কোবরার ‘জালে’ মাওবাদী শীর্ষ নেতা , গ্রেফতার পলিটব্যুরোর শেষ সদস্য মিসির বেসরা, মাথার দাম ছিল ১ কোটি
deshersamay

দেশ এখন মাওবাদী-মুক্ত। কিছুদিন আগেই ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে ঝাড়খণ্ডের শীর্ষ মাওবাদী নেতা মিসির বেসরা অধরাই ছিলেন। অবশেষে কোবরা বাহিনীর ‘জালে’ ধরা পড়লেন তিনি। ঝাড়খণ্ড পুলিশ এবং সিআরপিএফ-র এলিট কোবরা ব্যাটালিয়নের রুদ্ধশ্বাস যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হলেন মাওবাদী এই শীর্ষ নেতা।

তাঁর মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা। ধানবাদ-গিরিডি সীমানার মানিয়াদি এলাকা থেকে বেসরা ও তাঁর দুই দুর্ধর্ষ সহযোগীকে পাকড়াও করে নিরাপত্তা বাহিনী।

দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে ঝাড়খণ্ড পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন শীর্ষ মাওবাদী নেতা মিসির বেসরা । মঙ্গলবার ধানবাদের বারওয়াড্ডা থানার অন্তর্গত মানিয়াডিহ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই অভিযানে আরও দুই মাওবাদীকেও আটক করা হয়েছে বলে খবর।

সিপিআই (মাওবাদী)-র পলিটব্যুরোর একমাত্র জীবীত ঝাড়খণ্ড-ভিত্তিক সদস্য হিসেবে পরিচিত মিসির বেসরা। ভাস্কর ও সাগর নামে একাধিক ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন তিনি। সংগঠনের আদর্শগত এবং সামরিক কৌশল নির্ধারণে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে গোয়েন্দা সংস্থার দাবি।
৬৬ বছর বয়সি বেসরা প্রায় দুই দশক ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে আত্মগোপন করে ছিলেন। শেষবার ২০০৭ সালে ঝাড়খণ্ডে গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি। পরে ২০০৯ সালে বিহারের লাখিসরাই আদালতে প্রোডাকশন ওয়ারেন্টে হাজির করানোর সময় পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে যান। সেই ঘটনার পর থেকেই তাঁকে ধরতে একাধিক রাজ্যে অভিযান চালানো হচ্ছিল। চিরুনি তল্লাশি চালিয়েছে এতদিন পুলিশ। কিন্তু কোনওভাবেই তাঁকে নাগালে পাওয়া যাচ্ছিল না।

নিরাপত্তা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, মাওবাদী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের অধিকাংশ সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন সম্প্রতি অথবা ছত্তীসগড়, তেলঙ্গানা, মহারাষ্ট্র এবং অন্ধ্রপ্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছেন। সেই পরিস্থিতিতে মিসির বেসরাকে সংগঠনের শেষ দিকের অন্যতম প্রভাবশালী পলিটব্যুরো সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।
এদিকে, ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী দমনে আরও একটি বড় সাফল্যের কথা জানায় পুলিশ। মোট ১৬ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জনের মাথার দাম মিলিয়ে ছিল ৩৯ লক্ষ টাকা। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন সন্তোষ মাহাত ওরফে বাসুদেব দা ওরফে দিলীপ। তাঁর বিরুদ্ধে ১২৮টি মামলা রয়েছে এবং মাথার দাম ছিল ১৫ লক্ষ টাকা। এছাড়া সংগঠনের দুই সাব-জোনাল কমিটি সদস্য ও দুই এরিয়া কমিটি স্তরের নেতাও অস্ত্র ছেড়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী বিরোধী অভিযানে এখনও পর্যন্ত ৯৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আত্মসমর্পণ করেছেন ৪৫ জন। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ২২ জন মাওবাদী। মিসির বেসরার গ্রেফতারকে এই অভিযানের অন্যতম বড় সাফল্য বলেই মনে করা হচ্ছে।
