এক মাসেই নাগরিকত্ব মিলবে ডিএম অফিসে, বিজ্ঞপ্তি কেন্দ্রের, খুশি উদ্বাস্তুরা
deshersamay

উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্বের শংসাপত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মের সরলীকরণ করল কেন্দ্রীয় সরকার। এ বার থেকে নাগরিকত্বের আবেদনপত্র খতিয়ে দেখা এবং শুনানির শেষে সন্তুষ্ট হলে জেলাশাসকের মাধ্যমেই মতুয়া এবং উদ্বাস্তুরা ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেয়ে যাবেন বলে বুধবার কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দিয়েছে।

সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের ৬বি ধারা অনুযায়ী আবেদন গ্রহণ, নথিপত্র পরীক্ষা এবং নাগরিকত্ব মঞ্জুরের ক্ষেত্রে জেলাশাসককেই মূল উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
এর ফলে এক মাসের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষে জেলাশাসক নাগরিকত্বের শংসাপত্র তুলে দিতে পারবেন। কেন্দ্রের এই সরলীকরণের নির্দেশ জারি হওয়ায় মতুয়া সম্প্রদায় থেকে উদ্বাস্তুরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিজেপি এবং তৃণমূল প্রভাবিত অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের পদাধিকারীরাও সাধুবাদ জানিয়েছেন।

ধর্মীয় অত্যাচারের শিকার হয়ে বাংলাদেশ থেকে গত কয়েক বছরে লক্ষ লক্ষ মতুয়া ও উদ্বাস্তু ভারতে চলে এসেছিলেন। গোটা রাজ্যজুড়ে মতুয়ারা বসবাস করলেও বনগাঁ মহকুমা এবং নদিয়া জেলায় মতুয়াদের বসবাস সবচেয়ে বেশি। প্রতি ভোটেই সিএএ কার্যকর করার আশ্বাস দিয়ে ভোট বৈতরণী পার হয়েছে বিজেপি। কিন্তু নাগরিকত্ব না পাওয়ায় মতুয়াদের বড় অংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।
বিধানসভা ভোটের আগে দেশজুড়ে শুরু হওয়া স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (সার)–এর জেরে কয়েক লক্ষ মতুয়ার নাম বাদ গিয়েছে। ভোটাধিকারের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হয়েছেন মতুয়ারা। এতদিন নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেতে উদ্বাস্তুদের কেন্দ্রের সরকারের শর্ত অনুযায়ী নথি দিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হতো।
আবেদনের শুনানি হতো পোস্ট অফিসে। স্বাভাবিক ভাবেই পোস্ট অফিসগুলিতে ভিড় বাড়ছিল। পোস্ট অফিসে শুনানির পর সেই নথিপত্র পাঠানো হতো কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে। সেখানেও একদফা এনকোয়ারির পর কেন্দ্রের নির্দিষ্ট করা দপ্তর থেকে মতুয়া ও উদ্বাস্তুরা নাগরিকত্বের শংসাপত্র হাতে পেতেন। এই গোটা প্রক্রিয়া শেষ করে শংসাপত্র পেতে এক থেকে দেড় বছর লেগে যেত।

জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত গোটা রাজ্যে প্রায় ২৩ লক্ষ মানুষ এ দেশের নাগরিকত্বের শংসাপত্র পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। আর শংসাপত্র হাতে পেয়েছেন মাত্র ২৩ হাজার। বুধবার কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, এ বার থেকে জেলাশাসকের মাধ্যমে নাগরিকত্বের শংসাপত্র দেওয়া হবে।
তদন্তসাপেক্ষে আবেদনকারী উপযুক্ত ও যোগ্য ব্যক্তি বলে নিশ্চিত হলে জেলাশাসক সরাসরি তাঁকে ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদান করতে পারবেন। নতুন এই নিয়মাবলী পশ্চিমবঙ্গ, অসম (জনজাতি এলাকা ছাড়া), ত্রিপুরা (জনজাতি এলাকা ছাড়া), গুজরাট, রাজস্থান এবং পাঞ্জাব। আর জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ (কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল)।

জেলাশাসক আবেদনপত্র খতিয়ে দেখবেন। জেলাশাসকের দপ্তরেই শুনানি হবে। এবং প্রয়োজনীয় নথি খতিয়ে দেখে শুনানিতে সন্তুষ্ট হওয়ার পর নাগরিকত্বের শংসাপত্র জেলাশাসকের মাধ্যমেই পেয়ে যাবেন উদ্বাস্তুরা। এর ফলে তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যেই শংসাপত্র মিলবে।
এই প্রসঙ্গে গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর বলেন, ‘সরলীকরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।’ বিজেপি প্রভাবিত অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক সুকেশ গাইন বলেন, ‘আগের প্রক্রিয়ায় এক থেকে দেড় বছর লেগে যেত। জেলাশাসকের মাধ্যমে হলে মতুয়াদের সুবিধা হবে।’
তৃণমূলের অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি মমতাবালা ঠাকুর বলেন, ‘এতদিন শিবির করে মতুয়াদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা তোলা হয়েছে, সেই টাকা কি ফেরত দেওয়া হবে?’

প্রসঙ্গত, চলতি মাসেই সিএএ শংসাপত্র প্রদান সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, আগামী ছ’ মাসের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত পেন্ডিং সিএএ আবেদন নিষ্পত্তির চূড়ান্ত লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, গুজরাত বা রাজস্থানের ধাঁচে এবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের (West Bengal) জেলা শাসকদের (DM) হাতেও দ্রুত সিএএ নিষ্পত্তির আইনি ও প্রশাসনিক ক্ষমতা অর্পণ করতে চলেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সেই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিই বৃহস্পতিবার জারি হল।
