

রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) তুলনায় অনেক সোজাসাপ্টা। বরাবরই সোজাসাপ্টা কথা বলেন। সোমবার নবান্নে পৌঁছে মুখ্য সচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা, স্বরাষ্ট্র সচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ ও সব দফতরের সচিব ও প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে নিয়ে বৈঠকে স্পষ্ট করে দিলেন, ‘আমাকে খুশি করতে আর ‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণা’ লিখতে হবে না। ‘অনুপ্রেরণা’ বন্ধ করে কাজের কাজ হোক। এতদিন সরকার ছিল ফর দ্য পার্টি। আপনারাও অনেকে হ্যাঁ-তে হ্যাঁ মিলিয়েছেন। এবার সরকার হবে ফর দ্য পিপল। হ্যাঁ-তে হ্যাঁ বন্ধ করে, রাজ্যের উপকারের জন্য স্পষ্ট মতামত জানাবেন।’

নতুন সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেগুলি সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময়েই তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার আয়ুষ্মান প্রকল্পে যুক্ত হচ্ছে। তাহলে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের কী হবে? এতদিন ধরে রাজ্যে যে সামাজিক প্রকল্পগুলি চলে এসেছে, সেগুলি কোথায় দাঁড়াবে?

এ দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে আগে থেকে চালু থাকা সামাজিক প্রকল্প বন্ধ হচ্ছে না। তিনি বলেন, ৩০ বছর আগের হোক বা ১০ বছর আগের হোক, কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ করছি না। চালু থাকা কোনও সামাজিক কল্যাণকর কর্মসূচি এই সরকার বন্ধ করছে না। তবে গোটা প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সঙ্গে চলবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সব বেনিফিশিয়ারি ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে হবে বলে জানিয়েছে তিনি। কোনও মৃত ব্যক্তি বা কোনও অ-ভারতীয় ব্যক্তি ভারতের কোনও প্রদেশ বা জাতীয় সরকারের সুবিধা পাবেন না বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই সরকার আমিত্বে চলে না, নীতিতে চলে।’ তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’-বার্তার প্রসঙ্গ তুলে জানিয়েছেন, রাজ্যের নতুন সরকার মানুষের আস্থা, নিরাপত্তা এবং উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।

এদিনের বৈঠকে যে ১০টি বিষয় মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সচিবদের পরিষ্কার করে জানিয়েছেন তা হল—
১) একটা গ্রুপ (সম্ভবত হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ বা ই-মেল গ্রুপ) তৈরি করবেন, মুখ্য সচিব-সহ সব দফতরের সচিবরা সেখানে থাকবেন। মুখ্যমন্ত্রীও থাকবেন।
২) সরকারি অনুষ্ঠানে মিডিয়ার সামনে অফিসারদের বকাবকি করা, নাম ধরে তুমি করে ডাকার সংস্কৃতিতে আমি বিশ্বাসী নই। অফিসারদের প্রাপ্য মর্যাদা দিয়ে সরকার চলবে। আবার সব আমলার দায়বদ্ধতাও সুনিশ্চিত থাকবে। কেউ ভুল করলে তাঁর কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হবে বা তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩) গত পনেরো বছরে আপনাদের মধ্যে অনেকেই অনেক ভুল করেছেন। এটা ঠিক, কিছু ক্ষেত্রে করণীয় কিছু ছিল না। যিনি দায়িত্বে ছিলেন তিনিই এই সব কিছু করিয়েছেন। কিন্তু আপনাদেরও কখনও কখনও অন্যায় দেখলে ‘না’ বলা উচিত ছিল।
৪) প্রথম দিনই স্পষ্ট করে বলছি, কিছু বলার থাকলে আমাকে সরাসরি বলবেন। কোনও পরামর্শ থাকলে নির্ভয়ে দেবেন। আমি শুনব। কারও কোনও সমস্যা হলে আমাকে বলবেন। ইতস্তত করবেন না।
৫) আমাকে খুশি করতে কথায় কথায় ‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণা’ শব্দটি ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। মানুষকে পরিষেবা ও সুরক্ষা দিতে কাজ হবে, আমার অনুপ্রেরণায় নয়।
৬) অর্থের অপচয় যেন না হয়। যেখানে কাজ করার দরকার কাজ করুন, খরচ করুন, তাতে বাধা নেই।
৭) মুখ্য সচিবকেও আপনাদের সুবিধা অসুবিধার কথা জানাতে পারেন। আমি তো আছিই।
৮) কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পগুলো বন্ধ ছিল। দ্রুত শুরু করতে পারেন। সেন্ট্রাল ফান্ড যাতে তাড়াতাড়ি রিলিজ হয় সেটাও আমরা দেখব। এখন কথা কম কাজ বেশি।

৯) আমাদের সংকল্প পত্রে যা যা বলা হয়েছে সেগুলির এক এক করে বাস্তবায়ন করতেই হবে। মনে রাখবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সেই কথাই বলেছেন।
১০) অযথা ভয় না পেয়ে কুণ্ঠিত না থেকে কাজ করে যান। যাঁরা কাজ করবেন আমি তাঁদের সঙ্গে সর্বদা রয়েছি।



