Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

Agriculture এক রোপণে পাঁচ ফলনের ‘পঞ্চব্রীহি’ ধান উদ্ভাবন বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর

deshersamay

Share article:
জাকির হোসেন, ঢাকা:

সাধারণত একবার রোপণে ধান গাছে একবার ফলন হয়। কিন্তু ফলন শেষ হওয়ার পর একটি ধান গাছ পুরোপুরি না কেটে একই গাছে বিভিন্ন মৌসুমে আরও চার রকমের ধান কীভাবে উৎপাদন সম্ভব, তা আবিষ্কার করেছেন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী। তিনি এ আবিষ্কারের নাম দিয়েছেন ‘পঞ্চব্রীহি’। ড. আবেদ চৌধুরী দেশের সময়কে জানালেন, এই নতুন ধান চাষ পদ্ধতি সারা দেশের কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া গেলে আগামী ৫০ বছরের জন্য গোটা জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে৷

তিনি জানান, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী মৌলভীবাজার জেলার হাজীপুর এলাকার কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে গবেষণা করেছেন। কোনো রাসায়নিক ছাড়াই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে প্রায় ৩ হাজার প্রজাতির ধানের মিশ্রণ ঘটিয়ে তিনি পাঁচ রকমের ধান গাছ আবিষ্কার করেছেন। যা চাষের জন্য নতুন করে পাঁচ রকমের ধানের চারা রোপণ করতে হবে না। এতে কৃষকের সময় যেমন বাঁচবে, তেমনি সাশ্রয় হবে অর্থ, বাড়বে উৎপাদন।

একই সঙ্গে এক জমিতে একবার চারা রোপণ করে বোরো, আউশ, আমনসহ বিভিন্ন মেয়াদে পাঁচ রকমের ধান উৎপাদন করা যাবে। ফলে দূর হবে দেশের খাদ্য সংকট। ড. আবেদ চৌধুরী আরও বলেন, ‘আমার এ আবিষ্কারের গবেষণাগার হলো মৌলভীবাজার জেলার সীমান্তবর্তী কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রাম, যে গ্রামে আমি বড় হয়েছি। সেখানে আমার গবেষণার সহযোগী ছিলেন সেসব নিরক্ষর কৃষক যাদের গায়ে লেগে থাকে বাংলার জল-কাদার গন্ধ। তারা দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ের গবেষণায় দিনরাত আমাকে সহযোগিতা করেছেন। এসব নিরক্ষর, সরলপ্রাণ, দেশপ্রেমিক কৃষককে সঙ্গে নিয়ে বিশ্বকে উপহার দিতে চাই উৎপাদনের শ্রেষ্ঠতম বিজ্ঞান। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে আমার আবিষ্কারকে ব্যবহার করতে চাই না। আমি চাই এ আবিষ্কার দেশের মানুষের জীবনমান বদলে দিক। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক সকল মানুষের জন্য।’

দীর্ঘদিন ধরেই ধান নিয়ে কাজ করছেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী জিন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী। সেই গবেষণার ফসল হিসেবে বোরো জাতের নতুন ধান গাছ উদ্ভাবন করে চমক সৃষ্টি করেছেন তিনি। এখন তিনি কাজ করছেন বছরে ছয়বার ফসল পাওয়া নিয়ে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে অস্ট্রেলিয়া হাইকমিশনের অর্থায়নে বিডিওএসএন-এর তত্ত্বাবধানে এক বছর মেয়াদি (আইভিইএমআরভিএম) প্রকল্পের মাধ্যমে উচ্চ ফলনশীল ধানের এ জাতের চাষ করা হয়েছে। পরে ধানের এ বীজ কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

২০১০ সালে প্রথম তার নিজ উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামে ২৫ বর্গমিটার জমিতে ২০টি ধানের জাত নিয়ে গবেষণা শুরু করেন আবেদ চৌধুরী। তিন বছরে ২০টি ধানের জাত নিয়ে গবেষণা করলে দেখা যায় নির্দিষ্ট ধরনের এ জাত একই গাছে পাঁচবার ফলন দিতে সক্ষম। স্থানীয় জাতের ধানের সঙ্গে উন্নতমানের ধানের বীজ সংকরায়ণ করে এই উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত পাওয়া যায়। নতুন পঞ্চব্রীহি ধানের জাত বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলে এখন ছড়িয়ে দেওয়ার উপযোগী হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবেদ চৌধুরী। এ জন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। এ ধান তিন গুণ কম খরচে উৎপাদন করা যাবে বলে জানান এ বিজ্ঞানী।

পঞ্চব্রীহি ধান চাষে প্রথমবার ১১০ দিন পর ফলন আসে। পরের ফলন আসে ৪৫ দিন পর পর। একবার বোরো, দুবার আউশ ও দুবার আমন ধানের ফলন পাওয়া যাবে। পঞ্চব্রীহি ধান প্রথমবার হেক্টরপ্রতি উৎপাদন হয় ৪ টন। ধানের চারা প্রতি ৪ সেন্টিমিটার দূরত্বে রোপণ করতে হয়। আবেদ চৌধুরী জানান, ঋতুনির্ভরতা ধানের হাজার বছরের চরিত্র। পঞ্চব্রীহি ধানকে ঋতুনির্ভরতা থেকে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছি। এ ধান পুরো উপমহাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া এটি উৎপাদনে কৃষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ড. আবেদ চৌধুরী একদল অস্ট্রেলীয় বিজ্ঞানীর সঙ্গে ফিস (ইনডিপেনডেন্ট সিড) জিন আবিষ্কার করেন। তিনি লাল রঙের চাল ও রঙিন ভুট্টাও উদ্ভাবন করেছেন।

Advertisement
Tags: featured

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন