TMC MPs: কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাসভবনে গোপন বৈঠক তৃণমূল সাংসদদের, শাহের সঙ্গে আজই কি মেগা মোলাকাত?
deshersamay


ইন্ডি জোটের বৈঠক চলাকালীনই গোপন বৈঠকে তৃণমূলের বিক্ষুদ্ধ সাংসদরা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বিক্ষুব্ধ সংসদরা বৈঠক করছেন ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে। জানা যাচ্ছে, ৯ নম্বর মতিলাল নেহেরু মার্গ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনেই বৈঠকে বসেছেন তাঁরা। এখানেই দুপুরে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার আগেই তিনটি গাড়িতে পৌঁছন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদরা।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো— আজই কি তবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর মুখোমুখি হচ্ছেন বিদ্রোহী সাংসদরা? এবং পর্দার আড়ালে থেকে তৃণমূলের ১৫-১৬জন সাংসদকে এককাট্টা করে রফাসূত্র চূড়ান্ত করছেন কোন কোন হেভিওয়েট নেতা?
সুখেন্দু শেখর রায় এদিন পদত্যাগ করে গিয়েই ফোন সুইচ অফ করে দেন। তিনি বলেই গিয়েছিলেন, তৃণমূল থেকে তিনি পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু তৃণমূল ভাঙানোর রাজনীতিতেও যে তিনি সক্রিয়, তা খানিকটা এই ছবিতেই স্পষ্ট। রাজ্যসভার সাংসদ হিসাবে উপ রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরই এই বাসভবনে পৌঁছে যান সুখেন্দু শেখর।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে মিটিং চলছে। সূত্রের খবর, সেই মিটিংয়ে হাজির রয়েছেন একাধিক বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদ। তাহলে কি লোকসভা ও রাজ্যসভাতেও বড় ভাঙনের মুখে তৃণমূল?
৮ জুন, দিল্লিতে বিরোধী ‘ইন্ডি শিবিরে’-র বৈঠক। তার আগে একই সময়ে দিল্লিতে গোপনে বৈঠকে বসেছিলেন তৃণমূলের লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদেরা, খবর সূত্রের। এর মধ্যেই সাংসদ হিসেবে এবং দল থেকে পদত্যাগ করেছেন রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়। সূত্রের খবর, এর পরে ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে মিটিংয়ে বসেছেন ওই বিক্ষুব্ধ সাংসদেরা।

সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে দিল্লিতে বিক্ষুব্ধ সংসদরা বৈঠক করছেন ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে। বেশ কিছুক্ষণ বৈঠকের পরে, দুুপুর ২টো নাগাদ মিটিং শেষ করে বেরিয়ে যান শুভেন্দু অধিকারী, খবর সূত্রের। তারপরেও ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে রয়েছেন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদেরা।
তার আগে তাঁরা নিজেরা আলাদা একটি মিটিং করেছিলেন বলে সূত্রের খবর। সূত্রের খবর, লোকসভা ও রাজ্যসভায় তৃণমূলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুখ এই মিটিংয়ে ছিলেন। সাংসদ হিসেবে থাকা বেশ কিছু পুরোনো মুখের সঙ্গে কিছু নতুন মুখকেও এই মিটিংয়ে দেখা গিয়েছে। সূত্রের খবর, তৃণমূলের প্রায় ২০ জন সাংসদ বিদ্রোহী হয়ে এই বৈঠকে ছিলেন। কোনও কোনও সূত্রের খবর, সেই সংখ্যাটি ১২। তবে সংখ্যাটি ঠিক কত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে রয়েছেন, সেই সময়ে আলাদা করে এই বৈঠক বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সম্প্রতি বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দল ছারখার হয়েছে। ৮০ জনের মধ্যে ৬০ জন আলাদা করে গোষ্ঠী তৈরি করে, আলাদা ভাবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করেন। সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান, শিউলি সাহা, সাবিনা ইয়াসমিন উপ-বিরোধী দলনেতা।
সোমবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, সংসদের পরিষদীয় দলের সদস্যরা এক সঙ্গে বসতেই পারেন, তাতে সমস্যা কোথায়। বিরোধী দলনেতা বলেন, ‘আমাদের যা ইচ্ছে রয়েছে… কলকাতা থেকে দিল্লির দূরত্ব ১৪৩৫ কিলোমিটার… এই ইচ্ছে কলকাতা থেকে দিল্লি পৌঁছ গিয়েছে।’ একাধিক সাংসদের সঙ্গে রবিবারই তাঁর কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সদ্য পদত্যাগী সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন ঋতব্রত। তাঁর দাবি, ‘সুখেন্দুদা যে কথাগুলো বলেছেন, তাঁর সঙ্গে আমরা একমত।’ সাংসদ হিসেবে সুখেন্দু শেখর রায়ের অভিজ্ঞতা তাঁরও হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ঠিক যে ভাবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে গিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়করা বিরোধী দলনেতা বেছে নিয়েছেন, দিল্লিতে লোকসভা ও রাজ্যসভাতে জোড়াফুলের বেসুরো সাংসদরাও সেই একই রণকৌশল নিতে চলেছেন বলে গত ক’দিন ধরেই গুঞ্জন রয়েছে।
তৃণমূলে ভাঙনের আবহ রাজ্য থেকে দিল্লিতেও পৌঁছে গিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। রাজ্যে বিধানসভায় কদিন আগে ভাঙনের ছবি দেখা গিয়েছে। কলকাতা পুরসভাতেও একইরকম আবহ। শনিবার দলের কাউন্সিলারদের বৈঠকে ডেকেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। কিন্তু অধিকাংশ কাউন্সিলার সেই বৈঠকে সাড়া দেননি। তারপরে দিল্লি গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দিল্লিতে থাকার সময়েই তৃণমূলে বড় ভাঙন হতে চলেছে? এ দিন বিদ্রোহী ও বিক্ষুব্ধ সাংসদদের বৈঠকের পরে কী হবে, সেই দিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দের সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে চলা এই বৈঠকটি অত্যন্ত ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে। সাংসদদের ২টি প্রধান শর্ত (২০২৯-এর টিকিট গ্যারান্টি, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা) নিয়ে আলোচনা যদি ১০০% ফলপ্রসূ হয়, তবে আজ সোমবার বিকেলেই এই সমস্ত বিদ্রোহী সাংসদদের নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বাসভবনে যাওয়া হতে পারে। সেখানেই শাহের উপস্থিতিতে মেগা রফাসূত্রে চূড়ান্ত সিলমোহর পড়তে পারে এবং বিকেলের মধ্যেই দিল্লির বুকে আসতে পারে বছরের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ঘোষণা!

পর্দার আড়ালে আগেই কথা দিয়ে রেখেছেন ৪ তারকা সাংসদ: রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (হুগলি) — বর্তমানে পারিবারিক ভেকেশনে বিদেশে থাকলেও দিল্লির সঙ্গে পাকা কথা সেরে রেখেছেন। ইউসুফ পাঠান (বহরমপুর)। দেব অধিকারী (ঘাটাল)। এবং শত্রুঘ্ন সিনহা (আসানসোল)।
এছাড়াও আরও ৩ জন লোকসভা সাংসদ এই মুহূর্তে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগে রয়েছেন। ফলে আজ বিকেল গড়াতেই দিল্লির বুক থেকে বাংলার রাজনীতিতে কী সুনামি আছড়ে পড়ে, এখন সেটাই দেখার।
