তৃণমূলে ‘ডিম্বাস্ত্র’আতঙ্ক!ববির উত্তরসূরি খোঁজার রবিবাসরীয় বৈঠক বাতিল?
deshersamay


বিধানসভা বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর দখলে, লোকসভাতেও তেমনকিছু ঘটবে, জল্পনা তেমনটাই। এবার কি লালবাড়িতেও বিক্ষোভ! কাউন্সিলররা শুনছেন না দলনেত্রীর কথা?

কলকাতা পুরসভার নতুন মেয়র কে হবেন, সেই নিয়ে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে তৃণমূলের। এদিকে ঠিক তখনই শাসকশিবিরে আচমকা থাবা বসাল ‘ডিম্বাস্ত্র’! সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আর ডিমের ঘা থেকে বাঁচতে রবিবার বিকেলে ইস্টার্ন বাইপাসের ধারের তৃণমূল ভবনে ডাকা কাউন্সিলরদের বৈঠকটি শেষ মুহূর্তে বাতিল করে দিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ।

তৃণমূলের সূত্রের খবর, রবিবার বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ তৃণমূল ভবনে কাউন্সিলরদের নিয়ে যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, সেখানে বড়সড় গোলমালের আশঙ্কা ছিল ষোলো আনা। শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে খবর আসে, এই বৈঠকের সুযোগ নিয়ে দলীয় কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে পারে প্রধান বিরোধী দল বিজেপি।
কেবল রাজনৈতিক দলই নয়, কাউন্সিলরদের ওপর জমে থাকা আমজনতার ক্ষোভও সরাসরি আছড়ে পড়তে পারে। পরিস্থিতি এমন রূপ নিতে পারে যেখানে ক্ষুব্ধ জনতা জনপ্রতিনিধিদের লক্ষ্য করে দেদার ‘ডিম’ ছুড়তে পারেন! এই ‘ডিম্বাস্ত্র’র আগাম খবর চাউর হতেই কার্যত হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যায় পুরসভার বহু কাউন্সিলরের।

জনরোষের মুখে পড়া আর কাপড়ে ডিমের দাগ মেখে বৈঠকে যোগ দিতে একপ্রকার সোজা অসম্মতি জানান অনেক জনপ্রতিনিধিই। উচ্চ নেতৃত্বের কাছে তাঁদের তরফ থেকে স্পষ্ট বার্তা পাঠানো হতে থাকে যে, এই পরিস্থিতিতে সশরীরে হাজির হওয়া বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। আর তাতেই শেষ মুহূর্তে বৈঠক বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠক বাতিলের নেপথ্যে রয়েছে দলনেত্রীর আরও এক চতুর কূটনৈতিক চাল। সোমবারই দিল্লিতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA)-র হাইভোল্টেজ বৈঠকে যোগ দিতে উড়ে যাওয়ার কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

নির্বাচনী ভরাডুবির পর এটাই জোটের প্রথম বৈঠক। তার ঠিক আগের দিন কলকাতার বুকে তৃণমূল ভবনে ভাঙচুর বা দলীয় কাউন্সিলরদের গায়ে ডিম ছোড়ার মতো কোনও অপ্রীতিকর কেলেঙ্কারি ঘটলে, তা জাতীয় রাজনীতিতে দলের ভাবমূর্তির জন্য মোটেও ভাল হত না। তাই দিল্লির বিমান ধরার আগে কোনও রকম ঝুঁকি না নিয়ে শান্তিতেই জল মাপতে চাইলেন নেত্রী।
ফিরহাদ হাকিমের নাটকীয় ইস্তফার পর কলকাতা পুরসভায় এখন কার্যত চরম প্রশাসনিক অচলাবস্থা। এরই মধ্যে কেন পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রাজ্য সরকারের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর থেকে ৩ দিনের ডেডলাইন দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এই সময়ের অভাব মেটাতেই এবার কোমর বেঁধেছে দল। প্রকাশ্য বৈঠক বাতিল হলেও নতুন মেয়র নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর সংগ্রহ করার কাজ গোপনে করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। কোনও অজ্ঞাত জায়গায় কাউন্সিলরদের ডেকে নাকি চুপিচুপি সই করিয়ে নেবে দল।
