ইতিহাসে প্রথমবার মক্কায় এয়ার স্ট্রাইক অ্যালার্ট! নজিরবিহীন সতর্কতা সৌদিতে , সমস্ত বিমান পরিষেবা স্থগিত
deshersamay

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের আঁচ এ বার পৌঁছল ইসলামের পবিত্রতম শহর মক্কায়। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের একের পর এক হামলার জেরে মঙ্গলবার সৌদি আরবের মক্কা, জেড্ডা এবং তাইফে শহরে আকাশপথে সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা জারি করেছে সৌদি সিভিল ডিফেন্স। মক্কার ক্ষেত্রে এমন সতর্কতা জারির ঘটনা নজিরবিহীন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, পবিত্র মক্কায় এমন হামলার আশঙ্কা এই প্রথম। যদিও কয়েক মিনিটের মধ্যেই এই সতর্কতা তুলে নেওয়া হয় বলে খবর। এখনও মক্কায় কোনও হামলা বা ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।

ইতিহাস প্রথমবারের মতো ইসলামের পবিত্রতম শহর মক্কা ছাড়াও জেদ্দা এবং তায়েফ গভর্নরশিপসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলে হঠাৎই বিমান হামলার সতর্কবার্তা জারি করে সৌদির সিভিল ডিফেন্স। যদিও পরবর্তীতে সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে নিশ্চিত করা হয় যে মক্কায় বিপদের সম্ভাবনা কেটে গিয়েছে এবং নাগরিকদের নিরাপদ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘হায়োম’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ রাখতে হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের ওপর একের পর এক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এটিই সৌদির ওপর হুথিদের চালানো সবচেয়ে বড় হামলা, যেখানে সৌদি আরবের একাধিক তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায় এবং অন্তত ৭৩ জন আহত হন। জবাবে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকার এবং সৌদির যৌথ বাহিনী ইয়েমেনের তাইজ শহরের কাছে একাধিক স্থানে পাল্টা বিমান হামলা চালিয়েছে। এছাড়াও খামিস মুসাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতেও একযোগে বহু ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন দিয়ে বড় মাপের হামলা চালানোর দাবি করেছে হুথি গোষ্ঠী।

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের দাবি ছিল, তারা মক্কার দিকে ধেয়ে আসা একটি হুথি ড্রোন মাঝ আকাশেই ভূপাতিত করেছে। তবে এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে হুথি নেতৃত্ব। হুথিদের পলিটব্যুরো সদস্য হাজেম আল-আসাদ সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করার খবরটি একটি পুরোনো এবং ভিত্তিহীন মিথ্যাচার, যা এখন আর কাউকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না। পাশাপাশি তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, সৌদির আগ্রাসন বজায় থাকলে ইয়েমেনি বাহিনীর পাল্টা জবাব ও হামলা আরও মারাত্মক রূপ নেবে।

ইয়েমেন গৃহযুদ্ধ নতুন করে উত্তপ্ত হওয়ার পেছনে রয়েছে গত জুলাই মাসে হুথিদের ঘোষিত লোহিত সাগরের সামুদ্রিক অবরোধ এবং সৌদির জাহাজে লাগাতার আক্রমণ। লোহিত সাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদাব প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ইব্রাহিম আল হাশমি সতর্ক করে বলেছেন, এই সামুদ্রিক পথ বন্ধ হলে তা সমগ্র বিশ্বের জন্য এক মারাত্মক ও বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি করবে। এদিকে, এই যুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার জন্য সৌদি যুবরাজের দেওয়া অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, হুথিরা ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটনের সাথে যোগাযোগ করে এই যুদ্ধে আমেরিকাকে নাক না গলানোর অনুরোধ জানিয়েছে। লোহিত সাগরে হুথিদের এই ঝোড়ো অগ্রগতির সামনে দাঁড়িয়ে আপাতত নিজেদের কৌশল ও বিকল্প রাস্তা খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে রিয়াদের শীর্ষ নেতৃত্ব।
A warning has been issued by the National Early Warning Platform in Mecca City to alert of a potential danger. Please follow the instructions below: pic.twitter.com/IwvWhhKMan
— الدفاع المدني السعودي (@SaudiDCD) September 15, 2026
এ বারের পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ একই সময়ে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ঘিরে হুথিদের সামরিক তৎপরতা বেড়েছে। বাব আল-মান্দাব প্রণালীর কাছে তাদের অগ্রগতি আন্তর্জাতিক জাহাজ পরিবহণ ও সৌদির তেল রপ্তানি নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনেও সাম্প্রতিক হামলার পরে আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।মক্কার আকাশে জারি হওয়া এই সতর্কতা তাই শুধু একটি স্থানীয় নিরাপত্তা ঘটনা নয়, বরং ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত যে আরও বিস্তৃত নিরাপত্তা সংকটে পরিণত হচ্ছে, তারই এক নতুন দিক হিসেবে সামনে এসেছে।

