প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

২০ তারিখেও অন্নপূর্ণার অর্থ না ঢোকায় জেলায় জেলায় বিক্ষোভ,  বনগাঁ পুরসভা ঘিরে পথ অবরোধ,‌ সমস্যা কোথায়?

deshersamay

Share article:

অন্নপূর্ণা যোজনার অগস্ট মাসের টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে ১৭ অগস্ট থেকে। সে দিন থেকে ২০ অগস্ট পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৪৫ লক্ষ উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করেও টাকা না মেলায় বৃহস্পতিবার জেলায় জেলায় বিক্ষোভ দেখান অনেকে। এমনকী কোচবিহারে নারী ও শিশুকল্যাণ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী মালতি রাভা রায়ের বাড়ির সামনেও এ দিন বিক্ষোভ দেখানো হয় বলে অভিযোগ।

রাজ্য সরকারের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ আর্থিক সুবিধাভোগীদের অ্যাকাউন্টে না পৌঁছানোয় ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হলো কোচবিহার, বালুরঘাট থেকে শুরু করে বর্ধমানের কাটোয়া, বীরভূমের বোলপুর, উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম, অশোকনগর , বনগাঁ এলাকায়। প্রকল্পের প্রাপ্য ভাতা থেকে বঞ্চিত হওয়ার প্রতিবাদে পুরসভা ভবনের সামনে জড়ো হয়ে সোচ্চার হন স্থানীয় অসংখ্য মহিলা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে একপর্যায়ে তাঁরা সড়ক অবরোধ করেন, যার ফলে ব্যস্ততম ওই এলাকায় বেশ কিছুক্ষণ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

প্রতিবাদীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি নির্দেশিকা মেনে তাঁরা নির্ধারিত সময়ে একাধিকবার প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র দিয়ে আবেদন জমা দিয়েছিলেন। সরকারিভাবে সমস্ত উপযুক্ত আবেদনকারীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কার্যক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে বিপুলসংখ্যক দুঃস্থ নারী এই সুবিধার বাইরে রয়ে গেছেন। বারবার আবেদন জানানোর পর এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ জমা দেওয়া সত্ত্বেও তাঁদের অ্যাকাউন্টে অর্থ পৌঁছায়নি।

অভিযোগের মাত্রা চরম রূপ নিলে প্রতিবাদীরা পুরসভার মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, তিন-তিনবার চেষ্টা করার পরও কেন তাঁদের বঞ্চনার স্বীকার হতে হলো, প্রশাসনকে তার জবাব দিতে হবে। বঞ্চনার শিকার হওয়া নারীদের দাবি, অবিলম্বে আবেদনপত্রগুলি নতুন করে খতিয়ে দেখে তাঁদের পাওনা অর্থ প্রদান করতে হবে। সব যোগ্য আবেদনকারী যাতে সমান সুবিধা পান, তা সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তাঁরা সতর্ক করেছেন যে, দ্রুত সমস্যা সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় মাপের ও টানা আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়া হবে।‌

প্রতিবাদ জানানো পরিবারগুলির বড় অংশই দিনমজুর কিংবা অত্যন্ত সীমিত আয়ের ওপর নির্ভরশীল। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অগ্নিমূল্যের বাজারে প্রাপ্য সরকারি সাহায্য না পাওয়ায় তাঁদের সংসার চালাতে মারাত্মক হিমশিম খেতে হচ্ছে। অসন্তোষের প্রধান কারণ হিসেবে তাঁরা বৈষম্যের অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তাঁদের দাবি, যেখানে বহু প্রকৃত অভাবী ও উপযুক্ত নারী সুবিধা পাচ্ছেন না, সেখানে প্রভাব খাটিয়ে অনভিপ্রেত বা অযোগ্য ব্যক্তিরা এই ভাতার অর্থ পেয়ে যাচ্ছেন।

বনগাঁর বিভিন্ন ওয়ার্ডের বঞ্চিত বাসিন্দারা জানালেন, সরকারি নির্দেশ মেনে তাঁরা কেউ তিনবার, কেউ চারবার আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত একবারও টাকা পান নি। গতকাল দুপুর পর্যন্ত যেখানে অধিকাংশের স্ট্যাটাস রিপোর্টে অ্যাপ্রুভড দেখিয়েছে, সন্ধের পর থেকে তাঁদের বেশিরভাগের দেখাচ্ছে আন্ডার প্রসেস। অনেকের আবেদনপত্র বাতিলও দেখাচ্ছে। এব্যাপারে তাঁরা রাজ্যের বর্তমান সরকারের গাফিলতিকেই দায়ী করছেন।

