৫০ হাজার সাফাই কর্মীর হাতে ‘স্বচ্ছ কবচ’, বিশেষ কর্মসূচির সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী
deshersamay
রাজ্যে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার প্রধান কারিগর সাফাই কর্মীদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিশেষ কর্মসূচির সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বুধবার একটি পাইলট প্রজেক্ট বা পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে ‘স্বচ্ছ কবচ’ কর্মসূচির সূচনা করা হয়, যার অধীনে রাজ্যের ৫০,০০০ সাফাই কর্মীর হাতে বিশেষ সুরক্ষা কিট তুলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানমঞ্চে সশরীরে উপস্থিত প্রতিনিধিদের পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা ও নগরোন্নয়ন সংস্থার আধিকারিকেরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই কর্মসূচিতে যুক্ত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পুর অ নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ‘স্বচ্ছ কবচ’ কিট বিতরণের উদ্দেশ্য ও সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এরপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পরিচ্ছন্নতাকে একটি সামাজিক কর্তব্য ও নাগরিক চেতনার অঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’ আজ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এই ভাবনারই প্রতিফলন হিসেবে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে কলকাতা ও বিধাননগর পুরসভার যৌথ উদ্যোগে ‘স্বচ্ছতাতে স্বাগত’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল, যার ভূয়সী প্রশংসা খোদ প্রধানমন্ত্রী রেড রোডের ঐতিহাসিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানেও করেছেন।”
নিজের অতীতে পরিবেশ মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী শহরের পরিবেশগত অবক্ষয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, নাগরিক অসচেতনতা, নির্বিচারে বৃক্ষছেদন এবং কংক্রিটের জঙ্গলের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি, শহর এলাকায় ১৫ বছরের বেশি পুরনো গাড়ি চলাচলের ওপর নজরদারির অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এর সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে শিশু, কিশোর এবং প্রবীণ নাগরিকদের ওপর। এর ফলে চর্মরোগ এবং শ্বাসকষ্টজনিত নানাবিধ ব্যাধি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে শীতকালে বায়ু দূষণের সূচক এতটাই বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছে যায় যে, চিকিৎসকেরা ‘মর্নিং ওয়াক’ করতে পর্যন্ত নিষেধ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, শিলিগুড়ি থেকে আসানসোল কিংবা দার্জিলিং থেকে দিঘা— রাজ্যের প্রতিটি শহরের উন্নয়ন হতে হবে বহুমুখী ও ভারসাম্যপূর্ণ। ফ্লাইওভার, রোড ওভার ব্রিজ বা দৃষ্টিনন্দন অডিটোরিয়াম তৈরির যেমন প্রয়োজন রয়েছে, তেমনই সমগুরুত্ব দিতে হবে স্বচ্ছতা, পরিশ্রুত পানীয় জল সরবরাহ এবং অরণ্য সৃষ্টির মাধ্যমে সবুজায়নকে।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রী মনোহর লাল খাট্টারের উপস্থিতিতে ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’-এর উন্মোচন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র দেড় মাস সময় পেলেও অগ্নিমিত্রা পাল ও উমেশ রায়ের নেতৃত্বে এই দফতর উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি স্বচ্ছতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। এই জনমুখী ও পরিবেশবান্ধব দফতরকে আরও গতিশীল করতে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর, অর্থ দফতর ও রাজ্য ক্যাবিনেট সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
গত ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে শুরু হওয়া ‘মায়ের নামে একটি গাছ’ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বড়সড় পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, এই চলতি বছরে পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যজুড়ে মোট ৭ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। গাছ লাগানো এবং ছবি তোলার মধ্যেই যাতে দায়িত্ব শেষ না হয়ে যায়, তা নিশ্চিত করতে পরবর্তী দুই বছর এই গাছগুলির সম্পূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ করবে রাজ্য সরকার।
