প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News
‘চোর’ স্লোগান শুনলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী , তৃণমূল নেত্রীকে দেখেই ছোড়া হল জুতো-কাদা,’সবাই মরে যেতাম’, হালিশহরের পথে জনতার ক্ষোভে মমতা! ১৩-১৪ অগস্ট ‘দেশভাগের ভয়াবহ স্মৃতি’ এবার জেলায় জেলায় স্মরণ নির্দেশ নবান্নের, হবে ক্যান্ডেল মার্চ দুর্যোগের মেঘ! রবিতেও ঝেঁপে বৃষ্টি কলকাতায়? ১০ জেলা ভাসবে ভারী বৃষ্টিতে, মৎস্যজীবীদের জন্যেও নিষেধাজ্ঞা ‘প্রশ্ন করার অধিকার যেমন আছে, তেমন রাষ্ট্রের প্রতিও দায়িত্ব থাকা উচিত’, IIT দিল্লি থেকে জেন-জি- কে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর গ্রেপ্তার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সনৎ দে:অ্যাম্বুল্যান্সের খালাসি থেকে কোটি টাকার মালিক, বললেন অর্জুন বললেন অর্জুন সিং: দেখুন ভিডিও

‘চোর’ স্লোগান শুনলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী , তৃণমূল নেত্রীকে দেখেই ছোড়া হল জুতো-কাদা,’সবাই মরে যেতাম’, হালিশহরের পথে জনতার ক্ষোভে মমতা!

deshersamay

Share article:

হালিশহরে থানা হেফাজতে নিহত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়লেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বীজপুর থানা এলাকার হালিশহরে পৌঁছতেই মমতাকে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান ওঠে। এমনকি তাঁর কনভয় ঘিরে ধরে গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা ও জুতো ছোড়া হয় এবং গাড়ির কাচে কাদা লেপে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।বিক্ষোভকারীদের দাবি, শান্ত এলাকাকে রাজনৈতিক স্বার্থে উত্তপ্ত করতেই সেখানে গিয়েছেন মমতা।

বিক্ষোভের মুখে পড়ে নিজের ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে মমতা বলেন, “আমার তো মাথা ফেটে যেত! আমরা সবাই মরে যেতাম! পুলিশের সামনে এমন হামলা আমরা আগে কখনও দেখিনি। পুলিশ নিষ্ক্রিয় থেকে বিজেপিকেই সুরক্ষা দিচ্ছে।”

ঘটনার সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দোলা সেন এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষোভ উগরে দিয়ে কল্যাণ অভিযোগ করেন, “যে স্থানীয় আইসি মূল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত, তিনিই নিজে উদ্যোগ নিয়ে বাইরে থেকে বিজেপির লোকজনকে জোগাড় করেছেন। তারা আমাদের গাড়ি লক্ষ্য করে অনবরত অশালীন গালিগালাজ করে এবং বড় বড় ইট ছুড়ে মারে। আপনারা গাড়িটির অবস্থা দেখলেই বুঝতে পারবেন—পুরো গাড়িতে ইট মারতে মারতেই আমাদের ধাওয়া করা হয়েছে।”

ঘটনার সূত্রপাত হালিশহর থানার লকআপে বিরজু কেয়ট নামে এক তৃণমূল কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। নিহত বিরজুর স্ত্রী জেনি শর্মা কেয়ট নদিয়ার কাঁচরাপাড়া পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর। সম্প্রতি হালিশহরের এক মহিলার দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিরজুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, ভয় দেখানো, আর্থিক প্রতারণা এবং বেআইনি অস্ত্র আইন-সহ একাধিক জামিনঅযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছিল।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত শুক্রবার ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করা হলে বিচারক বিরজুকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। এর পর শনিবার সকালে থানা হেফাজতে থাকা অবস্থাতেই তিনি আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে দাবি পুলিশের। তড়িঘড়ি তাঁকে কল্যাণীর জওহরলাল নেহরু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

তবে পুলিশের এই অসুস্থতার দাবি মেনে নেয়নি নিহতের পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, থানা হেফাজতে বেধড়ক মারধরের ফলেই মৃত্যু হয়েছে বিরজুর। যদিও মারধর ও পুলিশি নির্যাতনের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে ব্যারাকপুর কমিশনারেটের পুলিশ।

রবিবার সেই মৃত বিরজুর পরিবারের লোকজনের সঙ্গে দেখা করতে হালিশহরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তিনি পৌঁছতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। বিক্ষোভের মুখে পড়ে তাঁর গাড়ি আটকে দেওয়া হয় এবং চারদিক থেকে ‘চোর’ স্লোগান উঠতে থাকে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি, ধিক্কার জানাচ্ছি। পুলিশ লকআপে মৃত্যুর পরেও ওরা বাড়িতে এসে ভয় দেখাচ্ছে। বাইরে থেকে লোক এনে এই ঝামেলা করা হয়েছে। অশ্রাব্য কথা, গাড়িতে বড় বড় ইট মেরেছে। গাড়িটা দেখলে বোঝা যাবে। বাংলা আজ লুম্পেনদের হাতে চলে গিয়েছে। আমি যে একটা বাড়িতে দেখা করতে আসব বলেছি, বিধায়ক নিজে এসে পরিবারকে ঘর থেকে বেরোতে না করেছেন। আমরা কেস করব।’ যদিও এ নিয়ে এখনও বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাসের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে মৃতের পরিবারের লোকেরও দাবি, এই মুহূর্তে বিচার নিয়ে আগ্রহী তারা। এর বাইরে কোনও কিছু নিয়েই তাদের আগ্রহ নেই।

যদিও এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, ‘বিশেষ কিছু বলব না। এটা তাঁর কর্মফল। অগণতান্ত্রিক ভাবে প্রতিবাদ দেখিয়ে তাঁকে প্রাসঙ্গিক করার কোনও মানে নেই। তিনি এখন বাংলার মানুষের দ্বারা পরিত্যক্ত। এটাও হতে পারে তাঁর ভিতরের লোকেরাই পরিকল্পনা করে এ সব করতে পারেন।’

Tags: জেলা

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন