প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News
জন্মাষ্টমী তিথিতে বনগাঁর রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাড়িতে দেবী দুর্গার কাঠাম পূজোর শুরু: দেখুন ভিডিও বনগাঁর স্বাদমোতী হোটেলে মিলল পচা মাংস ও মেয়াদ উত্তীর্ণ আলু , মিলেছে পোকা-মাকড়! বারবার অভিযানেও বদলাচ্ছে না অস্বাস্থ্যকর ছবি ৪ হাজার টাকার ইলিশ নিয়ে পগারপার মহিলা , মধ্যমগ্রাম মাছের বাজারের এমন কাণ্ডে হতবাক স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষে বাঙালির আবেগ উস্কে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পুজোর পরই পুরভোট! আপনার এলাকা কি তালিকায় আছে? আগামিকাল জেলাশাসকদের নিয়ে বৈঠকে রাজ্য নির্বাচন কমিশন, প্রস্তুতি তুঙ্গে

বনগাঁর স্বাদমোতী হোটেলে মিলল পচা মাংস ও মেয়াদ উত্তীর্ণ আলু , মিলেছে পোকা-মাকড়! বারবার অভিযানেও বদলাচ্ছে না অস্বাস্থ্যকর ছবি

deshersamay

Share article:

ভাবছেন খাবার,কিন্তু কিনছেন বিষ! কোথাও পচা মাংস! কোথাও আবার পুকুরের জলে তৈরি বিরিয়ানি। রেস্তোরাঁ থেকে দোকানে, দিকে দিকে অভিযানে অনিয়মের পর্দাফাঁস। মঙ্গলবার, বুধবারের পর ফের বৃহস্পতিবারও জেলায় জেলায় অভিযান চালাল খাদ্য সুরক্ষা দফতর ও জেলা পুলিশের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ। কখনও হানা দোকানে, কখনও আবার হোটেল ও রেস্তোরাঁয়। আর হানা দেওয়ার পর যে ছবি সামনে এসেছে তা সত্যিই ভয়ঙ্কর।

রাজ্যের বিভিন্ন রেস্তরাঁ, দোকানগুলিতে অভিযান চালাচ্ছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর। আর তাতেই উঠে আসছে বিস্তর বেনিয়মের অভিযোগ। কোথাও মিলছে পচা মাংস, কোথাও মিলেছে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ সামগ্রী। এই আবহে পচা খাবার ও জলে ভেজাল রুখতে কড়া পদক্ষেপ করেছে স্বাস্থ্য দফতর। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ১৩টি ফুড প্রসেসিং ইউনিটের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। ৫টি নামী রেস্তরাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ড বা বাতিল করা হয়েছে।

এই আবহে বৃহস্পতিবার বনগাঁও বাদুড়িয়ায় বিভিন্ন দোকানে খাদ্য দফতরের অভিযান চালায়। আর খাদ্য সুরক্ষা দফতরের হাতে আসে পচা মাংস, পচা মাশরুম ও মেয়াদ উত্তীর্ণ দুধ ।

বনগাঁর বাটার মোড়ে স্বাদমোতী হোটেলে খাদ্য দফতর অভিযান চালায়। আর খাদ্য সুরক্ষা দফতরের হাতে আসে পচা মাংস, পচা ডিম , আলুতে  ফাংগাস মিলেছে ।বারবার অভিযানেও বদলাচ্ছে না অস্বাস্থ্যকর ছবি । কিছুদিন আগেই বাটা মোড়ের এই হোটেলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ মজুমদারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিল বনগাঁর শিক্ষিত সমাজ , স্থানীয় বাসিন্দারা । তাঁদের অভিযোগছিল , রেস্টুরেন্টে  বিরিয়ানির মধ্যে বিশেষ একটি গুঁড়ো মশলা মিশিয়ে আরও বেশি মুখরোচক তৈরী করে শাহী বিরিয়ানি নাম দিয়ে বিক্রি করছেন দোকানের মালিক । এর ফলে ওই খাবার খেয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন বলে ধারণা অভিযোগকারিদের।দেখুন সেইভিডিও

এবিষয়ে বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান দীলিপ মজুমদার  বলেন , কিছুদিন আগেই  বিজেপির একটি সংগঠন থেকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিল । বনগাঁর বাটামোড় এলাকার এই  রেস্টুরেন্টে শাহী বিরিয়ানির মধ্যে বিশেষ কিছু মশলা মিশিয়ে আরও বেশি মুখরোচক তৈরী করে বিক্রি করছেন । এর ফলে ওই খাবার খেয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন বলে ধারণা তাঁদের। এই ঘটনা সামনে আসতেই পুরসভার উদ্যোগে পুরসভার লাইসেন্স দপ্তর , পুরসভার এস আই একং খাদ্য পরিদর্শক সহ পুলিশ প্রশাসনের একটি বড় দল তদন্তে নেমে বেশ কিছু নমুনা সংগ্রহ করে খাদ্য ভবন ও ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছিল সেই সময় । কিন্তু পরে জানা গেছে, স্বাদ মোতী রেস্টুরেন্ট সেই সময় বন্ধ থাকায় নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি । এবার বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই রেস্টুরেন্টে হানা দেয় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের প্রতিনিধি সহ পুলিশ প্রশাসন। উপস্থিত ছিলেন বনগাঁ মহকুমাশাসক প্রগতী নটিয়াল ।

বাদুড়িয়ায় রেস্তোরাঁয় জেলা প্রশাসনের কর্তারা।

দু’দিন আগে জেলা প্রশাসনের অভিযানে উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁ থেকে পচা মাংস পাওয়া গিয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল, সেই সব পচা মাংসই রান্না করে খদ্দেরকে খেতে দেওয়া হয়। যা উস্কে দেয় ২০১৮ সালের সেই ভাগাড়-কাণ্ডের স্মৃতিও। কিন্তু প্রশাসনের সেই অভিযানের পরেও বদলায়নি হোটেল-রেস্তোরাঁর অস্বাস্থ্যকর ছবি। বৃহস্পতিবারও বেশ কিছু জায়গায় প্রশাসনের অভিযানে মিলল পচা মাংস আর মেয়াদ উত্তীর্ণ দুধ ও মাশরুম।

এ দিনের তল্লাশিতে প্রথমেই রান্নাঘরের মজুত মাংসের গুণমান পরীক্ষা করা হয়। তখনই নজরে আসে মাংস পচে গিয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি মিষ্টির দোকানের ছানা পরীক্ষা করা হয়। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, একাধিক রেস্তোরাঁ থেকে উদ্ধার হওয়া পচা মাংস, মেয়াদ শেষ হওয়া দুধ, মাশরুম এবং খাবারে মেশানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের অস্বাস্থ্যকর রং বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক অপরাজিতা মজুমদার বলেন, ‘প্রতিটি দোকানেই নোটিস দেওয়া হয়েছে খাদ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উপযুক্ত প্রমাণ-সহ নোটিসের জবাব না দিতে পারলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাও গ্রহণ করবে খাদ্য দপ্তর।’

কোন কোন রেস্তরাঁর লাইসেন্স বাতিল?
স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মোট ১৭৩০টি ফুড সেন্টারে অভিযান চালানো হয়েছে। তার মধ্যে অন্তত ১৫২৫টি-তে অনিয়ম ধরা পড়েছে। সবথেকে বেসি অনিয়ম ধরা পড়েছে ডায়মন্ডহারবারে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৫টি রেস্তরাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে, মধ্যমগ্রামের রঙ দে বসন্তি ধাবা, সেক্টর ফাইভের আরডিবি মলের ‘অ‌্যাবসিলিউট বারবিকিউ নেশন’, মধ‌্যমগ্রামের জাস্ট বাঙালি, সোদপুরের ‘বারবিকিউ নেশন, সেক্টর থ্রি-র ‘চৌরাসিয়া চাটস’। ১৩টি ফুড প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি জলের কারখানা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কী বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী?
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “সময় দেওয়া হয়েছে ঠিক করে নেওয়ার। এরকম নয় যে গেলাম আর ঝাঁপ বন্ধ করে দিলাম। সবাই ব্যবসা করছে। অনেক লোকের রুটি-রুজি চলে। অনেকের উনুন এই ব্যবসার জন্যই চলে।” কোন জেলায় কী পরিস্থিতি তারও রিপোর্ট দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। যেমন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ২১৫টি দোকান, উত্তর ২৪ পরগনায় ১২৮, পূর্ব বর্ধমানে ১২৯টি, কলকাতায় ৯৬টি,পশ্চিম বর্ধমানে ৬৫টি, নদিয়ায় ৬০টি ,পশ্চিম মেদিনীপুরে ৫১টি দোকান, কোচবিহারে ৮৩টি, বসিরহাটে ৭৭টি দোকানে অনিয়ম ধরা পড়েছে।

Tags: জেলা

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন