‘নেশামুক্ত ভারত’ গড়ার ডাক মোদীর , যুব সমাজকে কী বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী? দেশজুড়ে শুরু ১০০ সপ্তাহের বিশেষ অভিযান
deshersamay

দেশের ভবিষ্যৎ হল যুব সমাজ। তারা সঠিক পথে চললে, তবেই সমাজের অগ্রগতি হবে, দেশের উন্নতি হবে। তবে বর্তমান সময়ে অনেক যুবক-যুবতীই নানা ধরনের নেশা বা মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। তাদের এই নেশার ভয়াল গ্রাস থেকে উদ্ধার করতেই কেন্দ্রীয় সরকারের বড় উদ্যোগ। আজ, ২ অগস্ট নেশা মুক্ত যুব নামক একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ।

দেশের তরুণ প্রজন্মকে মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ রাখতে এবং ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য পূরণ করতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র সরকার। রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভার্চুয়ালি সূচনা করলেন ‘নেশা মুক্ত যুব ফর বিকশিত ভারত সঙ্কল্প অভিযান’। যুবসমাজকে সব ধরনের নেশা বা মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখতে এই দেশব্যাপী প্রচার অভিযান শুরু হয়েছে।
এই দিন ভার্চুয়াল মাধ্যমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশজুড়ে বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণী অংশ নেন, যাঁদের অনেকেই নিজেদের ‘জেন-জি’ (Gen-Z)-র প্রতিনিধি বলে উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি সরকারি পরীক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের উত্তাপের মাঝেই প্রধানমন্ত্রীর এই যুবমুখী বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এদিনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও বলেন, “নেশা শুধুমাত্র শরীরেরই ক্ষতি করে না, একজন মায়ের হাসিকে কেড়ে নেয়, বাবার আশা ভেঙে দেয়। বোনের রাখির বন্ধনকে দুর্বল করে দেয়। পরিবারের সদস্যরা রোজ কষ্ট পান চোখের সামনে তাদের তিলে তিলে নষ্ট, ধ্বংস হয়ে যেতে দেখে। রাষ্ট্রের শক্তিও দুর্বল হয়ে যায়। এই জন্য শত্রু দেশরাও ষড়যন্ত্র করে দেশের যুবদের নেশায় ডুবিয়ে দিতে কোনও কসুর রাখছে না।

ক্রমাগত ড্রাগ সাপ্লাই করে টাকা উপার্জন করছে। আমাদের মতো দেশকে ধ্বংস করাও ওদের প্ল্যান।
এই জন্য আমাদের দেশের যুবদের নেশা থেকে মুক্ত করতে হবে। আপনাদের মনে রাখতে হবে, নেশা কিছুক্ষণের জন্য আনন্দ দিলেও, পরিবারকে দুঃখ-কষ্ট দেয়।”

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রচার অভিযানের মূল লক্ষ্য হল যুবসমাজকে মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখা এবং তাদের নিজের সম্প্রদায়ের ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের ‘দূত’ বা অ্যাম্বাসেডর হিসেবে গড়ে তোলা। এটি কেবল যুবকদের জন্যই নয়, বরং তাঁদের পরিবার, সমাজ এবং গোটা দেশের কল্যাণের জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এই অভিযানের অঙ্গ হিসেবে আগামী ১০০ সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে প্রতি রবিবার ‘জন ভাগিদারি’ কর্মসূচি পালিত হবে। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়াতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের আয়োজন করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে, খেলাধুলো ও স্পোর্টস ইভেন্ট, ওয়াকথন ও ম্যারাথন দৌড়, ধ্যান বা মেডিটেশন সেশন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পথনাটক (নুক্কড় নাটক), আলোচনা সভা ও শিল্প প্রতিযোগিতা এবং কমিউনিটি এনগেজমেন্ট প্রোগ্রাম।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘নশা মুক্ত ভারত’ (মাদকমুক্ত ভারত) গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে ২০২০ সালে ‘নশা মুক্ত ভারত অভিযান’ শুরু হয়েছিল, আর আজকের এই নতুন পদক্ষেপ সেই রাস্তাকেই আরও প্রসারিত করবে।
দেশজুড়ে ২৮ হাজারেরও বেশি জায়গায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। মোট ১ কোটিরও বেশি যুবক-যুবতীরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। যুবদের সঠিক পথ দেখাবেন পূজ্য আম্মা, গুরু শ্রী শ্রী রবি সঙ্কর, পূজ্য দাজি, ডঃ চিন্ময় পান্ডা ও স্বামী ব্রহ্মবিহারীজি। এছাড়াও একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালরাও এই নেশা মুক্তি অনুষ্ঠানে সামিল হয়েছেন।

১২৫টিরও বেশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, শিল্প প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে এই অনুষ্ঠানে। এছাড়াও ব্রহ্ম কুমারী, ইসকন, চিন্ময় মিশন ও ওরোভিল থেকেও প্রতিনিধিরা রয়েছেন। তাদের সামনেই দেশের লাখ লাখ যুবক-যুবতী নেশা মুক্ত ভারত গড়ার শপথ নেবে।
