রাজ্য পুলিশে ১ লক্ষ নিয়োগ , পুজোতেই ২০% ডিএ! বাড়ল রেশন বরাদ্দ , ভবানী ভবন থেকে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর
deshersamay

আগামী কয়েক বছরে ১ লক্ষ পুলিশ কর্মী নিয়োগ করা হবে। মঙ্গলবার ভবানী ভবনের অনুষ্ঠান থেকে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পুলিশ প্রশাসনের দিকে বিশেষ নজর রাজ্য সরকারের। পুলিশকে ফ্রি হ্যান্ড দেওয়ার কথা প্রথম থেকে বলে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশের উপরে কোনও রকম হামলা বা হেনস্থার ঘটনা ঘটলে তা যে কড়া হাতে দমন করা হবে, সে আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। এ দিন ভবানী ভবন থেকে শুভেন্দু বলেন, ‘আগামী কয়েক বছরে পর্যায়ক্রমে ১ লক্ষ নতুন পুলিশ কর্মী নিয়োগ হবে। আমাদের ১৪ হাজার পুলিশ কনস্টেবল ট্রেনিং নিয়ে বসে আছেন কাজে যোগদান করার জন্য। তাঁদের আমরা আসন্ন দুর্গাপুজোর আগেই কাজে লাগাতে পারব এই ব্যবস্থা আমরা করেছি।’
পুলিশ কর্মীদের রেশনের ভাতা ১৫০০ টাকা ছিল, আরও ৫০০ টাকা বাড়ানো হলো। এই বরাদ্দ বেড়ে হলো ২ হাজার টাকা।

এদিনের অনুষ্ঠানে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী খালি হাতে ভবানী ভবনে আসবেন, এটা হয় নাকি? পরে আরও দেব, ভালভাবে কাজ করুন।”
ভারতে জাতীয় স্তরে গড়ে প্রতি ১ লক্ষ জনসংখ্যায় ১৫৫ জন পুলিশকর্মী থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে সেই অনুপাত মাত্র ১০৬। বিপরীতে উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসনে এই সংখ্যা প্রতি লাখে ২০০। এই বৈষম্য দূর করতে উত্তরপ্রদেশ মডেলকেই পাথেয় করছে নবান্ন।
শুভেন্দু বলেন, আগামী কয়েকটি অর্থবর্ষে ধাপে ধাপে রাজ্যে ১ লক্ষ নতুন পুলিশকর্মী নিয়োগ করা হবে।

আইনি জটিলতায় থমকে থাকা ৪৭ হাজার শূন্যপদ পূরণের পথ এখন পরিষ্কার। বিধানসভায় ওবিসি সংক্রান্ত বিল পাশ এবং সুপ্রিম কোর্ট থেকে রাজ্য পিছু হটার ফলে সমস্ত আইনি বাধা দূর হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৪ হাজার কনস্টেবলকে আগামী দুর্গাপুজোর আবহেই সরাসরি কর্মক্ষেত্রে যোগদানের নির্দেশ জারি করা হচ্ছে।
বিগত প্রশাসনের আমলে তৈরি হওয়া বকেয়া ডিএ ও আর্থিক অসন্তোষ মেটাতে বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে রাজ্য গঠিত সপ্তম বেতন কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ হস্তান্তরিত হলেই তা দ্রুত কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে রাজ্যের ৪২ শতাংশের ডিএ ফারাক দূর করতে প্রথম দফায় আগামী অক্টোবর (পুজোর মাস) থেকেই অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ যুক্ত হচ্ছে পুলিশকর্মীদের বেতনে। ২০১৭ সাল থেকে আটকে থাকা ১,৫০০ টাকার রেশন ভাতা বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করা হল, যা অক্টোবর থেকেই কার্যকর হবে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক বঙ্গ সফরের দিকনির্দেশকে সার্থক রূপ দিতে রাজ্য পুলিশকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সাজিয়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (NIA) আদলে রাজ্যে গঠিত হচ্ছে ‘স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি’ (SIA)। এ ছাড়া পুলিশের প্রায় ৪ হাজার পুরনো ও বিমাহীন যানবাহনকে পর্যায়ক্রমে সরিয়ে আধুনিক নতুন গাড়ি আনা হবে।”

পরিকাঠামোগত উন্নয়নে রাজ্যের ৫৫২টি থানার মধ্যে অন্তত ২৫০ থেকে ৩০০টি থানাকে উন্নীত করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে বিশেষ অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশকর্মীদের পেশাদারিত্ব বাড়াতে গুজরাতের ‘রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়’ এবং অসমের তেজপুরে অবস্থিত বিএসএফ-এর উচ্চতর ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে দল পাঠিয়ে প্রশিক্ষণের বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। নতুন বলবৎ হওয়া ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS) এবং মানবাধিকার কমিশনের রূপরেখা মেনে বিশেষ পাঠক্রমও চালু হচ্ছে।

দূরদূরান্তে বদলির যন্ত্রণা থেকে কর্মীদের মুক্ত করতে মানবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মহিলা কনস্টেবলদের নিজ নিজ জেলায় এবং মহিলা আধিকারিকদের পার্শ্ববর্তী জেলায় বদলির রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। যে সমস্ত পুলিশকর্মী দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ঘরের বাইরে কর্মরত, তাঁদের পর্যায়ক্রমে স্বজেলায় ফেরানো হবে। তাছাড়া পুলিশকর্মীদের রাজনীতির কর্মসূচিতে ব্যবহার বন্ধ করে তাঁদের আবাসন, চিকিৎসা (আয়ুষ্মান ভারত/রাজ্য স্বাস্থ্য বিমা) ও স্পোর্টস পরিকাঠামো জোরদার করতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ‘ওয়েলফেয়ার বোর্ড’ গঠিত হবে। এমনকি তদারকহীন একাকী প্রবীণ নাগরিকদের সুরক্ষায় কলকাতা পুলিশের পূর্বে চালু থাকা বিশেষ নাগরিক সহায়তা স্কিমটিকে ফের সক্রিয় করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
