তিলোত্তমা-কাণ্ডে ওড়িশা থেকে গ্রেফতার তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, আরজি কর কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই নতুন FIR হয়েছিল
deshersamay

পুরী থেকে গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ। তিলোত্তমার মৃতদেহ তড়িঘড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে। দু’বছর পর নতুন করে অভিযোগ দায়ের হয় তাঁর বিরুদ্ধে। তিলোত্তমার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার তাঁকে ওড়িশার পুরী থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটে নিয়ে আসা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

গ্রেফতার হলেন তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক। সম্প্রতি
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পরই নতুন FIR দায়ের হয়েছিল তাঁর বিরুদ্ধে। তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগ রয়েছে পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ সহ আরও তিনজনের বিরুদ্ধে।

গত রবিবার চিকিৎসক-পড়ুয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে পৃথক একটি এফআইআর দায়ের করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটে নতুন করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতার বাবা। এই এফআইআরে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাট করার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। তারপরই এই পদক্ষেপ।

আরজি কর কাণ্ডের পর শ্মশানে গিয়ে তথ্য লোপাটের ঘটনায় নির্মল ছাড়াও সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় নামে দুই ব্যক্তির ভূমিকা অত্যন্ত সন্দেহজনক এবং তা বিশদে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে দাবি ওঠে। ঘটনার দিন তড়িঘড়ি কেন দেহ দাহ করা হল, সেই প্রশ্নকে সামনে রেখে খোদ মুখ্যমন্ত্রী এই কথা বলেন। তারপরই তাঁদের নাম-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করা হয়।

রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির লোকসংস্কৃতি ভবনে নিহত চিকিৎসকের স্মরণে এক সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসকের মা-বাবার পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। স্মরণসভা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী কমিটি গঠিত হবে, যা সম্পূর্ণ নতুন একটি মামলা দায়ের করে তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাবে।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ ছিল, ঘোলা থানার অন্তর্গত নাটাগড় কদমতলা শ্মশানে নির্যাতিতার দাহকার্য প্রক্রিয়ায় বেআইনি কাজ করা হয়েছিল। তিনি জানান, দাহকার্যের সিরিয়াল ৩ নম্বরে থাকলেও রাতারাতি তা বদলে ১ নম্বর করে তড়িঘড়ি সৎকার করা হয়। শ্মশানের নির্ধারিত খরচ পরিবারের লোক দেয়নি, এমনকি মৃতার পরিবারের কোনও ক্লোজ রিলেটিভ বা নিকটাত্মীয়ের বাধ্যতামূলক স্বাক্ষরও নেওয়া হয়নি।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুলাই গ্রেফতার হয়েছিলেন নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ। তার ঠিক একমাসের মাথায় গ্রেফতার তিনি। যদিও তীর্থঙ্কর গ্রেফতার হয়েছিলেন ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায়।
