২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি তুঙ্গে, তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে কত টাকা?কীভাবে, কোন শিবির লেনদেন করবে ? অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় বড় আপডেট
deshersamay
অরূপ বিশ্বাসের চিঠি, পরবর্তী কালে ঋতব্রত শিবিরের বিধায়কদের চিঠি। তার পরিপ্রেক্ষিতে ফ্রিজ করে দেওয়া হয় তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্ট। তবে দলের দৈনন্দিন কাজে, লেনদেন বন্ধ থাকায়, সমস্যায় পড়তে হচ্ছে দু’শিবিরকেই। এর আগেই অ্যাকাউন্ট মামলায়, আদালতেই ধাক্কা খায় কালীঘাট শিবির। সোমবার জরুরি ভিত্তিতে এই মামলার শুনানির দাবি জানানো হয়। তা খারিজ হয়ে যায়। মঙ্গলেও এই মামলার শুনানি পিছিয়ে যায়, বৃহস্পতিতে।

তৃণমূলের কংগ্রেসের অ্যাকাউন্টে কত টাকা রয়েছে? আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে জানাতে হবে। কোলকাতা হাইকোর্টে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে নির্দেশ দিলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। আগামী বুধবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি।

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে তৃণমূল কংগ্রেস। একদিকে কালীঘাট (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) তৃণমূল, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (বিরোধী দলনেতা) তৃণমূল। এর মধ্যেই দলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ার পর থেকেই চরম অস্বস্তিতে পড়েছে কালীঘাট শিবির। দলের তহবিলে আসলে কার অধিকার থাকবে, তা নিয়েই মূলত আইনি লড়াইয়ে নেমেছে ঘাসফুল শিবির।

প্রসঙ্গত, দলের প্রায় ৪৪০ কোটি টাকার এই বিপুল তহবিল নিয়ে বর্তমানে মমতা পন্থী বনাম ঋতব্রত পন্থীদের লড়াইয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। তৃণমূলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস হঠাৎই এইচডিএফসি (HDFC) ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়ে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার দাবি জানান, যার জেরে ৩টি অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়। এর মধ্যেই বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলে ঋতব্রত শিবিরের ১০ জন বিধায়ক পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁদের দাবি ছিল, দলের এই ৪৪০ কোটি টাকার উৎসে এবং লেনদেনে স্বচ্ছতা নেই, তাই অবিলম্বে অ্যাকাউন্টগুলি ব্লক করা হোক। বিধায়কদের এই চিঠির ভিত্তিতেই পুলিশ প্রশাসন ও ব্যাঙ্ক তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করে অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করে দেয়।

আইনি ও রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেই বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের তহবিল প্রসঙ্গে বড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তহবিল সংক্রান্ত মামলায় সমস্ত পক্ষের বক্তব্য লিখিত আকারে জমা দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে সোমবার জরুরি ভিত্তিতে এই মামলার শুনানির আর্জি জানিয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন কালীঘাট তৃণমূলের আইনজীবী। তখন আদালত জানিয়েছিল, সব পক্ষকে নোটিস দেওয়ার পর মঙ্গলবার শুনানির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে মঙ্গলবার সকালে কালীঘাটের দ্রুত শুনানির আবেদনটি সম্পূর্ণ খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। বলা হয় বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি হবে। সেই শুনানিতেই এই নির্দেশ।

বিধানসভা ভোটের ফলাফলে ধরাশায়ী তৃণমূল কংগ্রেস। এরপরই দলের বেশিরভাগ বিধায়কই ‘বিদ্রোহী’। তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে মাত্র কয়েকজন বিধায়ক। ঋতব্রত ব্যানার্জির নেতৃত্বে ‘বিদ্রোহী’ শিবির নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করেছে। উভয় শিবিরই সংগঠনের নতুন পদাধিকারী নিয়োগ করে নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়েছে। ফলে প্রশ্নের মুখে জোড়া-ফুলের নেতৃত্বভার। এসবের মধ্যেই সংগঠনে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কথা উল্লেখ করে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানিয়েছিলেন দলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস। ‘বিদ্রোহী’রা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন।
মামলা সম্পর্কে আগেই, সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার জানিয়েছিলেন, সোমবার মামলার নথি হাতে পেয়েছেন। ফলে বৃহস্পতিবারের আগে মামলার শুনানি শুরু হলে তা অত্যন্ত অসুবিধা হবে।