কোচবিহার, বালুরঘাট থেকে শুরু করে বর্ধমানের কাটোয়া, বীরভূমের বোলপুর, উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম, অশোকনগর এলাকায় বিক্ষোভে সামিল হন মহিলারা। বালুরঘাটে এসডিও অফিসে বিক্ষোভ ভাঙচুর করেন ক্ষুব্ধ মহিলাদের। এসডিও অফিসের সামনের নামে প্লেটে ভেঙে দেওয়া হয়৷ এমনকী গেট লক্ষ্য করে ইট ছুঁড়ে মারেন ক্ষুব্ধ মহিলারা। এসডিও অফিসের পরে ডিএম অফিসের সামনেও বিক্ষোভ দেখান মহিলারা। কোথাও সদুত্তর না পাওয়ায় বালুরঘাট ডিএম অফিসের সামনে রাস্তা অবরোধ করেন ক্ষুব্ধ মহিলারা। বিক্ষোভকারী লিলিমা সরকার বলেন, ‘আমরা তিন মাস ধরে কোনও টাকা পাচ্ছি না। অথচ বলা হয়েছিল প্রতি মাসের ২০ তারিখের মধ্যে টাকা ঢুকে যাবে। তাই বাধ্য হয়ে আমরা সবাই আজ এসডিও অফিসে এসেছি। এসে দেখি অনলাইনে আমাদের আবেদন নাকি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। অথচ আমরা যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও কেন তা বাতিল হলো সেটার কোনো সঠিক কারণ তারা আমাদের জানাচ্ছে না।’

অন্নপূর্ণা যোজনার দ্বিতীয় পর্যায়ের টাকা অনেকের অ্যাকাউন্টে না ঢোকার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বোলপুর পুরসভা চত্বরে বিক্ষোভ দেখান একদল মহিলা।

বর্ধমান জেলায় মেমারি ১ ও ২ নম্বর ব্লক ও গুসকরা পুরসভায় অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে বিক্ষোভে সামিল মহিলাদের একাংশ। সমস্ত নথি জমা দেওয়ার পরও যোজনা থেকে বঞ্চিত রাখার অভিযোগ মহিলাদের। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পুরসভা চত্বরে জমায়েত করে তাঁরা পুরসভার চেয়ারম্যান-সহ আধিকারিকদের ঘেরাও করে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখান। গুসকরা পুরসভা এলাকায় অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য প্রায় ৮৫০০ জন মহিলা আবেদন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে অনেকের অ্যাকাউন্টে এখনও যোজনার তিন হাজার টাকা জমা না পড়ায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

উত্তর ২৪ পরগনার জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভের পাশাপাশি এ দিন মধ্যমগ্রাম চৌমাথায় অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের বিক্ষোভ ঘিরে কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায় গুরুত্বপূর্ণ সোদপুর রোড। যার প্রভাব পড়ে জাতীয় সড়ক যশোহর রোডেও। প্রথমে মধ্যমগ্রাম চৌমাথা সংলগ্ন সোদপুর রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান উপভোক্তারা। প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট ধরে চলে অবরোধ। এর জেরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়ে একাধিক যানবাহন, তৈরি হয় তীব্র যানজট। খবর পেয়ে মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে এবং অবশেষে অবরোধ তুলে দেওয়া হয়।

কোথায় সমস্যা? রাজ্য প্রশাসনের এক কর্তা জানান, ব্যাঙ্কিং সমস্যার কারণে অনেক মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছয়নি। এ ছাড়া অনেকের আধার লিঙ্ক-এর সমস্যা রয়েছে। কিছু মহিলার আবেদন অনুমোদন পাওয়ার পরেও তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছয়নি। এই সমস্ত বিষয়েই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে যথেষ্টই চাপে পড়েছে প্রশাসনও। যথাযথ উত্তর না থাকায় ক্ষুব্ধ মানুষকে বোঝাতে ভালোই বেগ পেতে হচ্ছে।

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন