বারুইপুর এনকাউন্টার: ‘ও যা করেছে, মৃত্যু হয়ে গিয়েছে, আমার শান্তি’, জানালেন প্রভাসের মা, মেয়ের দোষীর মৃত্যু সংবাদে খুুশি নির্যাতিতার বাবা
deshersamay

বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলায় পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যু হল অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। অভিযোগ, গণধর্ষণের পরে গলায় পা দিয়ে চেপে, পুকুরের জলে ছুড়ে ফেলে নৃশংস ভাবে খুন করা হয়েছে বারুইপুরের ১১ বছরের মেয়েকে। এই ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল। প্রভাসের মা প্রথম থেকেই বলে এসেছেন, ছেলে যে কাজ করেছে, তার কোনও ক্ষমা নেই। তিনিও চান, ছেলে কঠোর শাস্তি পাক।

পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে বারুইপুরের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। এই খবরে খুশি নির্যাতিতার পরিবার। বুধবার ওই নাবালিকার বাবা জানান, মুখ্যমন্ত্রীর উপরে তাঁদের পুরোপুরি ভরসা আছে। এই সরকার তাঁর ছোট্ট মেয়েকে বিচার পাইয়ে দেবে, সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে তাঁর। তিনি বলেন, ‘সরকারের উপরে, মুখ্যমন্ত্রীর উপরে আমাদের পুরোপুরি ভরসা আছে। সরকার যে ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, আমরা খুবই খুশি।’

মঙ্গলবার রাত প্রায় ১২টা ৪৫ নাগাদ বারুইপুর থানার তদন্তকারী অফিসার ও তাঁর টিম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য। পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণ শুরুর ঠিক আগেই প্রভাস একজন পুলিশ কর্মীর অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশ টিমের দিকে এক রাউন্ড গুলি চালায় এবং ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশের পাল্টা গুলিতে প্রভাস আহত হয়। বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর অভিযুক্তের মৃত্যুর খবর পৌঁছে দেওয়া হয় পরিবারের কাছে। তবে ছেলের মৃত্যুতে কোনও আক্ষেপ নেই বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন তার মা। এমনকি মৃতদেহ গ্রহণ করতেও হাসপাতালে যাবেন না বলেই জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

পুলিশের পক্ষ থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানানো হয়, প্রভাসের দেহ বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে রয়েছে। চাইলে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে তা দেখতে পারেন। কিন্তু সেই প্রস্তাবও ফিরিয়ে দেন অভিযুক্তের মা। তাঁর কথায়, ছেলে যে অপরাধ করেছে, তার পরিণতিই সে ভোগ করেছে। সেই কারণে মৃতদেহ আনারও কোনও প্রয়োজন দেখছেন না তিনি। বরং তাঁর মতে, নির্যাতিতার যে যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু হয়েছে, ছেলের পরিণতিও তেমনই হয়েছে। তাই এই ঘটনায় তাঁর কোনও দুঃখ বা আক্ষেপ নেই।
এর আগেও, ছেলে গ্রেফতার হওয়ার পর একই অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি। নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের
অভিযোগ সামনে আসার পরই ছেলের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছিল পরিবার। এনকাউন্টারের পর সেই অবস্থানেই অনড় থেকেছেন অভিযুক্তের মা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে অপরাধস্থলের পুনর্নির্মাণের জন্য প্রভাসকে বারুইপুরের সূর্যপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। রাত প্রায় ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ আচমকা এক পুলিশকর্মীর বন্দুক ছিনিয়ে তদন্তকারী দলকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি চালায় সে। এরপর পালানোর চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে দ্রুত বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
সকালে পুলিশ প্রভাসের বাড়ি গেলে তাঁর মা বেরিয়ে আসেন ঘর থেকে। তাঁকে পুলিশ জানায়, ছেলের মৃত্যু হয়েছে। দেহ রাখা আছে বারুইপুর হাসপাতালে। চাইলে গিয়ে দেখে আসতে পারেন। সাংবাদিকদের প্রৌঢ়া জানান, তাঁর কেউ নেই ফলে যাবে কে। আর তাঁর যাওয়ার শক্তি নেই।
ছেলের মৃত্যু নিয়ে বলতে গিয়ে দু-এক’বার থেমে তিনি বলেন, ‘সন্তান মারা গেলে মায়ের কষ্ট হবেই কিন্তু আমি যাব না। ও নেশা করত, মায়ের কথা শোনেনি। আমি গিয়ে ওকে এভাবে দেখে কী করব। পুলিশ আই কার্ড চেয়েছিল, আমি তাও জানি না কোথায় আছে। দেহ নিয়ে যা করার ওদের বলেছি করে নিতে।’

৫ জুলাই বারুইপুরের ওই নাবালিকার বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার হয় পুকুর থেকে। যৌন নির্যাতনের পরে জলে ডুবিয়ে মারা হয় তাকে। হাড়হিম এই ঘটনায় ফুঁসছে গোটা রাজ্য। সকলেই দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি করছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও প্রথমেই বলেছেন, ‘ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট’-এর কথা। জানিয়েছেন, ওই নাবালিকার পরিবার যা চান, তাই হবে।
