Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

‘নাম পরিচয় দেখেই পিটিয়ে খুন’, বারুইপুরের গণপিটুনির ঘটনায় বিস্ফোরক দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

deshersamay

Share article:

বারুইপুরের সূর্যপুরে উত্তেজিত জনতার মারে নিহত যুবক
ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের মৃত্যু নিছক ‘গণপিটুনি’ নয়, বরং তা একটি সুপরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যাকাণ্ড। শনিবার নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে এই দাবি করলেনমুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ।

তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনে পরাজিত শক্তির উস্কানির পাশাপাশি এই নৃশংস ঘটনার নেপথ্যে অতিবাম ও উগ্র মৌলবাদী শক্তিগুলির গভীর ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। একই সঙ্গে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফুলতলায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অশান্তিতে নিহত প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের পরিবারকেও ১০ লক্ষ টাকার অর্থ সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

শনিবার বারুইপুরে ইন্দ্রজিতের জীর্ণ বাসভবনে পৌঁছে তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “নাম আর পরিচয় দেখে একটা ৩৫ বছরের অবিবাহিত যুবকের হাত-পা বেঁধে যেভাবে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে, তা কোনও সাধারণ গণপিটুনি নয়, ঠান্ডা মাথার খুন। নির্বাচনে যারা হেরেছে, তাদের উস্কানিতেই এই ঘটনা। এর পিছনে উগ্রপন্থী, মৌলবাদী বা অতিবামপন্থীদের বড়সড় ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।”

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনার ভিডিও ও ছবি দেখে ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশ অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ করে অপরাধীদের দিঘা ও বকখালি থেকে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ৩৮ জনকে পাকড়াও করা হয়েছে। শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, “হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে মারার এই জঘন্য অপরাধে যুক্ত থাকা খুনিদের সঙ্গে কোনও আপস বা ‘পেয়ার-মহব্বত’ করা হবে না।”

ইন্দ্রজিৎকে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয় স্বীকার করেও তাঁর পরিবারকে সর্বতোভাবে সুরক্ষিত করতে একগুচ্ছ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সরকারের তরফে এদিন নিহতের বাবা-মায়ের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি নিহতের দাদা বাপি মণ্ডলকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়া হয়েছে। তাঁর পোস্টিং হবে স্থানীয় সূর্যপুর পুলিশ ফাঁড়িতেই। দাঙ্গাকারীদের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ইন্দ্রজিৎদের বাড়িটি ইতিমধ্যেই সরকারি খরচে সম্পূর্ণ মেরামত করে দেওয়া হয়েছে। নিহতের বৃদ্ধ বাবার জন্য অবিলম্বে বার্ধক্যভাতা এবং মায়ের জন্য ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করেছে প্রশাসন।

উল্লেখ্য, গত ৪ জুলাই বারুইপুরের এক নাবালিকা আচমকা নিখোঁজ হয়ে যায়। পরদিন, ৫ জুলাই রবিবার সকালে একটি পুকুর থেকে তার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ ওঠে, নাবালিকাকে গণধর্ষণের পর নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করেছে এবং মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল বুধবার সকালে পুলিশি এনকাউন্টারে খতম হয়েছে।

Advertisement
Tags: খেলা

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন