হাবরা পুরপ্রধান ঘিরে বিক্ষোভ ব্যবসায়ীদের , অনুদান ফেরাতে মুচলেকা
deshersamay


বস্ত্রহাটের উন্নয়নে নেওয়া ‘অনুদান’ ফেরতের দাবিতে বৃহস্পতিবার হাবরা পুরসভার চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহার বাড়িতে চড়াও হন ব্যবসায়ীরা। টাকা ফেরতের দাবিতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চেয়ারম্যানকে আটকে রেখে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভে বৃহস্পতিবার উত্তেজনা তৈরি হয় শহরে। শেষ পর্যন্ত টাকা ফেরতের লিখিত মুচলেকা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন চেয়ারম্যান।

বিগত রাজ্য সরকারের উদ্যোগে হাবরার জয়গাছি সুপারমার্কেট চত্বরে বস্ত্র ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বিশাল বহুতল ভবন নির্মিত হয়। দীর্ঘদিন ধরেই জয়গাছি সংলগ্ন যশোহর রোডের ধারের ফুটপাথে বসে জামাকাপড় বিক্রি করতেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতা, বিক্রেতাদের ভিড়ে যশোহর রোডে যানজটের সৃষ্টি হতো। এই সব সমস্যা দূর করতেই বস্ত্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের জন্য নির্মিত হয় জয়গাছি বস্ত্রহাট।

অভিযোগ, দোকান বরাদ্দ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের আশ্বাস দেখিয়ে পুরসভার পক্ষ থেকে মোট ৭৪ জন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে দু’ভাগে এক লক্ষ টাকা করে অনুদান সংগ্রহ করা হয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, অনুদানের অর্থ বস্ত্রহাটের পরিকাঠামো উন্নতির কাজে ব্যবহার করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দোকান বণ্টন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়তে থাকে ব্যবসায়ীদের। অভিযোগ ওঠে, নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোয়নি। সেই থেকেই টাকা ফেরতের দাবি জোরালো হতে থাকে।

বিধানসভা ভোটে হাবরা কেন্দ্রেও তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছে। বিজেপির বিধায়ক হয়েছেন দেবদাস মণ্ডল। এ দিন সকালে একজোট হয়ে ব্যবসায়ীরা সরাসরি চেয়ারম্যান নারায়ণচন্দ্র সাহার বাড়িতে পৌঁছে যান। টাকা ফেরতের দাবিতে ঘিরে ফেলা হয় বাড়ি। বিক্ষোভকারীদের প্রশ্ন, দোকান দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়া হয়েছে কাজের কথা বলা হলেও বাস্তবে কিছুই হয়নি। উত্তেজনা সামাল দিতে হিমশিম খায় পুলিশ।

বিক্ষোভের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত চেয়ারম্যান ১৫ দিনের মধ্যে টাকা ফেরতের লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন। সেই মুচলেকা হাতে পাওয়ার পরই ঘেরাও প্রত্যাহার করেন ব্যবসায়ীরা। নারায়ণ বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের নাম পরিবর্তনের জন্য টাকা নেওয়া হয়েছিল। ব্যক্তিগত ভাবে আমি কোনও টাকা নিইনি। পুরসভার উন্নয়নের জন্যই ওই অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। ব্যবসায়ীরা এখন সেই টাকা ফেরত চাইছেন। ১৫ দিনের মধ্যে আমরা বিষয়টি মিটিয়ে দেব।’ বিজেপি নেতা তথা বিক্ষোভকারী অভি দাস বলেন, ‘চেয়ারম্যান বস্ত্রহাটের উন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল টাকা নিয়েছিলেন কিন্তু উন্নয়ন হয়নি। তাই আমরা টাকা ফেরত চাই।’

