আজ আবেগ, কাল অর্জন—ভারতীয় ফুটবলের নতুন স্বপ্ন
deshersamay


ফুটবল বাংলায় প্রজন্ম ধরে বয়ে চলা একটি ঐতিহ্য। এই শহরের অলিগলি পাড়া মাঠ—সবখানেই ফুটবলের স্পন্দন। এই শহরে ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি মানুষের আবেগ, সংস্কৃতি এবং পরিচয়ের অংশ। বর্ষার কাদামাখা মাঠে খালি পায়ে বল গড়ানো থেকে শুরু করে ডার্বি ম্যাচের দিন সবুজ-মেরুন কিংবা লাল-হলুদ জার্সিতে রাস্তায় নেমে আসা সমর্থক—কলকাতার ফুটবলপ্রেম পৃথিবীর অন্যতম অনন্য উদাহরণ। বহু মানুষ রাত জেগে খেলা দেখে এবং প্রিয় দলের জয় পরাজয় কে নিজের জীবনের অংশ বলে মনে করেন। এই সময় গলি অঞ্চলে বিভিন্ন দেশ যেমন আর্জেন্টিনা ব্রাজিল ইত্যাদি পতাকা পোস্টার জার্সি দিয়ে সেজে ওঠে কলকাতা দেখে মনে হয় যেন এই শহরের প্রাণই হলো ফুটবল ।

যে শহর অন্য দেশের জন্য এত আবেগে ভাসে, সেই শহর কবে ভারতের জার্সি গায়ে বিশ্বকাপ খেলতে দেখবে? আধুনিক প্রশিক্ষণ, ভালো মাঠ, যোগ্য কোচ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব তাদের স্বপ্নকে থামিয়ে দেয়। জাতীয় দল নির্বাচনের একমাত্র ভিত্তি হওয়া উচিত পারফরম্যান্স, ফিটনেস এবং ধারাবাহিকতা। ভারতের যে প্রান্ত থেকেই প্রতিভা উঠে আসুক না কেন, তার জন্য জাতীয় দলের দরজা সমানভাবে খোলা থাকা উচিত। যোগ্যতার চেয়ে পরিচিতি বড় হয়ে গেলে দেশের ফুটবল কখনও এগোতে পারে না। ফুটবলের উন্নতির জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে নিয়মিত ফুটবল প্রতিযোগিতা চালু করতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি জেলায় আধুনিক ফুটবল একাডেমি এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক মানের কোচ, ফিটনেস ট্রেনার, গোলকিপিং কোচ এবং স্পোর্টস সাইকোলজিস্ট নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি দেশীয় লিগগুলিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও দীর্ঘমেয়াদি করতে হবে, যাতে তরুণ খেলোয়াড়রা পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ পান। উন্নত ফুটবল খেলুড়ে দেশগুলোতে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ভারতে এখনও সেই ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। আধুনিক কোচিং, পুষ্টিবিদ, ফিটনেস বিশেষজ্ঞ এবং স্পোর্টস সাইকোলজিস্টের ব্যবহার আরও বাড়াতে হবে।

কলকাতা আজও স্বপ্ন দেখে। সেই স্বপ্ন শুধু কোনো বিদেশি দলের ট্রফি জেতা নয়। সেই স্বপ্ন একদিন ভারতের জাতীয় সঙ্গীত বিশ্বকাপের মাঠে বাজবে, আর কোটি কোটি ভারতীয় গর্ব করে বলবে—”এটাই আমাদের দল।” গ্যালারিতে হাজার হাজার সমর্থকের একসঙ্গে গর্জে ওঠা, প্রিয় দলের একটি গোলেই অপরিচিত মানুষকে জড়িয়ে ধরে আনন্দে কেঁদে ফেলা—এই দৃশ্য শুধু কলকাতাতেই সম্ভব। হারলেও চোখে জল, জিতলেও চোখে জল; কারণ এখানে ফুটবল শুধুই জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়, এটি ভালোবাসার আরেক নাম। আর্জেন্টিনার এক সমর্থক শিব সংকর পাত্র উনি অনেক বোরো বক্ত লিওনেল মেসি এবং দিয়েগো ম্যারাডোনার তিনি তার পুরো বাড়ি নীল সাদা রঙে রাঙিয়ে তুলেছে ও বাড়ির প্রতিটা ঘরেও তাদের ছবি লাগানো. এইরম ভাবলবাসা কলকাতাতেই সম্ভব। রাতভর খেলা দেখা, বাড়ির ছাদে বিদেশি দলের পতাকা ওড়ানো, জার্সি পরে রাস্তায় নেমে উৎসব করা—এই উন্মাদনা প্রমাণ করে, বাঙালির হৃদস্পন্দনে ফুটবল আজও জীবন্ত। এই শহরের মানুষের একটাই স্বপ্ন—যেদিন বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতের জার্সি গায়ে এগারো জন ফুটবলার মাঠে নামবে, সেদিন কলকাতার উল্লাসকে আর কোনো শব্দে বর্ণনা করা যাবে না।
