‘চিন্তা করতে হবে না’, শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর! কোর্টের রায় উল্লেখ কী বার্তা দিলেন?
deshersamay

শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে ফের রাজ্যবাসীকে আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর। শনিবার রাজ্য তথা দেশ জুড়ে পালিত হচ্ছে শিক্ষক দিবস। রাজ্য সরকারি একটি অনুষ্ঠান থেকেই এ সংক্রান্ত বক্তব্য রাখেন শুভেন্দু অধিকারী। বিগত সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে এ দিন সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং প্রশাসনিক পদ পূরণের প্রতিশ্রতি দেন মুখ্যমন্ত্রী।

শনিবার বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে শিক্ষক দিবস উদযাপনের জন্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় রাজ্য সরকারের তরফে। সরকারের তরফে নির্বাচিত শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘বিদ্যাসাগর শিক্ষক সম্মান’-এর পুরস্কার। অনুষ্ঠানের সেই মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী বড় ঘোষণা করেন শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে। বিগত সরকারের আমলে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ, চাকরিহারা শিক্ষকদের দুরবস্থা এবং দীর্ঘদিন শূন্যপদ ভরাট না হওয়ায় শিক্ষাব্যবস্থায় যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে, তার বিরুদ্ধে সরব হন শুভেন্দু অধিকারী।

অনুষ্ঠানের ওই মঞ্চ থেকেই আজ তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যে পদ্ধতিতে শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে, শিক্ষক শব্দের পদমর্যাদা আজ কি সেই জায়গা আছে আপনিই বলুন? গোটা ব্যবস্থা পুনর্নিমাণের দরকার নেই? উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে উপযুক্ত আচার্য নিয়োগ করতে হবে। শিক্ষা কর্মী নিয়োগ করতে হবে। লাইব্রেরিয়ান, ল্যাব কর্মী নিয়োগ করতে হবে। স্কুলেও ঘন্টা বাজানোর লোক প্রয়োজন।”

সম্প্রতি কলকাতার উপকণ্ঠে মিত্র ইনস্টিটিউশনে সাপের কামড়ে এক পড়ুয়া আক্রান্ত হয়। এরপর ভর্তি করা হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। তা-ও বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে বলে দাবি করেন শুভেন্দু। বলেন, “তৃণমূল সরকাুল্তিগত ন বছর কম্পোজিট গ্রান্ট দেয়নি ভাবতে পারেন। খেলা, মেলা, পুজোয় চাঁদা এই সবের তো অভাব ছিল না। ভাবতে পারেন? এইগুলো সরকারকে ভাবতে হবে।”

পাশাপাশি, সম্প্রতি সরকারি ঘোষণা নিয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি। বলেন, “কখনও ভেবে ছিলেন এসএসসি চেয়ারম্যান হবে এসিএস পদমর্যাদার কোন আধিকারিক? এখন মহারাজদেরও শিক্ষাব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের হাতেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এটাও একটা সংস্কার।”

শুভেন্দু প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “আমরা শিক্ষক নিয়োগ করে দেব। সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট এর নির্দেশ মেনে করে দেব। চিন্তা করতে হবে না। আমরা ওবিসি আইন সংশোধন করেছি। যাদের অন্যায় ভাবে ওবিসি করা হয়েছিল। এ ছাড়া, মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়ে আর কোনও নিয়োগ হবে না। স্বচ্ছতা বজায় রেখে সব ওয়েবসাইটে দিয়ে দেওয়া হবে। আমাদের কাছে মেধাই আসল মাপকাঠি হবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে মৌখিকের ক্ষেত্রে এত নম্বর রেখেছিলেন কেন? আমি বলেছি, ৫ নম্বর এর বেশি মৌখিক রাখবেন না।”

