বস্তারে জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি মোদীর, কুর্নিশ জানাবেন বীর সেনাদের ,BSF-র সঙ্গে দীপাবলি পালন করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
deshersamay

মার্চের ডেডলাইনের পর সম্পূর্ণ নকশালমুক্ত ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চলে এবার দীপাবলি উদযাপন করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একসময়ের ত্রাস ও মাওবাদীদের শক্তঘাঁটি আজ শান্তি ও উন্নয়নের আলোয় সেজে উঠেছে। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বজায় রেখে এই সফরে দেশের বীর জওয়ানদের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানাবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি, সাম্প্রতিক এনকাউন্টার ও মাওবাদীদের মূলস্রোতে ফেরার খবরের মাঝেই দেশের প্রতিরক্ষা খাতের অগ্রগতি এবং আত্মনির্ভর ভারতের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। অন্যদিকে,প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেখানো পথেই এবার দীপাবলি উদযাপন করতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম দীপাবলি। আর সেই বিশেষ উপলক্ষে সীমান্তে কর্তব্যরত বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের সুন্দরবন এলাকার হিঙ্গলগঞ্জে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম দীপাবলি।

নকশালমুক্ত বস্তারেই জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি পালন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । গত মে মাসেই কেন্দ্র সরকারের তরফে বস্তার এলাকাকে সম্পূর্ণ নকশালমুক্ত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। মাওবাদীদের একসময়ের দুর্গে দাঁড়িয়েই এবার আলোর উৎসব উদযাপনে শামিল হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেই এই সফরের কথা জানিয়েছেন তিনি।

এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “আমাদের সাহসী নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে দীপাবলি উদযাপন করতে বস্তারের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। একসময় যে এলাকায় মাওবাদের দাপট ছিল, আজ সেখানে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। দেশের প্রতি আত্মত্যাগ, নিঃস্বার্থ পরিষেবা এবং অটল নিষ্ঠার জন্য আমাদের বীর জওয়ানদের কুর্নিশ জানাতেই আমি সেখানে যাচ্ছি।” ২০১ কোবরা ব্যাটেলিয়নের মেইন অফিস করণপুরে। জানা গিয়েছে, সেখানেই যাবেন প্রধানমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর আসার জন্য তোড়জোড় শুরু হয়েছে। মাওবাদী দমনে অন্ত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে কোবরা।

চলতি বছরের মার্চ মাসেই দেশ থেকে নকশাল দমনে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল। গত দেড় থেকে দুই বছরে নিরাপত্তা বাহিনীর লাগাতার অভিযানে শতাধিক মাওবাদী এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে। খতম হয়েছে একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বও। পাশাপাশি, মূলস্রোতে ফিরে এসেছেন কয়েকশ মাওবাদী ক্যাডার। কিছুদিন আগেই ছত্তিশগড়ের মহিলা মাওবাদীরা অস্ত্র ছেড়ে শাড়ি পরে র্যাম্পে হেঁটে সমাজের মূলস্রোতে ফেরার বার্তা দিয়েছেন। গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে যে সমস্ত এলাকা মাওবাদীদের কবজায় ছিল, সেখানে এখন প্রশাসনিক স্তরে উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে। এমন এক পরিবর্তনের আবহেই বস্তার সফরে প্রধানমন্ত্রী।
সেনাবাহিনীর সঙ্গে দীপাবলি উদযাপনের এই দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য এবছরও বজায় রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। দীপাবলির প্রাক্কালে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের অন্নদাতা, সৈনিক এবং প্রতিটি নাগরিকের হাত ধরেই দেশ এগিয়ে চলেছে। একই সঙ্গে তিনি দেশের ক্রমবর্ধমান আত্মনির্ভরতা, আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ব্রহ্মোস (BrahMos) ক্ষেপণাস্ত্রের বিশ্বজোড়া চাহিদার কথাও তুলে ধরেন। দেশীয় উৎপাদন এবং স্টার্টআপ সংস্কৃতির হাত ধরে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানি ৩০ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান তিনি।

কেন্দ্রীয় সরকারের গত ৩১ মার্চের ঘোষণা অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের নকশাল সমস্যার স্থায়ী অবসান ঘটিয়ে বস্তারকে মাওবাদীমুক্ত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সুপরিকল্পিত অপারেশন এবং কূটনৈতিক পদক্ষেপের ফলেই বস্তারের মতো দুর্গম এলাকায় আজ শান্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে বস্তারের জঙ্গল আজ উন্নয়নের আলোয় সেজে উঠেছে। আর সেই ঐতিহাসিক সাফল্যের আবহেই জওয়ানদের সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানাতে দীপাবলির উৎসবে সামিল হচ্ছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী।
