

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার।

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন ছিল, পূর্বতন সরকারের চালু করা বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প বা ভাতাগুলির ভবিষ্যৎ কী হবে? সেই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবার মানবিক প্রকল্পের ক্ষেত্রে বড় ঘোষণা করল প্রশাসন। জানা যাচ্ছে, রাজ্যে চালু থাকা বিভিন্ন ভাতার পরিমাণ এক ধাক্কায় দ্বিগুণ করে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর, আগামী জুন মাসের শুরু থেকেই এই বর্ধিত ভাতার সুবিধা পেতে শুরু করবেন উপভোক্তারা। এর আগে বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার মাসে ১০০০ টাকা করে প্রদান করত, এখন সেই টাকার অঙ্ক বাড়িয়ে সরাসরি ২০০০ টাকা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, সমাজের পিছিয়ে পড়া এবং অসহায় মানুষরা এখন থেকে প্রতি মাসে আগের তুলনায় দ্বিগুণ আর্থিক সহায়তা পাবেন। মূলত নির্বাচনী প্রচারের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থেই এই তৎপরতা শুরু করেছে নব্য সরকার।

রাজ্যের রাজনীতিতে মহিলা ভোট বরাবরই একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে। পূর্বতন তৃণমূল সরকার মহিলাদের মন জয় করতে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প চালু করেছিল, যেখানে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য দেওয়া হত। নির্বাচনের আগে বিজেপি পাল্টা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, তারা ক্ষমতায় এলে মহিলাদের ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা করবে। সরকার গঠনের পর ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে যে, জুন মাস থেকেই মহিলাদের জন্য সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হবে। তবে শুধু মহিলাদের বিশেষ ভাতাই নয়, বার্ধক্য বা প্রতিবন্ধী ভাতার মতো বাকি প্রকল্পগুলির কী হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে সংশয় ছিল, এদিনের ঘোষণায় তা পুরোপুরি কেটে গেল।

প্রশাসনিক মহলের মতে, নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তে উপকৃত হবেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষ। বিশেষ করে মুদ্রাস্ফীতির এই বাজারে যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া, সেখানে ১০০০ টাকার পরিবর্তে ২০০০ টাকা হাতে পেলে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা বা বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের অনেকটা সুরাহা হবে। জুন মাস থেকেই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এই বাড়তি টাকা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই নবান্ন এবং সংশ্লিষ্ট দফতরগুলি কাজ শুরু করে দিয়েছে। উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষার ভারসাম্য বজায় রেখে নতুন সরকার যে এক দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় এগোচ্ছে, এই ঘোষণা তারই এক জোরালো প্রমাণ।




