর থেকে কী বার্তা দেবেন শাহ। তবে ধর্মীয় স্থানে গিয়ে তিনি এক বর্ণও খরচ করেননি কোনও রাজনৈতিক শব্দ। শুধু চলে যাওয়ার আগে বলে গেলেন, “হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ…।”

বিধানসভা ভোটের আবহে ফের রাজ্য সফরে
এসে বুধবার মায়াপুরে গেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ । তবে মায়াপুরে গিয়ে নিজেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং চৈতন্য মহাপ্রভুর একনিষ্ঠ ভক্ত হিসেবে তুলে ধরলেন তিনি। শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর মহারাজের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি ‘হরে কৃষ্ণ’ ধ্বনি তোলেন এবং ভক্তদের উদ্দেশে বার্তা দেন।

মায়াপুরে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ জানান, বহুদিন ধরেই এখানে আসার ইচ্ছা ছিল তাঁর। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেই সফর বারবার পিছিয়েছে। অবশেষে পুণ্যভূমিতে এসে তিনি মানসিক শান্তি পেয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন। তাঁর কথায়, “আমি এখানে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আসিনি, চৈতন্য মহাপ্রভুর ভক্ত হিসেবে এসেছি।”

অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র শুভেচ্ছাবার্তা তুলে ধরেন। শাহ জানান, মোদী মন থেকে মায়াপুরের সমস্ত ভক্তকে ‘হরে কৃষ্ণ’ অভিবাদন জানিয়েছেন। সফরের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। উপস্থিত ভক্তদের উদ্দেশে শাহ বলেন, মহাপ্রভুর পবিত্র ভূমিতে এসে চেতনা জাগ্রত করার সুযোগ পাওয়ায় তিনি নিজেকে ধন্য মনে করছেন।
এই অনুষ্ঠান ছিল শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর মহারাজের ১২৫তম জন্মোৎসব উপলক্ষে। গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধারার অন্যতম প্রভাবশালী এই আচার্যের স্মরণে আয়োজিত কর্মসূচিতে ভক্তদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।

তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শাহের এই সফর নিছক ধর্মীয় কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাজ্যে নির্বাচন এগিয়ে আসার প্রেক্ষিতে তাঁর মায়াপুর সফরকে ঘিরে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। বক্তব্যের শুরুতেই ‘হরে কৃষ্ণ’ ধ্বনি এবং নিজেকে চৈতন্যভক্ত হিসেবে পরিচয় দেওয়াকে অনেকেই কৌশলগত পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভোটের আগে ধর্মীয় আবেগকে সামনে রেখে সমর্থন পোক্ত করার চেষ্টা করছে বিজেপি। বিশেষ করে বৈষ্ণব ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র মায়াপুরে এই সফর রাজনৈতিক বার্তাবাহী বলেই অনেকে ব্যাখ্যা করছেন।

সব মিলিয়ে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিতি এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট – দুই মিলিয়ে শাহের মায়াপুর সফর ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে। তিনি নিজে সফরকে আধ্যাত্মিক বলেই ব্যাখ্যা করলেও, রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।



