প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

‘পুলিশের গাফিলতি প্রমাণিত’, হালিশহরে হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

deshersamay

Share article:

পুলিশি হেফাজতে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে হালিশহর। রবিবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  নিহত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেলে চরম বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। একদিন পরই সোমবার হালিশহরে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

সোমবার সকাল থেকেই ওই তৃণমূলকর্মীর বাড়়ির সামনে নিরাপত্তা আরও আঁটোসাঁটো করা হয়েছিল। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, মৃত তৃণমূলকর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর হালিশহর থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।

জানা গিয়েছে, এদিন মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন,‘পুলিশের হেফাজতে মারা গিয়েছে, এটা দিনের আলোর মতো সত্যি’, হালিশহরে পুলিশের হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশের গাফিলতি প্রমাণিত। কী অত্যাচার করেছে সেটা ময়নাতদন্ত রিপোর্টে পাওয়া যাবে।’মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ‘IO-কে সাসপেন্ড করা হয়েছে। থানার আইসি-কে ক্লোজ় করা হচ্ছে পুলিশে লাইনে। উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক ম্যাজিস্ট্রিয়াল এনকোয়ারি করবেন।’

পরিবারকে সাহায্য মুখ্যমন্ত্রীর:
মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ১০ লক্ষ টাকা অর্থসাহায্য দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে বিজয় কেওটের স্ত্রী জেনি শর্মাকে অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে চাকরি দেওয়ার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। তিনি বলেন, ‘১২ মাস ১৫ হাজার টাকা করে পায়। সেটা কমপ্লিট হলে গ্রুপ ডি-তে পার্মানেন্ট হয়ে যায়।’

রবিবার হালিশহরে থানা হেফাজতে মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বীজপুর থানা এলাকার হালিশহরে পৌঁছতেই তীব্র জনরোষের মুখে পড়েন তিনি। অভিযোগ, তাঁর কনভয় ঘিরে ধরে ‘চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়। গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা, জুতো ও ইট ছোড়া হয় এবং গাড়ির কাচে কাদা লেপে দেওয়া হয়।

এই অপ্রত্যাশিত হামলায় চরম ক্ষোভপ্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমার তো মাথা ফেটে যেত! আমরা সবাই মরে যেতাম! পুলিশের সামনে এমন হামলা আমরা আগে কখনও দেখিনি।” সেই সময় তাঁর সঙ্গে থাকা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, স্থানীয় আইসি-র প্রত্যক্ষ মদতেই বাইরে থেকে লোক এনে এই হামলা চালানো হয়েছে এবং তাঁদের গাড়ি ধাওয়া করে ইট ছোঁড়া হয়েছে। অন্যদিকে, ঘটনার তীব্র নিন্দা করে একে ‘জঙ্গলের রাজত্ব’ বলে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষও।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে হামলার ঘটনায় মুখ খোলেন রাজ্য বিজেপির নেতৃত্বরাও। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্পষ্ট করে দেন, বাংলার সংস্কৃতি এই ধরনের অভব্যতা সমর্থন করে না। এমনকি এই ঘটনার সঙ্গে যদি কেউ বিজেপির (BJP) নাম জড়ানোর চেষ্টা করে বা দলীয় কর্মী বলে পার পাওয়ার কথা ভাবে, তবে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর প্রশাসনিক ও দলীয় পদক্ষেপ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, তোলাবাজি-সহ বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে কাঁচরাপাড়া পুরসভার তৃণমূলের পদত্যাগী কাউন্সিলরের স্বামী বিরজু কেওটকে গ্রেফতার করেছিল হালিশহর থানার পুলিশ। শুক্রবার তাঁকে আদালতেও হাজির করানো হয়েছিল। বিচারক তাঁর পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। কিন্তু শনিবার জানা যায়, পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে কাঁচরাপাড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের স্বামীর। জেনির অভিযোগ, লকআপের ভিতরে পুলিশের মারধরে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার জেনির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে কাঁচড়াপাড়ায় যান মমতা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন। বিক্ষোভের মুখে পড়ে মমতা তোপ দাগেন রাজ্য সরকারকে। পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও নিশানা করেন তিনি। তৃণমূলনেত্রী বলেন, “নিরাপত্তা ভুলে যান। লুম্পেনদের প্রোটেকশন দিচ্ছে পুলিশ! বাংলা তো লুম্পেনদের হাতে চলে গিয়েছে। আমরা কেস করব।’’ অভিযোগের সুরে বলেন, ‘‘আমার মাথা ফেটে যেত। এখানে আমরা মরে যেতাম। পুলিশ বিজেপিকেই প্রোটেকশন দিচ্ছে।’’ বিজেপির তরফে অবশ্য পাল্টা অভিযোগ করা হয় যে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উস্কানি দিতে কাঁচরাপাড়ায় গিয়েছিলেন। সাধারণ মানুষ তার প্রতিবাদ করেছে।” কটাক্ষের সুরে শুভেন্দুও বলেন, “এত চুরি করেছেন, চোর তো শুনতেই হবে।” যদিও শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার অন্যতম সদস্য অগ্নিমিত্রা পাল খানিকটা ভিন্নসুরে বলেন, ‘‘হোয়াট ইজ় দিস? ওঁর অনেক দোষ থাকতে পারে, তাই বলে জুতো-কাদা ছুড়বেন?’’

Tags: জেলা

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন