তৃণমূলের ৪৪০ কোটি টাকা ফ্রিজ করল ED! ১৯ টি অ্যাকাউন্টে নজর, বিমান-হেলিকপ্টার কেনা নিয়ে বড় দাবি কেন্দ্রীয় সংস্থার
deshersamay

বেনিয়ম তথা বেআইনি লেনদেনের অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয়েছিল। তারপরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সূত্রের খবর, লেনদেন নিয়ে সন্দেহ হওয়াতেই ওই মামলার তদন্তভার নিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এরপরই ফ্রিজ করা হল তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্ট। ওই তিন অ্যাকাউন্টে ৪৪০ কোটি টাকা ছিল বলে জানা গিয়েছে। বাকি অ্যাকাউন্টেও রয়েছে ইডি-র নজর।

ফের বড় আর্থিক তছরুপের অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস -র ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত একটি মামলায় এবার বড় পদক্ষেপ নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট । কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, বিমান পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত একটি কোম্পানির একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালানোর পরে তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ৪৪০.৪২ কোটি টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে। ইডির কলকাতা জোনাল অফিসের পক্ষ থেকে একটি প্রেস রিলিজে এই খবর জানানো হয়েছে।
ইডি সূত্রে জানা গেছে, পিএমএলএ আইনে কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকার মোট পাঁচ জায়গায় ম্যারাথন তল্লাশি চালানো হয়। এই তল্লাশি চালানো হয়েছিল বিমান পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ‘কেয়ারওয়েল গ্রুপ অফ কোম্পানিজ’ -এর সম্পত্তিতে। বিধাননগর সাইবার পুলিশের দায়ের করা একটি এফআইআরের ওপর ভিত্তি করেই ইডি এই আর্থিক তছরুপের তদন্তে নামে। অভিযোগ ছিল, তৃণমূল কংগ্রেসের কিছু ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেন এবং টাকা পাচার করা হচ্ছিল।

তদন্তে নেমে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইডির দাবি, এপ্রিল ২০২৩ থেকে জুন ২০২৬-এর মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা পাঠানো হয় ‘মেসার্স কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’ এবং তার সহযোগী সংস্থায়।
এরপর, মেসার্স কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন ২০২৩-২০২৬ সালের মধ্যে আরও একটি নতুন সহযোগী সংস্থায় প্রায় ৮২.৯৬ কোটি টাকা পাঠায়। উদ্দেশ্য ছিল, একটি ‘এমব্রায়ের লেগাসি ৬০০’ বিমান এবং একটি নতুন ‘অগুস্টা ১০৯ গ্র্যান্ড’ চপার বা হেলিকপ্টার কেনা। এই বিমান ও হেলিকপ্টার কেনার জন্য মোট ১১২ কোটি টাকা ব্যবহার করা হয়। শুধু তাই নয়, ২০২৩ সালে ওই হেলিকপ্টার কেনার জন্য কেম্যান আইল্যান্ডস-এর একটি সংস্থা থেকে ১.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ‘আনসিকিয়োর্ড লোন’ বা অসুরক্ষিত ঋণেরও ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

ইডির প্রেস রিলিজে সবচেয়ে বড় যে অভিযোগ করা হয়েছে তা হল, তৃণমূলের তহবিল থেকেই টাকা দিয়ে এই বিলাসবহুল বিমান এবং হেলিকপ্টার কেনা হয়েছিল। কিন্তু কেনার পর, সেগুলি আবার ঘুরিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকেই বিমান ব্যবহারের অজুহাতে বা ভাড়ায় দেওয়া হত এবং তার পরিবর্তে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হত।
এই সন্দেহজনক ও জটিল লেনদেন প্রক্রিয়ার আসল উদ্দেশ্য কী এবং এর পেছনে মূল সুবিধাভোগী কারা, তা জানার চেষ্টা করছে ইডি। এই মুহূর্তে পিএমএলএ আইনের ১৭(১-এ) ধারা অনুযায়ী, এইচডিএফসি ব্যাংকে থাকা তৃণমূলের ৩টি অ্যাকাউন্টের ৪৪০.৪২ কোটি টাকা সম্পূর্ণ ফ্রিজ করে রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থা জানিয়েছে, ঘটনার আরও গভীরে যেতে তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে।
তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লেনদেনের প্রসঙ্গ তুলেছিল ঋতব্রত শিবির । ওই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা নিয়ে চাটার্ড বিমানে ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগ তোলেন বিদ্রোহী সাংসদরা । জুন মাসে সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চাইতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেকেও পাঠানো হয় সংসদে। মঙ্গলবার সকালে কলকাতার পাঁচ জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি।

উল্লেখ্য, ঋতব্রত শিবির থেকে লেনদেন নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল শুরুতে ভাঙনের পর পরই। সন্দেহভাজন আর্থিক আনাগোনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়। এদিকে, HDFC ব্যাঙ্কের সেন্ট্রাল প্লাজা শাখায় চিঠি লিখে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানান তৎকালীন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস।
আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল
অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় অন্যান্য অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে দেওয়ার আর্জি নিয়ে আদালতের হাজির হয় তৃণমূল। তৃণমূলের অভিযোগ, প্রথমে তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছিল, এখন সেই সংখ্যা আরও বেড়েছে। অতিরিক্ত হলফনামা দিয়ে জানাল তৃণমূল কংগ্রেস।
অন্যদিকে, বিচারপতি সুব্রত তালুকদার বিশেষ অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয় সব পক্ষের মত চাইল আদালতে। ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, তারা তিনটি অ্যাকাউন্টের উপর ভিত্তি করেই হলফনামা দিয়েছে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি রয়েছে।

