অগ্নিগর্ভ বারুইপুর: নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ , নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে কী কথা হল মুখ্যমন্ত্রীর ?
deshersamay

নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ। উত্তপ্ত বারুইপুর। দেহ আটকে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন এলাকাবাসীরা। টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ, পরপর গাড়িতে ভাঙচুর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আক্রান্ত পুলিশও। গণপিটুনির শিকার অভিযুক্তরা। তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা পুলিশের- রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে এলাকা। মৃত নাবালিকার বাবাকে ফোন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছে। অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে দেখা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছে ২ জনকে। এলাকায় ঘিরে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, বিষ্ণুপুর থানার আইসি-ও ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গণপিটুনিতে মৃত যুবকের নাম ইন্দ্রজিৎ তাঁতি (২৬)। বাসিন্দাদের অভিযোগ, নাবালিকাকে নির্মমভাবে অত্যাচার ও খুনের ঘটনায় ইন্দ্রজিৎ সরাসরি জড়িত ছিল। রবিবার সকালে তাকে এলাকায় দেখতে পেয়েই ধরে ফেলেন উত্তেজিত জনতা। এর পর চলে গণধোলাই। গুরুতর জখম অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই নৃশংস ঘটনায় ৪ থেকে ৫ জন জড়িত রয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করে বারুইপুর থানায় নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। কিন্তু বাকিদেরও অবিলম্বে গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে কুলপি রোডে নাবালিকার দেহ রেখে পথ অবরোধ শুরু হয়।
পুলিশ অবরোধ তুলতে গেলে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর চড়াও হন এবং সূর্যপুর পুলিশ ক্যাম্পে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।
ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে রেললাইনেও, যার জেরে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার নামখানা লাইনে দীর্ঘক্ষণ ট্রেন চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের স্পষ্ট অভিযোগ, পুলিশের চরম গাফিলতির কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে; পুলিশ শনিবার রাতে সময় মতো তৎপর হলে মেয়েটিকে হয়তো বাঁচানো যেত।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ১১ বছরের নাবালিকা শনিবার বিকেল থেকেই নিখোঁজ ছিল। পরিবারের অভিযোগ, ৪-৫ জন যুবক তাকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। রাতভর খোঁজাখুঁজির পর রবিবার সকালে এলাকারই একটি পুকুর থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, নাবালিকাকে পাশবিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। ঘটনার পর থমথমে বারুইপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি জারি রেখেছে পুলিশ।
এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম রূপ নিলে সরাসরি নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি শোকগ্রস্ত পরিবারটিকে সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের তরফ থেকে সব ধরনের কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দেন। আগামী মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নির্যাতিতার পরিবারকে কলকাতার ভবানী ভবনে ডেকে পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, সেদিন নবান্ন বা ভবানী ভবনে বসে পরিবারের সমস্ত দাবি শুনবেন এবং দোষীদের যাতে দৃষ্টান্তমূলক সাজা হয়, তা সুনিশ্চিত করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ এবং আশ্বাসের পর ক্ষোভ কিছুটা প্রশমিত হয় গ্রামবাসীদের। তাঁর অনুরোধে শেষ পর্যন্ত পথ ও রেল অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। তবে এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

