আরজি কর মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত বিরূপাক্ষ বিশ্বাসকে বরখাস্ত করা হল , দায়ের মামলাও! RG Karকাণ্ডের জাল গোটাচ্ছে নতুন সরকার?
deshersamay



আর জি কর-কাণ্ডের পর থেকেই রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ‘থ্রেট কালচার’, দুর্নীতি এবং স্বজনপোষণ নিয়ে একের পর এক অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই সময় ওই হাসপাতালের প্যাথোলজি বিভাগের সিনিয়র রেসিডেন্ট বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে হুমকি সংস্কৃতিতে মদতের অভিযোগ ওঠে। এরপর তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল স্বাস্থ্য দফতর। বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষদের নিয়ে তৈরি সেই কমিটি পরে রিপোর্ট জমা দেয় এবং অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণও মেলে বলে সূত্রের খবর।
এবার তাঁর বিরুদ্ধেই বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন সিনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডাঃ বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগ, এফআইআর, দুর্নীতি দমন শাখার তদন্ত এবং এনকোয়ারি রিপোর্টে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাঁর সিনিয়র রেসিডেন্সি অবিলম্বে বাতিল করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ভবনের তরফে জারি হওয়া নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তদন্তে ওঠা অভিযোগগুলিকে ‘প্রমাণিত’।

সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, ইন্ডেমনিটি বন্ড বাবদ ২০ লক্ষ টাকা ফেরত দিতে হবে বিরূপাক্ষ বিশ্বাসকে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সরকারি চাকরিতে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলকেও জানানো হচ্ছে বিষয়টি। স্বাস্থ্য দফতরের এই পদক্ষেপ ঘিরে চিকিৎসক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
আরজি করের ঘটনায় কান টানলে মাথা আসে পরিস্থিতি হওয়ায় বিরূপাক্ষর নাম উঠেছিল। সাসপেন্ড করেছিল রাজ্য সরকার। জানুয়ারিতে এই চিকিৎসককেই হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড প্রকাশিত অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর নিয়োগের প্যানেলে দেখা যায়। চিকিৎসকদের একাংশের অভিযোগ ছিল, যাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং যাঁর সাসপেনশন এখনও সরকারিভাবে প্রত্যাহার হয়নি, তিনি কী করে সরকারি শিক্ষক-চিকিৎসক নিয়োগের প্যানেলে জায়গা পেলেন?

চিকিৎসক সংগঠনগুলির একাংশ চারটি বড় প্রশ্ন তুলেছিল এই ঘটনা সামনে আসাপ পর। প্রথমত, সাসপেনশনে থাকা অবস্থায় তিনি কী ভাবে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিলেন? দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্য ভবনের ‘নো অবজেকশন’ ছাড়া কী ভাবে আবেদন করলেন? তৃতীয়ত, বন্ডের তিন বছরের সিনিয়র রেসিডেন্সি সম্পূর্ণ না করেই কী ভাবে সরকারি চাকরির জন্য আবেদন করা সম্ভব হল? এবং চতুর্থত, তাঁর এমবিবিএস ও এমডি-র মূল শংসাপত্র যেহেতু সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল কলেজের কাছেই গচ্ছিত থাকার কথা, তা হলে কোন নথির ভিত্তিতে তিনি আবেদন করলেন?
স্বাস্থ্য-শিক্ষা বিভাগের এক পদস্থ আধিকারিকের বক্তব্য, বিরূপাক্ষ সম্ভবত ব্যক্তিগত ভাবে পরীক্ষায় বসেছিলেন। এনিয়ে পরে আর বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তবে, শুক্রবার স্বাস্থ্য দফতরের তরফে সাফ জানানো হয়,

- তদন্তে ওঠা অভিযোগগুলিকে কার্যত প্রমাণিত
- ইন্ডেমনিটি বন্ড বাবদ ২০ লক্ষ টাকা ফেরত দিতে হবে এই চিকিৎসককে
- ভবিষ্যতে সরকারি চাকরিতে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলকে জানানো হচ্ছে।

