পেট্রাপোলে পাসপোর্ট-ভিসা দেখিয়ে বাংলাদেশে গেলেন ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী: দেখুন ভিডিও
deshersamay


দেশের সময় -পেট্রাপোল : বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী শুক্রবার পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে সড়কপথে বাংলাদেশে গেলেন। পেট্রাপোল বন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান বনগাঁ দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার। বেনাপোলে প্রবেশের আগে তিনি পেট্রাপোলের সুসংহত চেকপোস্ট পরিদর্শন করেন। স্বপন জানান, এ দিনই প্রথম বার সড়কপথে বাংলাদেশে গেলেন দীনেশ ত্রিবেদী। পথে বিভিন্ন পরিকাঠামোও তিনি পরিদর্শন করেন।

এদিনই ঢাকা পৌছালেন বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। শুক্রবার ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের উপ হাই কমিশনার তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। দীনেশ ত্রিবেদী সদ্য বদলি হওয়া প্রণয় ভার্মার স্থলাভাষিক্ত হলেন। দেখুন ভিডিও
ভারত এই প্রথম বাংলাদেশে একজন রাজনৈতিক নেতাকে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অত্যন্ত আস্থাভাজন দীনেশ ত্রিবেদী কংগ্রেস জনতাদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মতো একাধিক দলে রাজনৈতিক জীবন কাটিয়েছেন।

তাৎপর্যপূর্ণ হলো দীনেশ ত্রিবেদী কলকাতা থেকে বিমানে ঢাকা পৌঁছানি। তিনি কলকাতা থেকে প্রথমে বনগাঁয় পেট্রাপোল সীমান্তে যান। সেখান থেকে বাংলাদেশের বেনাপোল সীমান্তে পাসপোর্ট ভিসা সহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখিয়ে তিনি বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন। সঙ্গে গিয়েছেন তাঁর স্ত্রী মিনাল ত্রিবেদী।

বেনাপোল সীমান্তে উপস্থিত বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে কিছু সময় কথা বলেছেন নতুন হাই কমিশনার। তিনি বলেন, ভারতের জনসংখ্যা ১৪০ কোটি। বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় কুড়ি কোটি। অর্থাৎ দুই দেশ মিলিয়ে ১৬০ কোটি জনসংখ্যা। তিনি এই ১৬০ কোটির স্বার্থে কাজ করবেন বলে ঘোষণা করেন নতুন হাইকমিশনার। দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ দুটি উন্নত গণতন্ত্র। এই দুই গণতন্ত্র একত্রে কাজ করলে গোটা পৃথিবীর কাছে তা দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে। বেনাপোল থেকে তিনি সড়কপথে ঢাকা পৌঁছান।
তাঁর সড়কপথে বাংলাদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে নানা মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। এমন এক সময় দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের হাইকমিশনারের দায়িত্ব নিলেন যখন দুই দেশের মধ্যে অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভারতের চিহ্নিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের পড়শি দেশ ফেরত নিতে অস্বীকার করছে। ভারতের সাফ কথা, পাসপোর্ট ভিসা ছাড়া যারা ভারতে প্রবেশ করেছে, তারা সকলেই অনুপ্রবেশকারী। তাদেরকে ভারত থেকে বিদায় করা হবে।

এই প্রেক্ষাপটে দীনেশ ত্রিবেদীর বেনাপোল সীমান্তে নথিপত্র দেখিয়ে বাংলাদেশে পা রাখার সিদ্ধান্তকে অনেকেই মনে করছেন কীভাবে বৈধ উপায়ে এক দেশের নাগরিকের আর এক দেশে প্রবেশ করতে হয় পয়লা দিনেই সে ব্যাপারে বার্তা দিলেন নতুন হাইকমিশনার।
অবশ্য কোনও কোনও মহল মনে করছে, সড়ক পথ বেছে নিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা চাক্ষুষ করে ঢাকা পৌঁছে ওই দেশের প্রতি তার আন্তরিকতা ও আকর্ষণের বার্তা দিতে চেয়েছেন। বার্তা দিতে চেয়েছেন তিনি দেশটিকে ভালো করে চিনে নিতে চান।
এর আগে হাইকমিশনারদের মধ্যে বিক্রম দোরাইস্বামী সড়কপথে বাংলাদেশে গিয়েছিলেন। তবে তখন করোনা পরিস্থিতি থাকায় বিমান যাত্রা এড়িয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এখন তেমন কোন পরিস্থিতি নেই। তারপরও দীনেশ ত্রিবেদীর বিমানে সরাসরি ঢাকায় না গিয়ে সড়কপথে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ অত্যন্ত তাৎপর্যবাহী বলেই অনেকে মনে করছেন।

বাংলাদেশের কোন কোন মহল মনে করছে, দীনেশ ত্রিবেদীর এই সিদ্ধান্তে সেদেশের পরিকাঠামোর উন্নতির ইতিবাচক দিকটি ফুটে উঠেছে। সকালে কলকাতা থেকে রওনা হয়ে দুপুর গড়ানোর আগেই তিনি ঢাকা পৌঁছে যান। যশোর থেকে ঢাকা যাওয়ার অনেকগুলি বিকল্প রাস্তা আছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো পদ্মা সেতু পেরিয়ে দ্রুততম সময়ে ঢাকা পৌঁছে যাওয়া সম্ভব। ওই সেতু তৈরি হয় শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রী থাকার সময়।
