শওকতের ছেলের ক্যাফেতে চলল বুলডোজ়ার, ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল ‘অরণ্যের কূলে’
deshersamay

অবশেষে বুলডোজার চলল তৃণমূল নেতা তথা ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার ছেলে ইমরান মোল্লার ক্যাফেতে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ের মৌখালি এলাকায় ‘অরণ্যের কূলে’ নামে ওই ক্যাফেটি ভাঙার কাজ শুরু করে প্রশাসন। অভিযোগ, মাতলা নদীর চর এবং সেচ দফতরের জমি দখল করে কোনও বৈধ অনুমতি ছাড়াই সেটি তৈরি করা হয়েছিল। আগেই ভাঙার নোটিস জারি করেছিল মহকুমা প্রশাসন। সেই নির্দেশ কার্যকর করতেই এদিন শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান।

শওকত মোল্লার ছেলে ইমরানের বেআইনি ক্যাফেতে চলল বুলডোজ়ার। মাতলা নদীর চর দখল করে বেআইনিভাবে ক্যাফে তৈরির অভিযোগ উঠেছিল। সব নথি খতিয়ে দেখে ক্যাফে ভাঙার নির্দেশ দেয় জেলা প্রশাসন। তবে, সেই নির্দেশকে গুরুত্ব দেয়নি শওকত মোল্লা বা তাঁর ছেলে । এবার প্রশাসনের তরফেই বুলজোজ়ার চালিয়ে ক্যাফে ভাঙার কাজ শুরু হল। আজ ভোরেই ক্যাফের সামনে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীও। তারপরই শুরু হয় ক্যাফে ভাঙার কাজ।

দিন কয়েক আগেই প্রশাসনের তরফে নোটিস দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ২৯ তারিখের মধ্যে ভেঙে ফেলতে হবে ক্যাফেটি। তা না হলে প্রশাসনই বুলডোজার চালাবে। প্রশাসনের নির্দেশের পর দেখা যায়, ওই ক্যাফে থেকে জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু, নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও ক্যাফে ভাঙা হয়নি। তাই প্রশাসনই ওই ক্যাফে ভাঙার কাজ শুরু করে আজ। ভোরেই সেখানে পৌঁছে যান প্রশাসনিক আধিকারিকরা। বুলডোজার দিয়ে প্রথমে ভাঙা হয় ক্যাফের গেট। তারপর একে একে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ক্যাফের ভিতরের ‘সাজানো বাগান’। প্রসঙ্গত, বেআইনি ক্যাফের খবর প্রথম দেখিয়েছিল টিভি৯ বাংলা। এরপরই প্রশাসনের তৎপরতায় ক্যাফে ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ক্যানিং পূর্বের বিডিও অফিসারের তত্ত্বাবধানে ভাঙার কাজ চলছিল। তিনি জানান, সরকারি জমির উপর একটা বেআইনি নির্মাণ ছিল। সেটা নিয়ে অভিযোগ জানানো হয়। শুনানির পর একটা সময় দেওয়া হয় ওঁদের। নিজের থেকে ক্যাফে ভাঙার সময় দেওয়া হয়। সেই সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর সরকারি নিয়ম মেনে ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রের দাবি, শওকত মোল্লা বিধায়ক থাকাকালীন মাতলা নদীর চরের উপর ক্যাফেটি গড়ে তোলা হয়। অভিযোগ, সরকারি জমি দখল করে নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘদিন নির্বিঘ্নে ব্যবসা চলেছে সেখানে। বিষয়টি সামনে আসার পর ইমরান মোল্লাকে ক্যাফের সমস্ত নথি নিয়ে মহকুমাশাসকের দফতরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

প্রশাসনের তরফে নথিপত্র খতিয়ে দেখে জানা যায়, ক্যাফেটি যে জমির উপর তৈরি হয়েছে, তা সেচ দফতরের অধীন এবং সেখানে নির্মাণের কোনও বৈধ অনুমোদন নেই। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই মহকুমাশাসক বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ দেন।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সেই নির্দেশ কার্যকর করতে ভারী যন্ত্র নিয়ে অভিযানে নামে প্রশাসন। একের পর এক অংশ ভেঙে ফেলা হচ্ছে বহুল আলোচিত ক্যাফেটির। প্রশাসনের দাবি, সরকারি জমি দখল করে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে এই অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে এবং আইনের বাইরে গিয়ে তৈরি কোনও স্থাপনাকেই রেয়াত করা হবে না।

