আরজি কর কাণ্ড: মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই নতুন FIR, তথ্যপ্রমাণ লোপাটে নির্মল ঘোষ-সহ ৩ জনের নামে অভিযোগ
deshersamay

তিলোত্তমার মৃত্যুর দু’বছর পার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি আরজি কর-কাণ্ডে বিচার এনে দেবেন। গত ৯ অগস্ট তিলোত্তমার মৃত্যু বার্ষিকীর দিন বলেছিলেন, ‘তিলোত্তমাকে আমরা ভুলিনি’। আর মুখ্যমন্ত্রীর যেমন কথা তেমন কাজ। আর এই ঘটনায় এবার নতুন FIR-দায়ের। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর নতুন FIR দায়ের। লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন তিলোত্তমার বাবা। আর এই ঘটনায় নাম উঠে এল আরও দুই নতুনের।

রাজ্যে সরকার বদলের পরই আরজি করের ফাইলস নতুন করে খুলেছে। তদন্তের গতি বাড়িয়েছে সিবিআইও (CBI)। গত রবিবার চিকিৎসক-পড়ুয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে পৃথক একটি এফআইআর দায়ের করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। স্মরণসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘আদেশ’ পেয়েই সোমবার ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটে নতুন করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতার বাবা। এই এফআইআরে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাট করার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির লোকসংস্কৃতি ভবনে নিহত চিকিৎসকের স্মরণে এক সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। মঞ্চ থেকে বলেছিলেন, “মৃতদেহ দাহ করার খরচ বাড়ির লোক দেয়নি। বাড়ির লোককে সই করতে হয়। সেই সইও ছিল না। এখানে নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে ও সন্দীপ মুখোপাধ্যায় এই কাণ্ড করেছেন।” এরপর সিপি ব্যারাকপুরের দিকে তাকিয়ে শুভেন্দু নির্দেশ দেন, “দয়া করে নতুন কেস চালু করুন। দ্রুত অ্যকশন নিন। আমার যা করার আছে করব। অভয়াকে ভুলিনি…অভায়কে ভুলিনি। মানুষ জিতিয়েছেন এই কেসেরে বিচারের জন্য। আমি কমিটেড…আমি কমিটেড।”
স্মরণসভা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী কমিটি গঠিত হবে, যা সম্পূর্ণ নতুন একটি মামলা দায়ের করে তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাবে।

ঘটনার দিন তড়িঘড়ি কেন দেহ দাহ করা হল, সেই প্রশ্নকে সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রী জানান, শ্মশানঘাটে দেহ দাহের সময় পানিহাটির তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় নামে তিন ব্যক্তির ভূমিকা অত্যন্ত সন্দেহজনক এবং তা বিশদে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই তাঁদের নাম-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করা হয়। এমনকি দাহকার্যের সময় পরিবারের কাছ থেকে কেন কোনও খরচ নেওয়া হয়নি, সেই বিষয়টি নিয়েও নতুন করে তদন্ত চালানো হবে।

স্মরণসভায় মুখ্যমন্ত্রী আরও নিশ্চিত করেন যে, কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই পুলিশের শীর্ষ তিন আধিকারিকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। সিবিআই এবং আদালতের নিজস্ব প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে এই পৃথক তদন্তের মাধ্যমে সমস্ত অস্পষ্ট প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ঘোলা থানার অন্তর্গত নাটাগড় কদমতলা শ্মশানে নির্যাতিতার দাহকার্য প্রক্রিয়ায় বেআইনি কাজ করা হয়েছিল। তিনি জানান, দাহকার্যের সিরিয়াল ৩ নম্বরে থাকলেও রাতারাতি তা বদলে ১ নম্বর করে তড়িঘড়ি সৎকার করা হয়। শ্মশানের নির্ধারিত খরচ পরিবারের লোক দেয়নি, এমনকি মৃতার পরিবারের কোনও ক্লোজ রিলেটিভ বা নিকটাত্মীয়ের বাধ্যতামূলক স্বাক্ষরও নেওয়া হয়নি। এই গুরুতর বেআইনি কর্মকাণ্ডের পেছনে সরাসরি প্রভাবশালী যোগের দাবি তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখার্জি মিলে এই পুরো কাণ্ডটি ঘটিয়েছেন।”
