Suvendu Adhikari Convoy Reduced: নিজের কনভয়ের সংখ্যা কমালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, বাসে চেপে শপথ নিতে গেলেন বিধায়করা ,বিকল্প ব্যবস্থার কথাও জানালেন প্রধানমন্ত্রী ,ঘোষণা হল ‘No Vehicle Day’-র

0
6

আজ বিধানসভায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। বিধায়ক হিসাবে শপথ গ্রহণের আগেই বড় সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর । প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেখানো পথেই হাঁটছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী মোদী যেমন নিজের কনভয়ের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছেন, সেই পথেই হাঁটছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও।

জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি সাশ্রয় করতে নিজের কনভয়ের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন। তাঁর দেখাদেখি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও নিজের কনভয়ের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আজ বিধানসভায় শপথ নেওয়ার আগে থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

শুধু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন, জ্বালানি বাঁচাতে আজ বিধানসভায় বিজেপি বিধায়করাও বাসে চড়ে আসেন শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে।
আগামিদিনে মন্ত্রিসভা গঠিত হওয়ার পরও জ্বালানি বাঁচাতে নেতা-মন্ত্রীরা এই পথে হাঁটবেন বলেই মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই উত্তর প্রদেশে সপ্তাহে একদিন
ঘোষণা করা হয়েছে। একই পথে হাঁটতে পারে পশ্চিমবঙ্গও।

অন্যদিকে, আজ বিধানসভায় বিধায়কদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। প্রথমেই শপথ নেবেন বিজেপি বিধায়ক তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরের বিধায়ক হিসাবে তিনি শপথ নেবেন। শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়।

আজ ও বৃহস্পতিবার-দুইদিন ধরে বিধানসভায় শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান চলবে। মোট ২৯০ জন জয়ী বিধায়ক শপথ গ্রহণ করবেন। জানা গিয়েছে, আজ শপথ নেবেন উত্তরের ৯ জেলা, নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণার বিধায়করা।  আগামিকাল শপথ নেবেন বাকি ১১ জেলার বিধায়করা।

প্রসঙ্গত ,পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার আবহে দেশবাসীকে কৃচ্ছ্রসাধনের বার্তা দিয়েছিলেন। এ বার জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা দিয়ে নিজের কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত স্পেশ্যাল প্রোটেকশন গ্রুপ বা এসপিজি-র কাছে ইতিমধ্যেই এই মর্মে নির্দেশ গিয়েছে।

এসপিজি-র কাছে পাঠানো নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত রেখেই কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমাতে হবে। পেট্রল-ডিজ়েলচালিত গাড়ির পরিবর্তে বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের উপর জোর দিতে হবে। তবে তার জন্য নতুন কোনও গাড়ি এখন কেনা যাবে না বলে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের একটি সূত্রের দাবি, নির্দেশ হাতে পাওয়ার পরেই তা বাস্তবায়িত করার কাজ শুরু করে দিয়েছে এসপিজি। অন্য একটি সূত্রের দাবি, বিজেপিশাসিত বেশ কয়েকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও মোদীর পথে হেঁটে তাঁদের কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমাতে পারেন।

পেট্রল, ডিজ়েল, রান্নার গ্যাস, ভোজ্য তেল, সোনা, তামা, রাসায়নিক সার— এই পণ্যগুলির একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় ভারতকে। টান পড়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাভান্ডারে। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার মাঝে এই পণ্যগুলি সংযমী হয়ে ব্যবহারের অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী। রবিবার তেলঙ্গানার সেকেন্দরাবাদের এক সভাতে মোদীর মুখে প্রথম ওই আর্জির কথা শোনা গিয়েছিল। সোমবার গুজরাতের ভদোদরায় এক সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী ফের বলেন, ‘‘বিশ্ব দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার এক পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা কোভিড-১৯ অতিমারি দিয়ে শুরু হয়েছিল এবং এখন পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের কারণে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।’’

এবার জ্বালানি সঙ্কট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রথম পদক্ষেপ উত্তর প্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) সরকারের। ঘোষণা করা হল ‘নো ভেহিকেল ডে’ (No Vehicle Day)। 

উত্তর প্রদেশ সরকারের তরফে সাপ্তাহিক নো ভেহিকেল ডে ঘোষণা করা হয়েছে। কী হবে তাতে? মন্ত্রী থেকে শুরু করে সাংসদ, বিধায়ক, অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের সপ্তাহে নির্দিষ্ট একদিন পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বা গণপরিবহন ব্যবহার করতে হবে। তারা নিজস্ব গাড়ি বা কনভয় ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে ব্যবহার করা যাবে ইলেকট্রিক গাড়ি। জোর দেওয়া হয়েছে সাইক্লিং এবং কার পুলিং-এর উপরে।

প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ওয়ার্ক ফ্রম হোমের কথা বলেছেন। সেই অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও নির্দেশ দিয়েছেন যে উত্তর প্রদেশ সরকারের সচিবালয় এবং ডিরেক্টরেট-এর যাবতীয় মিটিংয়ের ৫০ শতাংশ অনলাইনে করতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রী নিজে কনভয়ের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন। অন্যান্য মন্ত্রী এবং আমলাদের কনভয় এবং গাড়ির সংখ্যাও ৫০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন যোগী।

মোদীর এই আর্জির পর সোমবার কেন্দ্রকে খোঁচা দেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “মোদীজি গতকাল (রবিবার) সাধারণ মানুষের কাছে ত্যাগের আর্জি জানিয়েছেন— সোনা কিনবেন না, বিদেশভ্রমণ করবেন না, পেট্রল কম খরচ করুন, সার ও রান্নার তেলের ব্যবহার কমান, মেট্রোয় যাতায়াত করুন এবং বাড়ি থেকে কাজ করুন। এগুলো কোনও পরামর্শ নয়, এগুলো ব্যর্থতার প্রমাণ।”

Previous article‘না খাউঙ্গা, না খানে দুঙ্গা’,দায়িত্ব নিয়েই রেশন নিয়ে মোদীর সুরে হুঁশিয়ারি দিলেন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here