অভিষেকের বিদেশযাত্রার অনুমতি না দিয়ে মামলা খারিজ করল হাইকোর্ট! এর পর কোন পথ খোলা রইল?
deshersamay

চোখের চিকিৎসার স্বার্থে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে
কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । সেই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বুধবার এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও নতুন মোড় সামনে এল।

হাইকোর্টের তরফে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আদালতের নির্দেশ মেনে বৃহস্পতিবারই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কলকাতার এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে উপস্থিত হতে হবে।
বুধবার এই মামলার শুনানি চলাকালীন কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দেয় যে, এসএসকেএম হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখের যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা করবে। তাঁর চোখের বর্তমান অবস্থা ঠিক কেমন এবং প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসা ভারতে সম্ভব কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখবেন চিকিৎসকরা।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ওই বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ডকে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট প্রস্তুত করে তা সরাসরি আদালতের কাছে জমা দিতে হবে। সেই রিপোর্টে এসএসকেএম-এর চিকিৎসকদের স্পষ্ট করে জানাতে হবে যে, ভারতে বা এই রাজ্যে আদৌ তাঁর চোখের উপযুক্ত চিকিৎসা করা সম্ভব কি না। রাজ্যের উচ্চ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্ট পর্যালোচনার পরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রার আবেদনের বিষয়ে পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

রাজ্য আদালতে কী বলেছে?
এই মামলার নির্দেশ দিতে গিয়ে আদালত জানায়, ২১ মে দেওয়া জামিনের শর্ত শিথিল করে তাঁকে চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিতে আবেদন করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিন সপ্তাহের জন্য বিদেশ যেতে চান, এমনই আর্জি জানান। ৪ জুন প্রাথমিক ভাবে একজন চিকিৎসককে দেখিয়ে একটা রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। রাজ্যের বক্তব্য, ডাক্তারের রিপোর্টে কোনও জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন উল্লেখ নেই। এ দিকে অভিষেকের বিরুদ্ধে ১৬টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তার মধ্যে ৫টি মামলা রয়েছে হাইকোর্টেই। সেগুলিতে তদন্তে সহযোগিতা করার শর্তে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে তাঁকে। যে মেডিক্যাল রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে, সেখানে ডাক্তারের রেজিস্ট্রেশন নম্বর নেই। তাই তা বিশ্বাসযোগ্য নয়।
হাইকোর্ট কী বলল?
আদালতের বক্তব্য, কোর্ট মেডিক্যাল এক্সপার্ট নয়। তাই এসএসকেএম হাসপাতালে মেডিক্যাল বোর্ড বসিয়ে তাঁর প্রাথমিক রিপোর্ট নেওয়ার জন্য তাঁকে সেখানে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। আগামিকাল, ৬ অগস্ট দুপুর ২টোয় অভিষেককে এসএসকেএমে চিকিৎসকদের বোর্ডের সামনে হাজির হতে বলা হয়েছিল। ৭ অগস্ট এসএসকেএম রিপোর্ট জমা দিত আদালতকে। তার পরেই ওই চিকিৎসার জন্য তাঁর বিদেশ যাওয়া জরুরি কি না সেটা নিশ্চিত হতে চেয়েছিল কোর্ট। তবে অভিষেক এসএসকেএমে যেতে চান না বলেই আদালতে জানান তাঁর আইনজীবী।
অভিষেকের আইনজীবীর কী বক্তব্য?
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী এদিন আদালতে জানান, এর আগে বিদেশে যেখানে চোখের চিকিৎসা হয়েছিল, সেখানেই যেতে চান তাঁর মক্কেল, এসএসকেএম-এ যাবেন না। কিন্তু হাইকোর্টের বক্তব্য, এই মুহূর্তে চোখের চিকিৎসা হওয়াটা মূল বিষয়, কোথায় চিকিৎসা হচ্ছে সেটা জরুরি নয়। তাই বৃহস্পতিবার এসএসকেএম হাসপাতালেই অভিষেককে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, এই মামলাই খারিজ করে দেন বিচারপতি।

এর পাশাপাশি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি স্পষ্ট বলেন, বর্তমানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ে বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তাই এখনই তাঁকে বিদেশযাত্রার অনুমতি দেওয়া যাবে না।
প্রসঙ্গত, অভিষেকের বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে শুরু থেকেই এই ইস্যুতেই তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছে রাজ্য। সওয়াল চলাকালীন রাজ্যের আইনজীবী যুক্তি দেন, সাংসদের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুত্বপুর্ণ মামলার তদন্ত চলছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলে তদন্ত প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এর পরে কি অভিষেকের কোন পথ খোলা রইল?
যে হেতু সিঙ্গল বেঞ্চ এই নির্দেশ দিল, চাইলে অভিষেক হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে যেতে পারেন। সেই নির্দেশ পছন্দমতো না হলে যেতে পারেন সুপ্রিম কোর্টেও। প্রসঙ্গত, এই আর্জি নিয়ে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট থেকে ঘুরে এসেছেন অভিষেক। দেশের সর্বোচ্চ আদালতই তাঁর এই মামলা হাইকোর্টে ফেরত পাঠিয়েছে।
সবশেষে দেখা গেল, এই যুক্তিতেই কলকাতা হাইকোর্ট আপাতত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রায় ‘না’ বলে দিল।
