Air India Plane crash report 10 pointsঠিক কী কারণে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনা, তদন্ত রিপোর্টে মূল যে বিষয়গুলি জানা গেল

0
326

কয়েক সেকেন্ডের যান্ত্রীক গোলযোগ। যার মাশুল গুনতে হল কয়েকশো প্রাণকে। শনিবার মধ্যরাতে আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে একটি
১৫ পাতার প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে দেশের বিমান দুর্ঘটনা তদন্তাকারী সংস্থা এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো বা এএআইবি।

বিমান ওড়ার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বিমানের দু’টি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এএআইবি পরিভাষায় বলতে গেলে, সেকেন্ডের জন্য ইঞ্জিনগুলির ফুয়েলের সুইচ RUN থেকে CUTOFF হয়ে যায়। আবার সেকেন্ডের মধ্যে তা ON হলে আকাশে ওড়ার চেষ্টা করেন চালকরা। কিন্তু ততক্ষণে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছিল। ফুয়েলে ইঞ্জিনে সেকেন্ডের বিচ্ছেদ ততক্ষণে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে তাদের।

আমদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনার (Ahmedabad Air India Plane Crash) এক মাস পর অবশেষে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করল এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)। 

১৫ পাতার এই রিপোর্টে প্রথমবারের মতো সরকারি ভাবে জানানো হল কী ঘটেছিল সেই মর্মান্তিক মুহূর্তে। গত ১২ জুন বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারটি আমদাবাদ বিমানবন্দরের কাছে একটি মেডিকেল কলেজের হোস্টেলের উপর ভেঙে পড়ে। বিমানে থাকা ২৪১ জনের মধ্যে ২৪০ জনের মৃত্যু হয়, সেই সঙ্গে মারা যান দুর্ঘটনাস্থলে থাকা আরও ১৯ জন।

রিপোর্টের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় —
১. ফ্লাইট চলাকালীন ফুয়েল কাট-অফ সুইচ সক্রিয় হয়েছিল: স্থানীয় সময় ১টা ৩৮ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে বিমানটি ১৮০ নট গতিবেগে পৌঁছনোর পরেই, দুই ইঞ্জিনের ফুয়েল কাট-অফ সুইচ ‘Run’ থেকে ‘Cutoff’ পজিশনে চলে যায়।

২. প্রথম ইঞ্জিনে আংশিক পুনরুদ্ধার করা যায়। এক নম্বর ইঞ্জিন প্রথমে থেমে গেলেও কিছুটা সময় পর তার কোর ডিসিলারেশন বন্ধ হয় অর্থাৎ তার গতি কমে যাওয়া বন্ধ হয় এবং ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার শুরু হয়।

৩. ফুয়েল কাট অফ হওয়ার জন্য দ্বিতীয় ইঞ্জিনও একই সঙ্গে বন্ধ হয়। ২ নম্বর ইঞ্জিন পুনরায় চালু হলেও তার গতি কমতেই থাকে, এবং তাতে পুনরায় জ্বালানি সরবরাহ করেও তা সঠিক অবস্থায় ফেরানো যায়নি।

৪. ককপিটের সেই বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ ধরা পড়েছে রেকর্ডিংয়ে। ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে এক পাইলট তাঁর সতীর্থকে জিজ্ঞেস করেন, “তুমি কেন বন্ধ  করেছ?” উত্তরে অন্যজন বলেন, “আমি করিনি”— যা ভুল বোঝাবুঝির ইঙ্গিত দেয়।

৫. ইঞ্জিন রিলাইটের চেষ্টা যে হয়েছিল তারও ইঙ্গিত মিলেছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ফুয়েল সুইচ ফের ‘Run’ অবস্থায় আনা হয় এবং EGT বেড়ে যায়—যা ইঙ্গিত দেয় পুনরায় ইঞ্জিন চালুর চেষ্টা হয়েছিল।

৬. দুই ইঞ্জিনে গতি ন্যূনতম স্তরের নিচে নেমে যায়: EAFR ডেটা অনুযায়ী, ইঞ্জিন দুটির N2 মান (core speed) ন্যূনতম আইডল গতির নিচে চলে যায়।

৭. রিলাইট চেষ্টায় ইঞ্জিনের তাপমাত্রা বেড়েছিল: ফুয়েল সুইচ ফের ‘Run’ অবস্থায় আনলে EAFR ডেটায় দেখা যায় ইঞ্জিনের Exhaust Gas Temperature (EGT) বাড়ছে, যা ইঞ্জিনে জ্বলনের ইঙ্গিত দেয়।

৮. পিছনের ফ্লাইট রেকর্ডার ক্ষতিগ্রস্ত: দুর্ঘটনায় পিছনের রেকর্ডার এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় যে তা প্রচলিত পদ্ধতিতে ডেটা উদ্ধার সম্ভব হয়নি।

৯. আরও তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা: তদন্ত ব্যুরো জানিয়েছে, পরবর্তী পর্যায়ে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের কাছ থেকে আরও তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হবে।

১০. কোনও সুরক্ষা নির্দেশিকা এখনও দেওয়া হয়নি: রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মুহূর্তে বোয়িং ৭৮৭-৮ অথবা GE GEnx-1B ইঞ্জিন অপারেটরদের জন্য কোনও নিরাপত্তা সুপারিশ জারি করেনি AAIB।

কিন্তু ফুয়েলে ইঞ্জিনের এই বিচ্ছেদটা ঘটল কীভাবে? কেন্দ্রের কাছে থেকে এয়ার ইন্ডিয়া কেনার পর ঠিক মতো কি রক্ষণাবেক্ষণ করছিল না টাটা গোষ্ঠী?

এএআইবি তাদের রিপোর্টে জানিয়েছে, ২০১৮ সাল ফুয়েল সুইচ লক হলে কী কী হতে পারে সেই বিষয়ে একটি Special Airworthiness Information Bulletin (SAIB) প্রকাশ করেছিল আমেরিকার Federal Aviation Administration (FAA)।
এই নির্দেশিকা মেনে কোনও রক্ষণাবেক্ষণ করেনি এয়ার ইন্ডিয়া। কারণ তাদের মনে হয়েছিল এই নির্দেশিকা শুধুমাত্র একটি গাইডলাইন, বাধ্যতামূলক নয়।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে,
এই বিমানের রক্ষণাবেক্ষণের রিপোর্ট অনুযায়ী যে ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ ককপিটের Throttle control module-এর মধ্যে থাকে। যা আসলে সেই বিমানের ইঞ্জিনে পর্যাপ্ত বায়ু প্রবাহের মাধ্যমে দিয়ে তার গতিকে নিয়ন্ত্রণ করে।

সেই Throttle control module ২০১৯ এবং ২০২৩ সালে পরিবর্তন করা হয়েছিল। এদিকে ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ,যাতে সমস্যার কারণে এত বিপত্তি, সেই সমগ্র প্যানেল পরিবর্তন করা হয়নি।

দুর্ঘটনার পর অনেকেই অনুমান করেছিলেন, সম্ভবত বিমানের ফ্ল্যাপে বা সহজ ভাষায় বলতে গেলে ডানার অবস্থান কোনও গণ্ডগোল ছিল।

কিন্তু এএআইবি জানিয়েছে, তেমন কিছুই নয়। উড়ানের সময় বিমানের ওজন ও ফ্ল্যাপের পজিশন যেমন থাকা উচিত, তেমনটাই ছিল।

বিমানটি ওড়ার পর ১৮০ নটস গতিতে পৌঁছে গিয়েছিল, কিন্তু ফুয়েল সুইচ ‘কাট অফ’ হয়ে যায়, জ্বালানি সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইঞ্জিন দুটি বন্ধ হয়ে যায়।

রিপোর্টে জানানো হয়েছে যে ধ্বংসস্তূপ থেকে ইতিমধ্যেই দুটি ইঞ্জিন উদ্ধার করা হয়েছে, সেগুলি এয়ারপোর্টের হ্যাঙ্গারে রাখা হয়েছে। এছাড়া যে এলাকায় ভেঙে পড়েছিল বিমানটি, সেখানকার ছবি ও ভিডিয়োও সংগ্রহ করা হয়েছে। দেখা গিয়েছে, এয়ারপোর্টের প্রাচীর পার করার আগেই নীচের দিকে নামতে শুরু করে বিমানটি। বিমানের সামনে কোনও পাখির উপস্থিতি চোখে পড়েনি
এখনও অনুসন্ধান চলছে। বেশ কিছু অংশ সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এছাড়া বিমানের এক্সটেন্ডেড এয়ারফ্রেম ফ্লাইট রেকর্ডার (EAFR) এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে তা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

Previous articleJoka IIM Boys Hostelকসবার পর আইআইএম জোকা! এবার ছাত্রীকে বেহুঁশ করে ‘ধর্ষণ’ বয়েজ় হস্টেলে, দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়াকে গ্রেফতার করল পুলিশ
Next articleBad Road: রাস্তায় বড় বড় গর্ত, জমে রয়েছে বৃষ্টির জল! প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে দিনযাপন বনগাঁর বাসিন্দাদের , সোমবার থেকে ফের ভারী বৃষ্টির সতর্কতা বাংলায়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here