থানা-বাস, রেললাইন পোড়ানো অতীত, সোমবার থেকেই রাজ্যে ‘গুণ্ডাদমন আইন’, কোন অপরাধে কী শাস্তি?
deshersamay
বিধানসভায় পেশ হয়েছে, পাশও হয়েছে। লোকভবনের সবুজ সঙ্কেত মিলতেই, এবার রাজ্যে চালু হচ্ছে গুণ্ডাদমন আইন। সোমবার থেকেই রাজ্যে নয়া নিয়ম কার্যকর হবে। শুক্রবার, মুর্শিদাবাদ সফরে গিয়ে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ‘গুন্ডা দমন আইন এবং প্রেভেন্টিভ অ্যারেস্ট আইন’ চালু হওয়ার বিষয়টি জানান। সেখানেই শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘, ধুলিয়ান সামশেরগঞ্জ , বেলডাঙ্গা, রেজিনগর শক্তিপুরের মত ঘটনা ঘটলে পুলিশকে কাউকে আর ফোন করতে হবে না। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং পুলিশ যে সমস্ত প্রশিক্ষণ নিয়েছে সেই আইন অনুযায়ী তাঁরা ব্যবস্থা নিতে পারবে। জেলায় আর বাস, থানা, রেললাইন পোড়ানো হবে না। এসব অতীত। ‘

‘গুণ্ডা’ বা সমাজবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার জানিয়েছে, কোনও ব্যক্তি যদি নিয়মিতভাবে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ করেন, কোনও সিন্ডিকেট পরিচালনা বা তাতে টাকার জোগান দেন, অথবা সমাজবিরোধী কার্যকলাপকে উৎসাহিত বা সহায়তা করেন, তবে তাকে ‘গুণ্ডা’ হিসেবে গণ্য করা হবে। এমনকি যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের দীর্ঘ তালিকা বা ‘হিস্ট্রি শিট’ রয়েছে, তাদেরও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সমাজবিরোধী কার্যকলাপের সংজ্ঞাও বিস্তৃত করা হয়েছে নতুন বিলে।

ভবিষ্যতে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ রোধে কোনও ব্যক্তিকে আটক করা প্রয়োজন বলে মনে করলে, সরকারের হাতে তাকে আটক করার ক্ষমতা থাকবে।
এছাড়া, এই নয়া আইন অনুযায়ী অপরাধকে ‘গ্রেপ্তারযোগ্য’ এবং ‘জামিন-অযোগ্য’ হিসেবে গণ্য করা হবে। আইনের নির্দেশ লঙ্ঘন করলে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে। পাশাপাশি, কোনও দাগী অপরাধী বা এলাকাছাড়া করার নির্দেশ পাওয়া ব্যক্তিকে কেউ যদি আশ্রয় দেন বা লুকিয়ে রাখেন, তবে আশ্রয়দাতারও দু’বছর পর্যন্ত জেল ও জরিমানা হতে পারে।

জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) বা তার ওপরের পদমর্যাদার কোনও আধিকারিকের রিপোর্টের ভিত্তিতে অথবা সরকারের নিজস্ব বিবেচনায় কোনও ব্যক্তিকে আটক করা যেতে পারে, যদি অতীতে সংগঠিত অপরাধের জন্য ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) -এর ১১১ ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়ে থাকে।

সরকার, জেলাশাসক বা পুলিশ কমিশনারদের নির্দিষ্ট এলাকায় আটক সংক্রান্ত ক্ষমতা প্রয়োগের অনুমতি দিতে পারে। তবে রাজ্য সরকারের অনুমোদন ছাড়া এই আদেশ ১৫ দিনের বেশি কার্যকর থাকবে না। কোনও ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত আটক রাখা যেতে পারে।

আটক ব্যক্তির অধিকার রক্ষায় সরকার এমন বিধান রেখেছে, যার মাধ্যমে আটক ব্যক্তিকে- আটকের কারণ উল্লেখ করে আটকের আদেশের একটি প্রতিলিপি পাঁচ দিনের মধ্যে দেওয়া হবে। একটি উপদেষ্টা বোর্ড গঠন করা হবে যেখানে আটকের প্রতিটা ঘটনা তিন সপ্তাহের মধ্যে পর্যালোচনা করা হবে।

